ইনুর মামলায় হাই-প্রোফাইল সাক্ষী আনতে ব্যর্থ হয়ে নতুন তালিকা দিলো আসামিপক্ষ

ফন্ট সাইজ:

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর পক্ষে সাফাই সাক্ষী উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিলো আজ। এদিন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সাক্ষ্য দেয়ার জন্য দিন ধার্য ছিলো। কিন্তু ট্রাইব্যুনালকে ইনুর আইনজীবীরা জানায়, সাক্ষী এম সাখাওয়াত হোসেন এ মামলায় হাসানুল হক ইনুর পক্ষে সাক্ষ্য দিবেন না। তাই তারা নতুন করে ৩জন সাক্ষীর নাম উপস্থাপন করেন। পরে এ তালিকায় থাকা একজন বিদেশি নাগরিকের নাম না মঞ্জুর করে, বাকি দুজনকে ডিফেন্সের সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে মামলায় আসামিপক্ষের সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২২শে ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিকে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অঙ্গসংগঠনের আরও ৬ নেতার বিরুদ্ধে বিচারকাজ আজ বিচার কাজ শুরু হয়েছে। এদিন, রাষ্ট্রপক্ষ ট্রাইব্যুনালে তাদের লিখিত সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করে। জুলাই গনঅভ্যুত্থান চলাকালে ১৯শে জুলাই মিরপুরে শহীদ হওয়া আসিফ ইকবালের বাবা এম এ রাজ্জাক রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী হিসেবে আংশিক জবানবন্দি দেন। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, আন্দোলন চলাকালে গত ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় তার ছেলে আসিফকে হত্যা করা হয়। এদিন, সে জুম্মার নামাজ পড়ে মিরপুরের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলো। এসময় কয়েক মিনিট পরে প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য গ্রহণ মুলতবি করে ২২শে ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

শুনানি শেষ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, হাসানুল হক ইনুর এই মামলায় একজনই আসামী। আজকে সাফাই সাক্ষী গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। উনি সাফাই সাক্ষী তিনজনকে মান্য করেছিলেন। তার মধ্যে প্রথম যেই সাক্ষী ছিলেন তিনি হচ্ছেন বিগ্রেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার এবং বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা। উনারা অনারেবল ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছেন যে এই সাক্ষীদেরকে হাজির করতে উনি ব্যর্থ হয়েছেন। এজন্য ওই সাক্ষ্য উনারা দিবেন না। পরিবর্তে আরও তিনজন ব্যক্তির নাম দিয়ে এবং দুটো ডকুমেন্ট এক্সিবিট করার আবেদন করেন। অর্থাৎ দাখিল করার আবেদন করেছিলেন এবং আট সপ্তাহের জন্য বিচার কাজ মুলতবির চেয়ে আবেদন করেছিলেন। অনারেবল ট্রাইব্যুনাল উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছেন। শোনার পর ন্যায় বিচারের স্বার্থে উনাদের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২২শে ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন। পরবর্তীতে উনারা যে তিনজন সাক্ষীর তালিকা দিয়েছিলেন একজন বিদেশীসহ, সেই বিদেশী বাদে বাকি দুইজন সাক্ষীর হাজিরা দাখিল করার... হাজির... মানে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন। সেই সাথে নতুন যে দুটো ডকুমেন্ট উনারা দিতে চেয়েছেন, সেটা দেয়ার জন্য দিন ধার্য করেছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন