হাম পরিস্থিতি: পরীক্ষার কিট শেষ, উদ্যোগে ঘাটতি

সহযোগীদের খবর

হাম পরিস্থিতি: পরীক্ষার কিট শেষ, উদ্যোগে ঘাটতি

ফন্ট সাইজ:

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘হাম পরিস্থিতি: পরীক্ষার কিট শেষ, উদ্যোগে ঘাটতি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে হামের পরীক্ষা হয় শুধু রাজধানীর মহাখালীতে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাগারে (ল্যাবরেটরি)। আর কোথাও এমন ব্যবস্থা নেই। কিন্তু সেই পরীক্ষাগারে হাম পরীক্ষার কিট (সরঞ্জাম) আছে মাত্র সাতটি। এসব কিট দিয়ে সর্বোচ্চ ৬৩০টি রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। বর্তমান হারে নমুনা পরীক্ষা করলে ছয় দিনের মধ্যে এগুলো শেষ হয়ে যাবে।
গত এপ্রিল থেকেই পরীক্ষাগারে কিটের সংকট প্রকট হচ্ছিল। কিন্তু জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগের ঘাটতির কারণে এখন পর্যন্ত নতুন জোগান তৈরি হয়নি। ফলে নতুন কিট না এলে ১১ মের পর দেশে হামের নমুনা পরীক্ষা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

প্রতিদিন সারা দেশ থেকে গড়ে ৩০০ রোগীর নমুনা পরীক্ষার জন্য জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাগারে আসে। এরই মধ্যে ৭ হাজার ৭৫৮টি নমুনা জমা হয়ে রয়েছে পরীক্ষার জন্য। ফলে দ্রুতই আরও সংকটময় রূপ নেবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে হামের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটিকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত একটি সমন্বিত চিকিৎসা প্রটোকল প্রস্তুত করা যেত। সেটা হলে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ও মাঠ পর্যায়ে পাঠানো যেত। পাশাপাশি ব্যাপক হারে পরীক্ষা বাড়িয়ে রোগী শনাক্ত করে তাদের আলাদা রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যেত।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে গত সোমবার পর্যন্ত ১৬ হাজার ৫২৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া আট হাজার ৭৬৯টি নমুনার বিপরীতে তিন হাজার ৭১৪টিতে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা মোট পরীক্ষার ৪২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

গতকাল মঙ্গলবার জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাম পরীক্ষার কিট দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। একটি কিটে ৯০ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা যায়। গতকাল তারা ১০৭টি নমুনা পরীক্ষা করেছেন। তাদের দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০টি নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা আছে। কিন্তু কিট স্বল্পতার কারণে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো যাচ্ছে না।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোমিনুর রহমান বলেন, কিট সংকটের কারণে নমুনা পরীক্ষা কমে গেছে। এক মাস আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে কিটের চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও তা এখনও পাওয়া যায়নি। আশা করছি, ১৫ মে নাগাদ কিট পাওয়া যাবে। বর্তমান অবশিষ্ট থাকা কিট দিয়ে আর চার থেকে পাঁচ দিন পরীক্ষা চালানো যাবে।

জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল সমকালকে বলেন, এটি স্পষ্ট অবহেলার ফল এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। কিট সংকটে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেলে সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে না এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হবে।

দ্রুত রোগ শনাক্ত, রোগী ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও আইসোলেশন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন আবু জামিল ফয়সাল। তিনি বলেন, সরকার টিকাদান কার্যক্রম চালালেও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়, সংসদে আলোচনা এবং বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার উদ্যোগ তেমন একটা দেখা যায়নি। বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে সম্পৃক্ত করা গেলে পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ হতে পারত।

তিনজন শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক শিশুর মধ্যে শ্বাসকষ্ট, অক্সিজেনের ঘাটতি, মস্তিষ্কে প্রদাহ, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, খিচুনিসহ নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে। ফলে মৃত্যুঝুঁকিও বাড়ছে। তাদের মতে, হামের পরীক্ষার সুবিধা বিকেন্দ্রীকরণ এখন জরুরি। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা চালু করা গেলে দ্রুত রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং ঢাকামুখী চাপও কমবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, দেশে নিউমোনিয়াজনিত শিশুমৃত্যুর পরিস্থিতি নতুন নয়। তবে মৃত্যুহার কমাতে দীর্ঘদিন ধরে বড় কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো নিউমোনিয়াসহ জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ সেবা দেওয়ার মতো জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সরঞ্জামের ঘাটতি আছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন সমকালকে বলেন, মহামারি মোকাবিলার মৌলিক ধাপের মধ্যে আছে ডেথ রিভিউ, সমন্বিত চিকিৎসা প্রোটোকল, ব্যাপক পরীক্ষা, আইসোলেশন ও জনসচেতনতা। কিন্তু এসব ধাপ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। তাঁর মতে, জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা, দ্রুত টিকাদান জোরদার, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানো, অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

মুশতাক হোসেন আরও বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হামের পরিস্থিতিকে উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে আখ্যা দেওয়ার পর এ নিয়ে সরকারের জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা উচিত ছিল। এতে একদিকে যেমন সঠিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যেত, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো যেত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক মঈনুল আহসান বলেন, কিট সংকটের বিষয়টি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানানো হয়েছিল এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাসও পাওয়া যায়। তাঁর মতে, হামের পরীক্ষার কিট সরবরাহ অনেকটাই স্বাস্থ্য সংস্থার ওপর নির্ভরশীল। অন্য একটি সংস্থা কিট দিতে চাইলেও প্রোটোকল না থাকায় নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কিটের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশে হামের কিট সরবরাহের দায়িত্বে থাকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা ডা. চিরঞ্জীব গতকাল বেলা ১১টায় মোবাইল ফোনে সমকালকে বলেন, 'এ বিষয়ে এভাবে বক্তব্য দেওয়া সম্ভব নয়। আপনি ইমেইলে প্রশ্ন পাঠান, আমাদের মিডিয়া বিভাগে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবে।' এর পরই তাদের ইমেইল দেওয়া হয়। তবে ১০ ঘণ্টা পার হলেও ইমেইলের জবাব পাওয়া যায়নি। মাঝে তাঁর মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল গতকাল মঙ্গলবার সমকালকে বলেন, 'কিট সংকট সমাধানে চেষ্টা করা হচ্ছে। ১৫ মে নয়, আমরা আরও দ্রুত টিকা পাব বলে আশা করছি। হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি চলমান রয়েছে। আইসিইউ সংকট নিরসনে কাজ চলছে। হামের আলাদা ইউনিট করে রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। অস্থায়ী স্থায়ী হাসপাতালও চালু করা হয়েছে।'

প্রথম আলো

‘আবারও দেশে হাম পরীক্ষার কিটসংকট’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, হাম শনাক্তের পরীক্ষা আবার সংকটে পড়েছে। কিট–স্বল্পতার কারণে পর্যাপ্ত নমুনা পরীক্ষা করতে পারছে না সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান। সারা দেশ থেকে আসা কয়েক হাজার নমুনা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাগারে জমা হয়েছে।

দেশে হাম শনাক্তের পরীক্ষা হয় শুধু জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ল্যাবরেটরিতে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালীর এই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জানা যায়, কিটসংকটের কারণে তারা পর্যাপ্ত নমুনা পরীক্ষা করতে পারছে না।

জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. মোমিনুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা দৈনিক এক শর মতো নমুনা পরীক্ষা করতে পারছি।’ এর বেশি তিনি আর কিছু বলতে চাননি।

কিটসংকটের ব্যাপারে বক্তব্য জানার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন ধরেননি। তাঁকে খুদে বার্তাও পাঠানো হয়। তিনি কোনো উত্তর দেননি।

জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ল্যাবরেটরি সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের সরকারি হাসপাতাল থেকে আসা প্রায় পাঁচ হাজার রোগীর নমুনা জমা হয়েছে। কিটসংকটের কারণে পরীক্ষা কম হচ্ছে। কিট আসতে আসতে সংগৃহীত নমুনার পরিমাণ আরও বাড়বে।

প্রায় সারা দেশে হাম ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে হাম শনাক্তের পরীক্ষার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বা চাহিদা বেড়েছে। হামের মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে যেসব শিশুর তাদের মা–বাবা নিশ্চিত হওয়ার জন্য হাম পরীক্ষা করাতে চান। যেসব শিশু মারা যাচ্ছে, তারা হামে নাকি অন্য কোনো কারণে মারা যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্যও এই পরীক্ষা দরকার। কোনো কোনো হাসপাতাল ছুটি দেওয়ার আগে নিশ্চিত হতে চায় রোগীর হাম কি না। পরীক্ষার ফলাফল না পাওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে রোগীর হাসপাতালে স্থায়িত্বকাল দীর্ঘ হয়।

গত মাসে একই সমস্যায় পড়েছিল স্বাস্থ্য বিভাগ তথা জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান। ১৯ এপ্রিল জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. মোমিনুর রহমান প্রথম আলোকে বলেছিলেন, হাম শনাক্তের কিট সরবরাহ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সরবরাহ করা কিট ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে পাওয়া কিট এই ল্যাবরেটরিতে ব্যবহার করা হয় না। একটি কিট দিয়ে ৯০টি নমুনা পরীক্ষা করা যায়। এক দিনে ৩০০ নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের আছে।

জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৬০টি কিট সরবরাহ করেছিল। ৩০ এপ্রিল বা ১ মে আরও ১০০ কিট সরবরাহ করার কথা বলেছিল। কিন্তু করতে পারেনি।

গতকাল মঙ্গলবার এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ১০০ কিট দেড় থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যাবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওই কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয় দিল্লি থেকে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ৩০টি হাম শনাক্তের কিট দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এই কিট দেশে আসবে।

হাম পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন, এমন একাধিক জনস্বাস্থ্যবিদ প্রথম আলোকে বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে কিট সংগ্রহে বা উন্নয়ন সহযোগীদের পক্ষ থেকে কিট সরবরাহে আন্তরিকতার ঘাটতি আছে। এ জরুরি সময়ে দ্রুততম সময়ে কিট সংগ্রহ বা সরবরাহ করা উচিত ছিল।

কিটের সংকট দেখা দিতে পারে, এই উপলব্ধি থেকে জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে চিঠি দিয়েছিল। সেই চিঠিতে তারা ৬০টি কিট চেয়েছিল। সেই কিট তারা পেয়েছিল ১৯ এপ্রিল।

এ ব্যাপারে জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘হামের এই প্রাদুর্ভাবের সময় রোগ শনাক্তের কিট না থাকা দুর্ভাগ্যজনক। স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঢাকা অফিস ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করলে এমন পরিস্থিতি হতো না। দায়ভার তারা এড়াতে পারে না। এমন পরিস্থিতি এড়াতে কিটের বিকল্প উৎস কী হতে পারে, তা খুঁজে বের করতে হবে।’

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘আমরা হারিনি, ইস্তফা কেন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল একদিকে যেমন স্পষ্ট রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত, অন্যদিকে এক জটিল প্রশ্নপুঞ্জও সামনে এনে দিয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেসের এই পরাজয় শুধু একটি দলের হার নয় বরং একটি রাজনৈতিক যুগের অবসান বলেই মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক। তবে এই পরাজয় মেনে নিতে প্রস্তুত নন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মঙ্গলবার কালীঘাটে সংবাদ সম্মেলনে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে বক্তব্য রাখেন মমতা। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। তিনি বলেন, আমরা তো হারিনি, ভোট লুট করা হয়েছে, ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। শোচনীয় পরাজয়ের পর বিধানসভা নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট। বিচারব্যবস্থাও নেই। কেন্দ্রীয় সরকার এক দলের শাসন চায়। গণতন্ত্র এখন কোথায় যাবে? নির্বাচন কমিশন ১০০ আসন লুট করেছে। এমনি জিতলে কোনো অভিযোগ থাকত না। হার-জিত থাকেই। কিন্তু তা হয়নি। আমরা হারিনি। ওরা লুট করেছে। তবে নির্বাচন কমিশন মমতার এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে।

ভোটে কারচুপির নমুনা তুলে ধরে মমতা বলেন, সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে ভোট গণনাকেন্দ্রে তাকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে, তার পেটে লাথি মারা হয়েছে। সেই সময়ে সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। তবে বিজেপি এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপি নেতারা মমতার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। এদিকে ফলাফলের পর রাজ্যজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বীরভূম ও উদয়নারায়ণপুরে কুপিয়ে দুজনকে হত্যা করা হয়েছে। সাবেক মন্ত্রীর অফিস ও কৃষ্ণনগরে তৃণমূল কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও তৃণমূল ও বিজেপি মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।

২৯৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। তৃণমূল জিতেছে ৮০টি আসনে। ভোটের এ ফলাফলের পর গতকাল বিকালে কালীঘাট থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গণনার শুরুর পর সংবাদমাধ্যমে বিজেপি দুই শতাধিক আসন পেয়েছে দেখানোর পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় হামলা শুরু হয় অভিযোগ করে মমতা বলেন, ‘বিজেপির লোকজন গণনাকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে মারধর শুরু করে। ১৩ হাজার ভোটে আমি লিড করছিলাম। ৩২ হাজারের বেশি পাওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে ওরা গণনাকেন্দ্রে ঢুকেছে। সব ভেঙে দিয়েছে। এটা শুনেই আমি গেলাম। জগুবাজারের কাছে আমার গাড়ি আটকাল। বলল যেতে দেবে না। লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।’ তৃণমূলের দাবি, বহু জায়গায় ইভিএমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সকাল থেকে মেশিনের ব্যাটারি সক্রিয় থাকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এজেন্টরা।

এমনকি ১৬টি আসনে সরাসরি কারচুপির অভিযোগও সামনে এসেছে। এই অভিযোগ-পালটা অভিযোগের মধ্যেই উঠে এসেছে মূল প্রশ্ন কেন এই বিপর্যয়? এবং সেই সঙ্গে আরেকটি বড় প্রশ্ন-এই পরিবর্তনের ফলে পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের ধর্মনিরপেক্ষ সামাজিক কাঠামো কতটা অটুট থাকবে? বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পেছনে একাধিক স্তরের কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, শাসনব্যবস্থার প্রতি ক্লান্তি। ১৫ বছরের দীর্ঘ শাসনে দুর্নীতি, কাটমানি, সিন্ডিকেট রাজ এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। সারদা-নারদ থেকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, কয়লা ও গরু পাচার, সন্দেশখালি কিংবা আরজি কর কাণ্ড-এই প্রতিটি ঘটনাই জনমনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এক সময় যে দল দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে ক্ষমতায় এসেছিল, সেই দলের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ জমতে থাকায় মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, কর্মসংস্থানের অভাব। যুবসমাজের মধ্যে হতাশা ছিল প্রবল।

কালের কণ্ঠ

‘তিস্তা সমস্যা নিয়ে ভারতের জন্য বসে থাকা চলবে না’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, তিস্তার পানি তিস্তাপারের মানুষের ‘বাঁচা-মরার’ বিষয় উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তির জন্য অপেক্ষায় থাকতে চায় না সরকার। বরং এই প্রান্তের উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নিতে চীনের সঙ্গে আলোচনা চালাতে আগ্রহী। ভারত থেকে পুশ ইনের ঘটনা ঘটলে বাংলাদেশ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার চীন সফরে যাওয়ার আগে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি সরকারের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

গতকালই তিনি চীন সফরে গেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বেইজিং সফরে ‘অবশ্যই’ আলোচনা হবে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাধায় ২০১১ সাল থেকে আটকে থাকা তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে ঢাকার আশা নিয়ে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ভারতের উদ্যোগের জন্য ঢাকা বসে থাকতে চায় না।

তিনি বলেন, “দেখুন, পশ্চিমবঙ্গে এখনো সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং তাঁরা কী ভাবছেন, কী করবেন, সেটা তাঁরা যদি না জানান, তাঁদের ‘মাইন্ড রিড’ করার কাজ আমার না। প্রত্যাশা থাকবে, যাতে করে এই চুক্তিটা যেটা হয়েছিল তখন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা আমরা ‘কনসিডার’ করতে পারি কি-না। কিন্তু সে জন্য তো বসে থাকা চলবে না, আমাদের কাজ আমাদের করতে হবে।”

চীন সফরের উদ্দেশ্য ও তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, “চীন আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বন্ধু দেশ, যার সঙ্গে ‘স্ট্রাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’ পর্যায়ে আমাদের সম্পর্ক। এবং আমাদের নতুন সরকারের তরফ থেকে এটা হচ্ছে চীনে প্রথম সফর।

তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং এই সফরে আমরা আমাদের দুই দেশের সম্পর্ককে আরো দ্রুত এবং আরো গভীর এবং ব্যপ্ত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।”

তিনি বলেন, “ইতিমধ্যেই আমরা চীনের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক পারস্পরিক সহযোগিতামূলক প্রকল্প এবং কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছি। এই সম্পর্কটাকে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের’ চাইতে ওপরে নেওয়া যায় কি না, সে নিয়ে আমরা আলোচনা করব। তাদেরও আগ্রহ আছে।”

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আপনি তিস্তার কথা বললেন, অবশ্যই তিস্তার কথা হবে, অবশ্যই। এইটা আমাদের সেই অঞ্চলের মানুষের মরণ-বাঁচনের বিষয়। তারা ডাক দিয়েছে ‘জাগো বাহে’। সেই ডাকে যদি আমরা সাড়া না দিই, তাহলে পরে আমরা আছি কেন? এটা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার, সেই অঞ্চলের সমস্যা সুরাহা করার এবং এটা আমাদের সরকারের অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার আমরা পূরণ করব এবং চীন সফরে এই বিষয়টি আমরা নিশ্চয় আলোচনা করব।”

ইত্তেফাক

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর ‘মাদকেই সৃষ্টি কিশোর গ্যাং’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে ব্যাপকহারে আসছে মাদক এবং একইভাবে বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। মাদকাসক্তদের মধ্যে কিশোর-তরুণদের সংখ্যা বেশি। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও চিকিত্সকদের মতে, ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সিদের সংখ্যাই সর্বাধিক। তারা ইয়াবা ও গাজায় আসক্ত। রাজধানীসহ দেশব্যাপী পাড়া-মহল্লায় ও গ্রামে গ্রামে কিশোর গ্যাং তৈরির মূলেও এই মাদক। নৃশংস হত্যাকাণ্ডসহ অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে মাদকই অন্যতম কারণ।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বছিলা ও রায়েরবাজার বধ্যভূমি এবং কবরস্থানের আশপাশে অর্ধশতাধিক কিশোর গ্যাং রয়েছে। রামদা, চাপাতি, ছুরি, নানা ধরনের অস্ত্র তাদের সঙ্গে থাকে। মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, সবুজবাগ, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, পুরান ঢাকাসহ রাজধানী জুড়ে প্রকাশ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। চাপাতি দিয়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে লোকজনকে হত্যা করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে তারা। অনেক সময় দেহ থেকে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এমন নির্মম, নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা করে আসছে।

এছাড়া খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িত হচ্ছে কিশোর গ্যাং। ভাড়ায় খুন, দখলবাজি ও এলাকার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণসহ সকল অপরাধ করে আসছে। রাজধানীসহ দেশব্যাপী একটি আতঙ্কের নাম কিশোর গ্যাং। এলাকার বড়ভাই, একশ্রেণির রাজনৈতিক নেতা, ভূমিদস্যুসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে এই সব কিশোর গ্যাংদের তাদের স্বার্থে ব্যবহার করে আসছে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মাদক হলো কিশোর গ্যাং, পেশাদার কিলারসহ নিষ্ঠুর অপরাধী হওয়ার অন্যতম কারণ। কিশোর বয়সে যাদের থাকার কথা স্কুলে-কলেজে, যাদের হাতে থাকার কথা বই, তাদের বৃহত্ অংশ এখন মাদক বেচাকেনা ও ব্যবসায় জড়িত। বিগত সরকারের আমল থেকে শুরু হয়েছে কিশোরদের মধ্যে চাপাতি, অস্ত্র ও মাদকের ব্যবহার। বর্তমানে দেশব্যাপী কিশোর গ্যাংয়ের পাড়া-মহল্লা ও এলাকাভিত্তিক তত্পরতা বেড়েই চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ইতিমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন যে, দেশব্যাপী মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও অপরাধীদের গ্রেফতার অভিযান শুরু করতে। পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিশোর গ্যাং সদস্যসহ সকল ধরনের অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় রাজধানী ও ঢাকার বাইরে সকল মেট্রোপলিটন এবং সকল জেলার থানা এলাকায় অভিযান শুরু হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী দৃশ্যমান ফলাফল ততটা দেখা যাচ্ছে না। তবে রাজধানীর মোহাম্মদপুর (তেজগাঁও) বিভাগসহ কিছু এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই অর্ধশতাধিক কিশোর, তরুণ গ্রেফতার, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে। তবে কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসা, নীরব চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ অন্যান্য অপরাধ কমেনি। একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কিশোর গ্যাংকে মাদক ব্যবসা, মার্কেটসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মিল-কারখানার চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ ও জমি দখলে একশ্রেণির ‘বড়ভাই’ ব্যবহার করে আসছে। কিশোর গ্যাং সদস্যসহ অপরাধীদের অনেকে ধরা পড়লেও ‘বড় ভাইদের’ সহযোগিতায় তারা সহজে বের হয়ে আসে এবং পুনরায় পূর্ণ উদ্যমে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, খুন-খারাবি শুরু করে দেয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আমরা আশাতিরিক্ত ফল পেয়েছি। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এতে মাদক কারবারিদের অনেকেই আইনের আওতায় এসেছে।

নয়া দিগন্ত

‘সৌদির শ্রমবাজারে অস্থিরতা’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সৌদি আরবের শ্রমবাজার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বৈধ কাগজপত্র-এমনকি আকামা (ইকামা) থাকার পরও কর্মীদের পুলিশি হয়রানি ও গ্রেফতারের অভিযোগ সামনে আসছে। কাজের অনিশ্চয়তা, আইনি জটিলতা এবং প্রশাসনিক কড়াকড়ির কারণে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন।

সম্প্রতি সৌদি আরবের ‘সফর জেল’ থেকে দেশে ফেরত আসা এক মধ্যবয়সী কর্মী ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, “আকামা থাকার পরও কাজ পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কাজ পেলেও পুলিশ হয়রানি করছে। অনেক সময় আকামা থাকা সত্ত্বেও সেটি অকার্যকর বা ভুয়া বলে ধরে নিয়ে গাড়িতে তুলে সফর জেলে পাঠানো হচ্ছে।’

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ এক সপ্তাহ, কেউ ১৫ দিন জেল খেটে দেশে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে অনেকে মাসের পর মাস আটক থেকেও দেশে ফেরার সিরিয়াল পাচ্ছেন না। ‘অনেকে শুধু জেলে বসে কাঁদছে। পরিবার-পরিজনের সাথে যোগাযোগও সীমিত,”- যোগ করেন তিনি।

এই অভিযোগ যে বিচ্ছিন্ন নয়, তা বোঝা যাচ্ছে নিয়মিত ফেরত আসা কর্মীদের বক্তব্য থেকেও। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছেন অনেকেই। কেউ বলছেন, রাস্তায় চলাচলের সময় হঠাৎ পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে; কেউ আবার অভিযোগ করছেন, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বা অসাধু চক্র অর্থ আদায়ের জন্য বিদেশী শ্রমিকদের হয়রানি করছে।

ওই প্রবাসী কর্মী আরো জানান, “আমাকে রাস্তায় যাওয়ার সময় থামিয়ে আকামা দেখতে চায়। আমি দেখানোর পরও পাশের কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে একটি মসজিদে নিয়ে গিয়ে ছবি তুলে আমার বিরুদ্ধে ভিক্ষাবৃত্তির মামলা দিয়ে সফর জেলে পাঠানো হয়। আমি সেখানে ১৮ দিন ছিলাম।”


তিনি সতর্ক করে বলেন, “যারা সৌদি আরবে যেতে চান, তারা ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে যাবেন। এখন সেখানে কাজের সঙ্কট তীব্র। আকামা পেলেও কাজ নেই, আর কাজ পেলেও নিরাপত্তা নেই।”

তবে এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন অভিবাসন বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান। তিনি বলেন, ‘আকামা থাকার পরও পুলিশ ধরে জেলে পাঠাচ্ছে-এমন বিষয় আমার জানা নেই। তবে যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে অবশ্যই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সৌদিতে বাংলাদেশের মিশনকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পরিসরে নেতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়া ঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মীর কাগজপত্র বৈধ ছিল কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন। দূতাবাস তদন্ত করলে প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হবে এবং ভুল বোঝাবুঝিও কমবে।’

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রথম পাতার প্রতিবেদন ‘পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়া ভোটার বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে কি?’। খবরে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের আগে পরিচালিত স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল, যা ভারতজুড়ে বড় বিতর্ক তৈরি করে।

নির্বাচনী প্রচারণায় বিজেপির শীর্ষ নেতারা এ উদ্যোগকে ‘অবৈধ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী’ শনাক্তের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। যদিও বিরোধীরা একে পরিকল্পিত ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ হিসেবে দেখেছেন। বিপুলসংখ্যক ভোটারকে বাদ দেয়ার প্রভাব নির্বাচনের ফলাফলেও পড়েছে। অনেক আসনে ভোটার তালিকার পরিবর্তন রাজনৈতিক ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এ প্রক্রিয়ার পরিণতি কি কেবল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা ঘিরে তৈরি হওয়া এ বিতর্ক সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে যে বিজেপি নেতারা যে ধরনের রাজনৈতিক রেটরিক তৈরি করেছিলেন, তা যদি ক্ষমতায় আসার পরও বজায় থাকে তাহলে বাদ পড়া এ ভোটারদের ইস্যুটি বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন শুধু আঞ্চলিক রাজনৈতিক পালাবদলের ঘটনা নয়। এটি বৃহত্তর কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৯১ লাখ (মোট ভোটারের ১২ শতাংশ) ভোটারের নাম বাদ পড়া ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিরল ঘটনা। সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মৃত ও অনুপস্থিত ভোটারদের তালিকা থেকে সরানো হয়েছে। কিন্তু তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে বিশেষত মুর্শিদাবাদ, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং মালদায় বাদ পড়ার হার ছিল অস্বাভাবিক রকম বেশি। শুধু মুর্শিদাবাদেই বাদ পড়েছেন সাড়ে চার লাখের বেশি ভোটার।

এ প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিজেপি নেতাদের রাজনৈতিক ভাষ্যও ছিল তীব্র। বিজেপি এটিকে ভোটার তালিকা ‘পরিষ্কার’ করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন তৃণমূলসহ বিরোধীরা দাবি করে আসছিল, এটি মূলত বিজেপির নির্বাচনী কৌশল, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার সংকুচিত করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে আসছিল ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী’ শব্দটি আসলে মুসলিম ভোটারদের বোঝাতেই ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে কিছু বিজেপি নেতার মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা, তাদের ‘অবৈধ বাংলাদেশী’ বলে চিহ্নিত করার রাজনৈতিক বয়ান এবং সেই বয়ানের ভিত্তিতে বিজেপির বিজয়—এ তিনটি ঘটনা একসঙ্গে বাংলাদেশের জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (এফএসডিএস) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গেও সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত সীমান্তের বড় অংশই এখন বিজেপির নিয়ন্ত্রণে। তাদের রাজনৈতিক বক্তব্যে প্রায়ই কথিত অবৈধ বাংলাদেশী মুসলিম ভোটার ও পুশ-ইন প্রসঙ্গ উঠে আসে। ফলে বাংলাদেশকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তারা যদি এ ইস্যু জোরালোভাবে অনুসরণ করে, তাহলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। তবে ইতিবাচক দিক হলো ভারত বলে আসছে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক চায়, সুসম্পর্ক চায়। ফলে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়গুলোতেও আলোচনার মাধ্যমে টেকসই সমঝোতায় পৌঁছা দরকার।’

তিনি আরো বলেন, ‘৯১ লাখ ভোটার বাদ পড়া কোনো ছোট সংখ্যা নয়, বিষয়টি সহজও নয়। মোটা দাগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঠেকাতে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়েছে। এর মানে এই নয় যে সবাইকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হবে। বাস্তবে তা সম্ভবও নয়। তবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ ভোটার বাদ পড়ার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। যেসব আসনে বেশি সংখ্যক ভোটার বাদ গেছে, সেখানে ভোটের ফলাফলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২১ সালে যেসব আসনে তৃণমূল কংগ্রেস শক্ত অবস্থানে ছিল, সেসব এলাকায়ই এবার বিজেপি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। এমনকি যেসব আসনে তুলনামূলক কম সংখ্যক ভোটার বাদ গেছে, সেখানেও বিজেপির আসন সংখ্যা তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। এর অর্থ এসআইআর শুধু নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে নয়, বরং সামগ্রিক নির্বাচনী প্রবণতাকেই প্রভাবিত করেছে।

ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়াদের বিষয়ে বিজেপি যদি আসামের মতো ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনসের (এনআরসি) মতো পদক্ষেপ নেয় তাহলে বাংলাদেশের জন্য আশঙ্কার কারণ রয়েছে বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আপাতত বড় ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে না। কারণ যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে। বেশ কয়েকজন এরই মধ্যে তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছেন। তাই এ মুহূর্তে সরাসরি আশঙ্কা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। যদি নতুন সরকার পশ্চিমবঙ্গে আসামের মতো এনআরসি ধরনের কোনো উদ্যোগ নিতে চায়, তখন পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে যেতে পারে।’

আজকের পত্রিকা

‘পরীক্ষার চেয়ে উপসর্গে জোর’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে এবার সংক্রামক রোগ হাম সংক্রমণ শনাক্তের হার ৪২ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ প্রতি ১০০টি নমুনা পরীক্ষা করলে প্রায় অর্ধেকেই রোগী শনাক্ত হচ্ছে। তবে একটি মাত্র পরীক্ষাগার থাকা ও কিটের সংকটের কারণে পরীক্ষা কম হওয়ায় সংক্রমণের প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া কঠিন হচ্ছে।

এমন অবস্থায় প্রতিদিনই হামের রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলায় পরীক্ষার অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্যবিদেরা রোগ এবং রোগী ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি থাকার কথা উল্লেখ করে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন।

