পাকিস্তান নয় নিজেদের পেস বোলিংকে এগিয়ে রাখছেন শান্ত

পাকিস্তান নয় নিজেদের পেস বোলিংকে এগিয়ে রাখছেন শান্ত

ফন্ট সাইজ:

গতি আর বাউন্স দিয়ে একসময় বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করতো পাকিস্তান। প্রতিপক্ষের জন্য তাদের পেস আক্রমণ ছিল রীতিমতো এক আতঙ্ক। তবে সময়ের পরিক্রমায় দৃশ্যপট এখন পুরোপুরি পাল্টে গেছে। বাংলাদেশ দলের বর্তমান পেস ইউনিট এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে, ঐতিহ্যবাহী সেই পাকিস্তানের চেয়ে নিজেদের পেসারদেরই এগিয়ে রাখছেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। গতকাল আসন্ন টেস্ট সিরিজ সামনে রেখে তিনি এমন দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কথা জানান।

দেশের মাটিতে ও বিদেশের কন্ডিশনে দারুণ সাফল্য পাচ্ছেন তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানারা। আগের পাকিস্তান সফরে দুই দলের পেসারদের উইকেটের ব্যবধানই প্রমাণ করে বাংলাদেশের বড় উন্নতি। ওই সিরিজে স্বাগতিক পেসারদের দশ উইকেটের বিপরীতে সফরকারী বোলাররা শিকার করেছিলেন ২১ উইকেট। এমন পারফরম্যান্সের কারণেই অধিনায়কের কণ্ঠে এখন ভরসার সুর। শান্ত বলেন, ‘আমাদের পেস বোলাররা স্কিল অনুযায়ী অনেক উন্নত হয়েছে, যা আমাকে অধিনায়ক হিসেবে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই ব্যাটাররা যেন প্রথম ইনিংসে বড় রান সংগ্রহ করে এই চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করে।’ শুধু বোলারদের ওপর নির্ভরশীল না থেকে স্পিনার এবং পেসারদের সঠিক ব্যবহার করে এবার ম্যাচ জেতা আরও সহজ হবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করছেন দেশীয় ক্রিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

দলের পেস আক্রমণের দুর্দান্ত উত্থান নিয়ে শান্ত বলেন, ‘পাকিস্তানের পেস বোলিং ঐতিহ্যগতভাবেই খুব শক্তিশালী, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে গত কয়েক বছর ধরে আমাদের পেসাররা যেভাবে বোলিং করছে, তাতে আমি বলবো আমাদের পেস অ্যাটাক হয়তো সামান্য এগিয়ে থাকবে।’ এই উত্থানে বড় ভূমিকা রাখছেন নাহিদ রানা। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারা এই ফাস্ট বোলার দলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। পাকিস্তান সুপার লীগে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি জাত চিনিয়েছেন। নাহিদের শক্তিমত্তা ও দুর্বলতা সম্পর্কে অধিনায়কের পরিষ্কার ধারণা রয়েছে। ক্যারিয়ারের দশ টেস্টের নয়টিই তিনি খেলেছেন শান্তর নেতৃত্বে। শান্ত জানান, ‘রানাকে একদম আমি ছোট থেকে চিনি। একদমই ছোট থেকে, হয়তো কেউ তখন জানতও না ওর কথা। কাজেই আমি জানি আসলে ও কী চিন্তা করে বা ও কীভাবে আসলে নিজেকে তৈরি করে এবং ও কী চায়। এই জিনিসটা আমার জন্য একটা প্লাস পয়েন্ট। ওকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আসলে আমার কোনো সংশয় নেই।’

এর আগে পাকিস্তানের মাটিতে দ্বিতীয় টেস্টে নাহিদের আগুনঝরা স্পেল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে দারুণ সূচনার পর তাকে নিয়ে শান্ত বলেন, ‘সবশেষ যে কয়েকটি টেস্টে নাহিদ ছিল, আমি মনে করি তার সবকটিতেই সে ভালোভাবে ডেলিভার করার চেষ্টা করেছে। ও এখনও নতুন টেস্ট ক্রিকেটে। তবে খুবই রোমাঞ্চকর। একজন অধিনায়কের যখন এই ধরণের একটা এক্সপ্রেস পেস বোলার থাকে, এটা অবশ্যই একটা বাড়তি সুবিধা। আশা করব যে, এই সিরিজে ও নিজের ওই সেরাটা দেবে এবং আমি খুবই আশাবাদী, ও যে ফর্মে আছে এখন, এটা ধরে রাখবে।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন