মিরপুরে সেরা ক্রিকেট খেলতে চায় পাকিস্তান

মিরপুরে সেরা ক্রিকেট খেলতে চায় পাকিস্তান

ফন্ট সাইজ:

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলা হয়নি পাকিস্তান ক্রিকেট দলের। বর্তমান চক্রে র‌্যাঙ্কিংয়ের পাঁচে আছে তারা। গত বছর ঘরের মাঠে বাংলাদেশের কাছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় পাকিস্তান দল। বছর ঘুরে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ খেলতে ঢাকায় এসেছে তারা।

আগামীকাল মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে। সিরিজ শুরুর আগে নিজেদের প্রস্তুতি ও লক্ষ্য নিয়ে গতকাল কথা বলেন পাকিস্তানের পেস তারকা শাহিন শাহ আফ্রিদি। তিনি বলেন, ‘যেকোনো দলই তাদের ঘরের মাঠে শক্ত প্রতিপক্ষ। আমাদের জন্য আসল ব্যাপার হলো কীভাবে প্রস্তুত হচ্ছি। আমরা পুরো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দিকেই তাকাচ্ছি, শুধু এই সিরিজ নয়। আমাদের লক্ষ্য, কীভাবে ফাইনালে যেতে পারি। দল হিসেবে আমরা এটা বুঝতে পারছি যে এই সংস্করণে সেরা ক্রিকেটটাই খেলতে হবে।’

মিরপুরের উইকেট নিয়েও আশাবাদী এই বাঁহাতি পেসার। সবুজ উইকেট থাকায় পেসারদের জন্য ভালো সুযোগ থাকবে বলে মনে করছেন তিনি। শাহিন শাহ বলেন, ‘অতীতে বাংলাদেশও ঘরের মাঠে সবসময় স্পিন উইকেট তৈরি করতো। স্বাগতিক দল সবসময় নিজেদের কন্ডিশনকে কাজে লাগায়। সফরকারী দলগুলো স্পিনের বিপক্ষে সংগ্রাম করতো বলে আমরাও আমাদের স্পিনারদের জন্য ঘরের মাঠের কন্ডিশন ব্যবহার করেছি। তবে এখানকার উইকেট এখন বেশ সবুজ। আমাদের বোলাররাও এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। কীভাবে এই কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে উইকেট তুলে নিতে হয় এবং পাকিস্তানকে জেতাতে হয়, তা আমাদের জানা আছে।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে পাকিস্তানের সর্বশেষ স্মৃতি সুখকর নয়। রাওয়ালপিন্ডিতে দুই ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারে পাকিস্তান। তবে ওই ঘটনা এখন অতীত শাহিদ আফ্রিদির কাছে। তিনি বলেন, ‘দেখুন, অতীত তো অতীতই। অতীতে কী হয়েছে, তা এখন মনে করতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বর্তমান ও ভবিষ্যতে তাকানো। কীভাবে আমরা নিজেদের তৈরি করছি, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা, শুধু একটা সিরিজ নয়। দল হিসেবে আমাদের লক্ষ্যটা বড়, আমরা সেটার জন্য তৈরি।’

গত বছর অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান, সেই সিরিজে তারা জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে। বাংলাদেশও গত বছর নভেম্বরে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হারায় আয়ারল্যান্ডকে। মাঝে দুই দলের ক্রিকেটাররা ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। গত মার্চে ওয়ানডে সিরিজ খেলে দুই দল। লম্বা সময় পর লাল বলের ক্রিকেটে মানিয়ে নেয়া চ্যালেঞ্জ কিনা? এমন প্রশ্নে শাহিন বলেন, ‘আমরা পাকিস্তান সুপার লীগ চলাকালীনই প্রস্তুতি নেয়ার চেষ্টা করছিলাম।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমরা পাশের উইকেটে অতিরিক্ত ওভার বোলিং করতাম। টেস্টে তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের জন্য আমরা আমাদের বোলিং ওয়ার্কলোড প্রস্তুত করছিলাম। এখানে পাওয়া চার-পাঁচ দিনে আমরা ২৫ ওভার বোলিং করার চেষ্টা করেছি, যাতে টেস্ট সংস্করণের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেয়া যায়।’ নতুন প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদকে নিয়ে শাহিন বলেন, ‘তিনি আমাদের সঙ্গে খেলেছেন এবং আমাদের শুরুর দিকের ম্যাচগুলোতে অধিনায়কও ছিলেন। সেই স্মৃতিগুলো এখনো আমাদের মনে আছে। সব কন্ডিশনে খেলোয়াড়দের কীভাবে কাজে লাগাতে হয়, তা তিনি খুব ভালো করেই জানেন। আমার মনে হয়, পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য এই মুহূর্তে এটিই সেরা বিকল্প।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন