ইতিহাস বদলাতে চান বাংলাদেশ কোচ

ইতিহাস বদলাতে চান বাংলাদেশ কোচ

ফন্ট সাইজ:

মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে চিরচেনা স্পিন ট্র্যাকের বদলে এবার দেখা যাচ্ছে সবুজ ঘাসের গালিচা। দীর্ঘ ২০ মাস আগের মধুর স্মৃতি। পাকিস্তানের মাটিতে তাদেরই হোয়াইটওয়াশ করেছিল টাইগাররা। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে শুক্রবার ঘরের মাঠে লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ। প্রায় সাড়ে চার বছর পর লাল বলের ক্রিকেট খেলতে বাংলাদেশে এসেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল।

দলটির বিপক্ষে দীর্ঘ বিরতির পর ঘরের মাঠে নামার আগে টাইগারদের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। পেস সহায়ক উইকেটে নতুন ইতিহাস রচনার স্বপ্নে বিভোর স্বাগতিক শিবির। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ টেস্ট খেলার পর কেটে গেছে সাড়ে পাঁচ মাস। সাদা বলের ব্যস্ততা শেষে খেলোয়াড়দের এখন লাল বলে মানিয়ে নেওয়ার বড় পরীক্ষা। এই কঠিন পরীক্ষার আগে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বেশ আশাবাদী।

তিনি বলেন, ‘ছেলেদের মানসিক দৃঢ়তা এখন অনেক ভালো, তারা এই সবুজ উইকেটেও নিজেদের প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ প্রতিপক্ষ হিসেবে সফরকারীদের সমীহ করলেও নিজেদের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট। অতীত নিয়ে ভাবতে নারাজ কোচ ফিল সিমন্স। তার নজর শুধুই সামনের দিকে। তবে আগের জয়ের আত্মবিশ্বাসকে তিনি কাজে লাগাতে চান বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়। তাই এই মিশনটি বেশ রোমাঞ্চকর হতে যাচ্ছে নিশ্চিতভাবেই। গতকাল দলের অনুশীলনের আগে সংবাদমাধ্যমে কথা বলেন টাইগার কোচ সিমন্স।

অতীত সাফল্যের চাপ ড্রেসিংরুমের বাইরে রাখতে চান তিনি। বাইরের প্রত্যাশা বেশি থাকলেও দলের ভেতর শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানান সিমন্স। মিরপুরের পিচ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে এটিকে স্পোর্টিং আখ্যা দিয়েছেন তিনি। ঘাস ছাঁটা হলেও পেসারদের জন্য উইকেটে থাকছে বাড়তি রসদ। সমপ্রতি ওয়ানডে সিরিজেও এমন উইকেটে সাফল্য পেয়েছে স্বাগতিকরা। তাই একই পথে হাঁটার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে ম্যানেজমেন্ট। তবে ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা মোটেও সহজ হবে না। তাদের দক্ষতা ও ধৈর্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে সিমন্স বলেন, ‘উইকেট যেমনই হোক, ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিয়ে লম্বা ইনিংস খেলতে হবে এবং শুরুর চাপ সামলাতে হবে।’ সিমন্সও চান ব্যাটসম্যানরা বড় স্কোর করার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামুক। সেরা দলগুলোর বিপক্ষে ভালো করতে হলে এমন কঠিন কন্ডিশনে টিকে থাকার বিকল্প নেই। ব্যাটারদের ওপর নজর রাখছেন কোচ। অন্যদিকে পিচের সবুজ রূপ দেখে উচ্ছ্বসিত সফরকারী বোলাররাও।

বাংলাদেশের মাটিতে সাধারণত স্পিন বিষে নীল হতে হয় প্রতিপক্ষকে। কিন্তু এবারের ভিন্ন চিত্র পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদিকে দারুণ আনন্দিত করেছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এই কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে উইকেট তুলে নিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। শুধু এই ম্যাচ নয়, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতার বড় স্বপ্ন দেখছে তার দল। অতীতের হার নিয়ে ভাবতে রাজি নন শাহিন।

বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকেই তাদের সমস্ত মনোযোগ। হাসান আলি, মোহাম্মদ আব্বাসদের নিয়ে গড়া তাদের পেস আক্রমণ বেশ ভয়ঙ্কর হতে পারে। পাশাপাশি নোমান আলিদের মতো স্পিনাররাও রয়েছেন স্কোয়াডে। তবে এই পেস আক্রমণের বিষয়ে তামিম শোনালেন সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, ‘পাক বোলারদের বৈচিত্র্য অনেক বেশি, তাই আমাদের ব্যাটারদের প্রতিটি বল বিচার করে খেলতে হবে।’

প্রতিপক্ষের আক্রমণাত্মক মানসিকতা ম্যাচে বাড়তি উত্তেজনা ছড়াবে। তাই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অপেক্ষায় মুখিয়ে আছেন অগণিত ক্রিকেটপ্রেমী। সাদা বলের ক্রিকেট থেকে সরাসরি টেস্টে ফেরাটা দলের জন্য একটি মানসিক পরীক্ষা। ঘরোয়া লীগ ও সীমিত ওভারের সিরিজের পর লাল বলে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে ক্রিকেটারদের সামনে। টাইগারদের কোচ বলেন, এটি শারীরিক সমস্যার চেয়ে মানসিক পরিবর্তনের বিষয়। খেলোয়াড়রা এই বাধা সহজেই টপকে যাবেন বলে তার জোরালো বিশ্বাস।

এই ম্যাচে দুই দলের সামনেই নিজেদের প্রমাণ করার সমান সুযোগ থাকছে। একদিকে স্বাগতিকদের নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি, অন্যদিকে সফরকারীদের প্রতিশোধ নেয়ার তীব্র বাসনা। ম্যাচের এই টানটান পরিস্থিতি নিয়ে সিমন্স চূড়ান্ত মত দিয়েছেন। বাংলাদেশ দলে ক্যারিবীয় হেড কোচ বলেন, ‘যারা মানসিক চাপ জয় করে সেশন ধরে ধরে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারবে, দিন শেষে তারাই হাসবে শেষ হাসি।’ সব মিলিয়ে শেরেবাংলার সবুজ গালিচায় এক শ্বাসরুদ্ধকর ক্রিকেট লড়াই দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে এখন পুরো দেশ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন