সংসদের বাইরে নেতাকর্মী স্বজনদের উচ্ছ্বাস

সংসদের বাইরে নেতাকর্মী স্বজনদের উচ্ছ্বাস

ফন্ট সাইজ:

দীর্ঘ বছর পর ভোটের মাধ্যমে সংসদে যাচ্ছেন জনতার প্রতিনিধিরা। গতকাল প্রকৃত ভোটে নির্বাচীত হওয়া প্রতিনিধিরা শপথ নেন। শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন নেতাকর্মী-স্বজনরা। সমর্থকরা বলছেন- এটা নতুন বাংলাদেশের সূচনালগ্ন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার শপথ গ্রহণের দিনটিকে ঘিরে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সকাল থেকেই তৈরি হয় ভিন্ন এক আবহ। তবে শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে আশেপাশের এলাকাগুলোয় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।


মঙ্গলবার সকাল থেকেই ছোট ছোট দলে জড়ো হতে শুরু করেন নেতাকর্মী ও স্বজনরা। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মণিপুর গেট, দক্ষিণ প্লাজা ও আশপাশের সড়কে মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো হয়ে ওঠে। কারও হাতে ফুলের তোড়া, কারও হাতে ব্যানার। কেউ আবার মোবাইল ফোনে লাইভ করছেন, কেউ ছবি তুলছেন স্মরণীয় মুহূর্ত ধরে রাখার জন্য। অনেকেই পোশাকে ধারণ করেন দলীয় পরিচিতি। কঠোর ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নজরদারি। তবুও পরিবেশে ছিল উৎসবের আমেজ। স্লোগান খুব একটা না থাকলেও ছিল হাসি, করতালি আর শুভেচ্ছা বিনিময়ের দৃশ্য। বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অবস্থান নেন।


কুমিল্লা থেকে আসা আলী আজগর বলেন, আমরা গণতন্ত্র ফেরানোর জন্য দীর্ঘদিন লড়াই করেছি। ১৮’র নির্বাচনের সময় ১৩ মাস জেল খেটেছি। দেশে গণতন্ত্র এসেছে। ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। এই আনন্দ-মুহূর্ত উপভোগ করতে এসেছি। যাকে নেতা মেনে দেশের জন্য লড়াই করেছি। কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) থেকে জাকারিয়া তাহের সুমন ভাই শপথ নিচ্ছেন, শপথ নিচ্ছেন মন্ত্রী হিসেবে। এটা আমাদের বিজয়।
দিনাজপুর থেকে এসেছেন আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা একটি ভাড়া করা বাসে এসেছি। আমরা যারা এসেছি আমরা বিএনপি’র সমর্থক, ক্ষুদ্রকর্মী। আজ আমাদের জন্য ঐতিহাসিক দিন। আমি এটাকে নেতার বা বিএনপি’র শপথ হিসেবে প্রাধান্য দিচ্ছি না। এটা দেশের শপথ। এটা আমাদের জীবন বাজি রেখে আন্দোলনের ধারাবাহিকতার ফল। তিনি বলেন, আমরা তৃণমূল কর্মীরা বিশ্বাস করি তারেক রহমান দল, মত, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ এ সবকে তোয়াক্কা না করে দেশের জন্য কাজ করবেন।


সংসদে বিরোধী দলের আসন অলঙ্কৃত করবে জামায়াত। এই দলটির সমর্থন রংপুর থেকে আগত মাদ্রাসা শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ইসলামের ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার শিক্ষা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত হবে। আমাদের নেতারা সেই মূল্যবোধ নিয়েই শপথ নিয়েছেন। সত্যের পক্ষে ন্যায়ের পক্ষে দেশ পরিচালনা করলে আমরা পাশে থাকবো। আমরা বিরোধী দল হয়েও সরকারের কাঁধে কাঁধ রেখে চলতে চাই। এই শপথ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়- এটা আল্লাহ্‌র কাছে দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার। আমরা চাই তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিন। আমার অনুরোধ থাকবে ’২৪-এর শহীদদের রক্তের উপর আপনারা দাঁড়িয়ে শপথ নিচ্ছেন দয়া করে এটা ভুলবেন না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওয়াসফিয়া নাজনিন বলেন, আমরা চাই বর্তমান সংসদে সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে কথা হোক। দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান- এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা হোক। অনেক বাধা পেরিয়ে আজকের এই দিন। ছাত্রদের কাতার থেকেও অনেক নেতা সংসদে গেছেন। তারা তরুণ প্রজন্মের আইকন। তাদের কাছেও আমাদের প্রত্যাশা ব্যাপক। একটা সুন্দর বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলো।


ফেনী থেকে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, আমি আমার বাবার চিকিৎসার জন্য ঢাকা এসেছি। ভাবলাম একটাবার ঘুরে যাই। এখানে এসে এলাকার অনেকের সঙ্গেই দেখা। ইতিহাসের সাক্ষী হলাম নতুন বাংলাদেশের সাক্ষী হলাম।
সংসদ ভবন এলাকায় শুধু ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরাই নন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরও দেখা যায়। কেউ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে, কেউ সম্পর্ক বজায় রাখতে- রাজনৈতিক ভিন্নতা সত্ত্বেও শপথের দিনে ছিল এক ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ। ডিজিটাল স্ক্রিনে নেতাদের যখন দেখছিলেন তারা জয়ধ্বনি দিচ্ছিলেন। মোবাইলে সেলফির মাধ্যমে ধারণ করছিলেন স্মরণীয় মুহূর্তটি।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন