ফের বার্সেলোনার ঘাড়েই নিঃশ্বাস রিয়ালের

ফের বার্সেলোনার ঘাড়েই নিঃশ্বাস রিয়ালের

ফন্ট সাইজ:

কার্ড নিষেধাজ্ঞা ও চোটের কারণে ভুগছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে রোববার দেখা গেল একই দৃশ্য। শেষ দিকে আলভারো কারেরাসের পর অল হোয়াইটদের হয়ে আরেকটি গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২-০ গোলের জয়ে চূড়ায় থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ফের ব্যবধান কমিয়ে আনে রিয়াল। ম্যাচের পর এমবাপ্পের মধ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ছায়া খুঁজে পাচ্ছেন কোচ আলভারো আরবেলোয়া।

লীগের চলতি মৌসুমে এমবাপ্পের গোল হলো ২৩টি। দুইয়ে থাকা মায়োর্কার ভেদাত মুরিকির গোল ১৫টি। ফরাসি শিষ্যের এমন দুর্দান্ত ছুটে চলা দেখে রোনালদোকে মনে পড়ছে আরবেলোয়ার। রিয়ালের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা আরবেলোয়া দু’টি ক্লাব ঘুরে ২০০৯-এ যোগ দেন অল হোয়াইটদের ডেরায়। সে বছর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে রেকর্ড ফিতে রিয়ালে আসেন রোনালদোও। পর্তুগিজ মহাতারকার মাহাত্ম্য খুব কাছ থেকেই দেখেছেন আরবেলোয়া। সাবেক স্প্যানিশ ডিফেন্ডার ভেবেছিলেন, রোনালদোর মতো কাউকে আর কখনও হয়তো দেখা যাবে না। তবে তার ধারণা, দলের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ডকে কেউ ছুঁতে পারলে সেটি হবে এমবাপ্পেই। ম্যাচ শেষে আরবেলোয়া বলেন, ‘কিলিয়ানকে বর্ণনা করার মতো ভাষা নেই। আমরা ভেবেছিলাম ক্রিস্টিয়ানোর মতো আর কাউকে দেখা যাবে না। তবে সে (এমবাপ্পে) একই পথেই এগোচ্ছে।’

৪৩ বছর বয়সী আরবেলোয়া আরও বলেন, ‘আগেও বলেছি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এখানে যা অর্জন করেছে সেসব বহির্জাগতিক। বলা যায়, দুনিয়ার বাইরের কিছু এবং তেমন কিছু করা প্রায় অসম্ভব। কেউ হয়তো ধারেকাছেও যেতে পারবে না।’ এরপরই শিষ্যের কথা টেনে তিনি বলেন, ‘তবে ক্রিস্টিয়ানোর পথে এগোনোর সব উপকরণই কিলিয়ানের মধ্যে আছে। কে জানে, হয়তো তাকে একদিন তাকে ছাড়িয়েও যেতে পারে! কাজটি খুব কঠিন। তবে কেউ যদি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, সেটি কিলিয়ান এমবাপ্পেই।’

২৩ ম্যাচে ১৮ জয়, ৩ ড্র ও ২ হারে ৫৭ পয়েন্টে তালিকার দুইয়েই থাকলো রিয়াল। সমান ম্যাচে এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে চূড়ায় বার্সা। লীগে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে কাতালানরা পা হড়কালে এবং রিয়াল জয় তুলে নিতে পারলে, ফের শীর্ষস্থান দখলে নেবে অল হোয়াইটরা। তবে এদিন জয় পেতে ঘাম ঝড়াতে হয় আরবেলোয়ার শিষ্যদের।

কার্ড নিষেধাজ্ঞায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ছিলেন মাঠের বাইরে। চোটের কারণে নামতে পারেননি জুড বেলিংহ্যাম ও রদ্রিগো। রক্ষণে চোটের থাবা তো আছেই। এমন অবস্থায় ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে বিরতির আগে উল্লেখযোগ্য তেমন কিছু করতে পারেনি রিয়াল। মাঠে ফিরে ৬৫তম মিনিটে অবশেষে ডেডলক ভাঙেন কারেরাস। বাঁ প্রান্ত দিয়ে প্রতিপক্ষের দু’জনকে কাটিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে যান স্প্যানিশ তারকা। আরও দু’জনকে বোকা বানিয়ে কোনাকুনি শটে খুঁজে নেন জালও। যোগ করা প্রথম মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে ব্রাহিম দিয়াজের ক্রসে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন এমবাপ্পে। 
পরবর্তী ম্যাচে আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারি রিয়াল সোসিয়েদাদকে বার্নাব্যুতে আমন্ত্রণ জানাবে মাদ্রিদের ক্লাবটি। এরপর রয়েছে চ্যাম্পিয়নস লীগের প্লে-অফ পর্ব।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন