পশ্চিমবঙ্গে সচিবালয় ফিরতে চলেছে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় বসার আগেই ইঙ্গিত দিয়েছে, নবান্নের নীল সাদায় রাঙানো বাড়িতে প্রবেশ করবেন না বিজেপির নতুন মুখ্যমন্ত্রী বা তার মন্ত্রীরা। ফলে বিজেপির হাত ধরে লাল দিঘির ধারের ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ফিরতে চলেছে সচিবালয়। রাইটার্স বিল্ডিং অবশ্য এখন পরিচিত মহাকরণ নামে।

ব্রিটিশ আমলে করণিকদের জন্য তৈরি হয়েছিল ডালহৌসি স্কোয়ারে (বর্তমানে পরিচিত বিবাদি বাগ হিসেবে) অনন্য স্থাপত্যের লাল বাড়িটি। এই ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৭৭৭ সালে এবং উদ্বোধন হয় ১৭৮০ সালে। স্থপতি টমাস লিয়নের নকশায় তৈরি এই ভবন পরবর্তীকালে সম্প্রসারিত হয়ে বিশাল প্রশাসনিক কমপ্লেক্সে পরিণত হয়েছে। এই বাড়িটির বারান্দায় তিন স্বাধীনতা সংগ্রামী তরুণ বিনয, বাদল ও দীনেশ ১৯৩০ সালের ৮ ডিসেম্বর কারা মহাপরিদর্শক এন এস সিম্পসনকে হত্যা করেছিলেন।

২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শপথগ্রহণের পর রাজভবন থেকে হেঁটে মহাকরণে গিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর থেকে মহাকরণ সচিবালয় হিসেবে কাজ করে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বসার জায়গাও এই মহাকরণে। কিন্তু দু বছরের মধ্যে হঠাৎ করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গঙ্গার ওপারে হাওড়ার মন্দিরতলা-শিবপুরে অবস্থিত ১৪ তলা এইচআরবিসি ভবনকে পরিণত করেন নতুন সচিবালয়ে। নাম দেন নবান্ন। ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহাকরণ থেকে সচিবালয়কে স্থানান্তর করেছিলেন নবান্নে।

তবে মহাকরণ তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে পরিত্যক্ত হওযার পর হেরিটেজ সৌধ হিসেবে এর সংস্কার শুরু হয়েছিল। পূর্ত দপ্তরের অধীনে ধীর গতিতে চলছিল সেই সংস্কার কাজ। নতুন সরকার মহাকরণে ফিরবে জানার পর তোড়জোড় শুরু হয়েছে দ্রুততার সঙ্গে সংস্কারের কাজ শেষ করার। তবে জানা গেছে, পুরো বিল্ডিং ব্যবহারের উপযুক্ত করা এখনই সম্ভব নয়। তবে ২৮টি ঘর তৈরি আছে, সেখানে যাবতীয় কাজ চলছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু যতদিন পুরোপুরি সংস্কারের কাজ শেষ না হচ্ছে, ততদিন প্রশাসনিক কাজ চলবে বিধানসভা ভবন থেকেই বলে জানা গিয়েছে। এজন্য বিধানসভায় তৈরি হচ্ছে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর অস্থায়ী সচিবালয়।

যতদিন না রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কার সম্পন্ন হচ্ছে, ততদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর যে ঘর বরাদ্দ, সেখানেই বসবেন বিজেপি জমানার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী। পাশের প্ল্যাটিনাম জুবিলি বিল্ডিংয়ে বসবে তার সচিবালয়। সূত্রের খবর, কিছু জরুরি ক্ষেত্রে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী বা সম্ভাব্য উপমুখ্যমন্ত্রীর ঘরকে ব্যবহার করা হতে পারে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের অংশ হিসেবে। সংস্কার কাজ শেষ হলেই সচিবালয় ফিরবে আইকনিক স্থাপত্যের রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। অঅবার গম গম করবে গোটা বিবাদি বাগ অঞ্চল।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন