ফিফটিকে কীভাবে সেঞ্চুরিতে পরিণত করতে হয়, সেটা নাজমুল হোসেন শান্ত ভালো করেই জানেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বেশির ভাগ সময় নার্ভাস নাইনটিতে কাটা পড়লেও শান্ত ব্যতিক্রম। টেস্টে তার ফিফটির চেয়ে সেঞ্চুরির সংখ্যাই বেশি। রেকর্ডে কিংবদন্তি স্যার ডন ব্র্যাডম্যান, জর্জ হেডলিদের কাতারে চলে এসেছেন শান্ত। মিরপুরে গতকাল শুরু হওয়া পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে এটা তার নবম সেঞ্চুরি। বিপরীতে তার ফিফটি ৫। বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটারের ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তরের হার ৬৪.২৯ শতাংশ। এই তালিকায় সবার উপরে স্যার ডন ব্র্যাডম্যান। ২৯ সেঞ্চুরি ও ১৩ ফিফটি করেছেন। ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তরের হার ৬৯.০৫।
শান্ত ও ব্র্যাডম্যানের মাঝে যিনি আছেন, তার নামের সঙ্গেও রয়েছে ‘ব্র্যাডম্যান’ তকমা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি জর্জ হেডলির ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তরের হার ৬৬.৬৭ শতাংশ। তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন ‘ব্ল্যাক ব্র্যাডম্যান’ নামে। শান্ত’র পর এই তালিকায় থাকা দু’জনই ভারতীয়। শুবমান গিল ও শিখর ধাওয়ানের ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তরের হার ৫৮.৩৩ ও ৫৫.২৬ শতাংশ। মিরপুরে এদিন টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। যখন শান্ত ব্যাটিংয়ে নেমেছেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর ১০.১ ওভারে ২ উইকেটে ৩১ রান। মুমিনুল হকের সঙ্গে মিলে ধীরে সুস্থে এগিয়েছেন শান্ত। ভালো বলকে সমীহ করেছেন।
বাজে বল পেয়ে সেটাকে বাউন্ডারিতে পরিণত করেছেন দু’জনই (শান্ত-মুমিনুল)। ১২৯ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি তুলে নেন। ৫৩তম ওভারের প্রথম বলে মোহাম্মদ আব্বাসকে কাভার দিয়ে চার মেরে তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর হেলমেট খুলে শূন্যে উড়েছেন শান্ত। বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটার এরপর করেছেন তার সেই চিরচেনা চুমু উদ্যাপন। সেঞ্চুরি পূর্ণ করার ঠিক পরের বলেই আউট হয়েছেন শান্ত।
৫৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলে তাকে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলেন আব্বাস। ১৩০ বলে ১২ চার ও ২ ছক্কায় ১০১ রান করেছেন শান্ত। তার দুই টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তি রয়েছে। ২০২৩ সালে মিরপুরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৪৬ ও ১২৪ রান করেছিলেন। পরের জোড়া সেঞ্চুরি করেছেন ২ বছর পর। ২০২৫ সালে গড়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৪৮ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্টেই তিনি ম্যাচসেরা হয়েছিলেন।
