পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক গতকাল নবান্নে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম বৈঠকে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ বন্ধে বিএসএফ তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। প্রথম দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিএসএফ-কে আমরা জমি হস্তান্তরে অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেয়া হলো। সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে তুলে দেয়া হবে। এই জমি হস্তান্তর পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস আমলে আটকে রাখা হয়েছিল। আর সেটাকেই নির্বাচনে ইস্যু করেছিল বিজেপি। আর তাই মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার পাঁচ সদস্য দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ অধিকারী, অশোক কীর্তনিয়া ও ক্ষুদিরাম টুডু। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা এবং প্রশাসনিক আধিকারিকেরাও উপস্থিত ছিলেন।
বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর ছাড়াও এদিনের বৈঠকে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করা, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্যকে যুক্ত করা, ভারতীয় ন্যায়সংহিতা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা জনগণনার কাজ শুরু করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকের পরে শুভেন্দু বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরজি কর-সহ নারী নির্যাতনের বিষয়, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিষয়, বেতন কমিশন, এরিয়ার, ডিএ’র বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের কাজও হয়ে যাবে বলে জানা গেছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে যেসব সামাজিক প্রকল্প চালু রয়েছে, তা বন্ধ হচ্ছে না। রাজ্যবাসী আগে যে সব সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পেতেন, এখনো তা পাবেন। তবে কারা পাবেন, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি জানান, মৃত বা ভারতীয় নন, এমন কেউ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তার মন্ত্রিসভা চলবে সুশাসন এবং সুরক্ষার পথে। একই সঙ্গে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ যে পথে এগোচ্ছে, পশ্চিমবাংলাতেও সেই পথেই এগোবে বলে বলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই সরকার ‘ফর দ্য পার্টি, বাই দ্য পার্টি, অফ দ্য পার্টি’ ব্যবস্থা তুলে দিয়ে বাবাসাহেব অম্বেদকরের ‘বাই দ্য পিপল, অফ দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল’ ভিত্তিতে চলবে।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী এদিন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠকে সিন্ডিকেটবাজ এবং গরু পাচার চক্র পুরোপুরি ভেঙে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বেআইনি গরুর হাট কোনোভাবেই চলতে দেয়া যাবে না। এই আবহে জেলায় জেলায় নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে গরু পাচারকাণ্ডে কেন্দ্রীয় এজেন্সি গ্রেপ্তার করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে।
সোমবার রাজ্য সরকারের তরফে নির্দেশিকা জারি হয়েছে, ষাটোর্ধ্ব আমলাদের আর দায়িত্বে রাখা হবে না। অবসরের ৬০ বছর বয়সের উপর থাকা ব্যক্তিরা তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময়ে বিভিন্ন সরকারি কমিটি, একাধিক বোর্ডের মাথায় দায়িত্বে ছিলেন। একাধিক কমিটিতে বিভিন্ন দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন তারা। সেইসব ব্যক্তিদের আর দায়িত্বে রাখা হচ্ছে না।

MD Khan
২ মাস আগেকাঁটাতারে বেড়া দিলে ফেনসিডিল আসা বন্ধ হবে। চোরাচালান বন্ধ হবে।
হাসিনা সহ সন্ত্রাসীদের আমাদের হাতে তুলে দিলে সম্পর্ক আরো ভালো হবে।