হামের চলমান সংক্রমণ বছরের শুরু থেকেই অল্পবিস্তর করে দেখা দিয়েছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগী শনাক্ত, সন্দেহজনক হামের রোগী, মৃত্যু এবং হাসপাতালে ভর্তির তথ্য দিচ্ছে গত ১৫ মার্চ থেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অতিমাত্রায় সংক্রামক রোগ হাম শনাক্তে প্রয়োজনীয়- সংখ্যক পরীক্ষা হচ্ছে না। কিটের সংকটের কারণে প্রতিদিন সীমিতসংখ্যক নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলে প্রকোপের সঠিক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু রাজধানীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (আইপিএইচ) ল্যাবরেটরিতেই হামের পরীক্ষা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১২০টির কিছু বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। একটি কিট দিয়ে সর্বোচ্চ ৯০টি নমুনা পরীক্ষা হয়। পরীক্ষার জন্য নাকের ভেতরের শ্লেষ্মা বা গলায় থাকা লালা নমুনা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ গতকাল মঙ্গলবার আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছে, তারা গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত ১৬ হাজার ৫২৭টি নমুনা পেয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৭৬৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩ হাজার ৭১৪টিতে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। অর্থাৎ পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৪২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এখনো ৭ হাজার ৭৫৮টি নমুনা পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৭২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

আইপিএইচ কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম ধারণা না থাকায় পর্যাপ্ত কিট সংরক্ষণ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডা. মো. মোমিনুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘পরীক্ষার সক্ষমতা আরও বেশি থাকলেও বড় বাধা কিটের ঘাটতি। দৈনিক পরীক্ষার সক্ষমতা ৭০০ থেকে ৮০০টি। তবে কিটের সংকটের কারণে বর্তমানে সেই সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।...পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো গেলে শনাক্তের সংখ্যাও আরও বাড়বে।’

সর্বশেষ ৪ এপ্রিল পরীক্ষা করা ১৬০টি নমুনার মধ্যে ৮২টি পজিটিভ পাওয়া যায়। অর্থাৎ শনাক্তের হার ৫১ শতাংশের কিছু বেশি। মো. মোমিনুর রহমান এ বিষয়ে জানান, গত কয়েক দিন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে থাকলেও এখন শনাক্তের হার বাড়ছে।

আইপিএইচ পরিচালক জানান, হামের পরীক্ষার কিট বাজারে পাওয়া যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মাধ্যমে আমদানি করে সরবরাহ করা হয়। এই সরবরাহপ্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে পরীক্ষা বাড়ানো যাচ্ছে না।

বর্তমানে আইপিএইচ ল্যাবরেটরিতে মাত্র ১০-১২টি কিট রয়েছে। এ দিয়ে হাজারের কিছু বেশি নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। নতুন কিট চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে পাওয়ার কথা রয়েছে।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘তিস্তার জলকপাট কি খুলছে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিন্ন নদী তিস্তার পানি ভাগাভাগি কীভাবে হবে তার কাঠামো ঠিক হয়েছে ১৫ বছর আগে, ২০১১ সালে। নদী অববাহিকার দুই দেশ বাংলাদেশ ও ভারত কে কতটুকু পানি পাবে, কীভাবে পাবে, তাও স্থির হয়েছে তখন। একই বছর এ বিষয়ে ১৫ বছর মেয়াদের একটি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। বেশ খরস্রোতা এ নদীটির অনেক জল এরই মধ্যে উজান থেকে ভাটির দিকে বয়ে গেলেও চুক্তিটি আজও হয়নি।

এই দীর্ঘ সময়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে পরিবর্তন এসেছে। মনমোহন সিংয়ের কংগ্রেস সরকার বিদায় নিয়ে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার ক্ষমতায়, তাও ১২ বছর হয়ে গেল। সাবেক ও বর্তমান এই দুই সরকারের একটি মিল হলো তিস্তা সমাধান কেবল আশ্বাসেই সীমিত রেখেছে তারা। কেন চুক্তিটি করল না, তার কারণও একই দেখিয়েছে উভয়েই।

পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আপত্তির কথা বলেছে দুই কেন্দ্রীয় সরকারই। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার এবারকার নির্বাচনে তৃণমূল দলটি নেত্রী মমতা ব্যানার্জিসহ ভরাডুবির শিকার হয়েছে। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপিরই পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারের দায়িত্ব নেওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এতে তিস্তা চুক্তিটি না করার ক্ষেত্রে দেখানো মূল অজুহাতের অবসান হয়েছে, এমনটি মনে করছেন বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, ভারতের বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে তিস্তা চুক্তি সইয়ের সুযোগ আছে।

পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস-এর সাবেক নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে প্রাদেশিক সরকারে নির্বাচিত হয়ে আসায় তিস্তা ও গঙ্গাসহ পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলো নিয়ে আলোচনা কিছুটা সহজ হতে পারে। কাজেই রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে তিস্তা চুক্তি হতে পারে। তিনি মনে করেন, গঙ্গা চুক্তির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

অবশ্য বাংলাদেশের কূটনীতিকরা মনে করেন, ঢাকায় গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ও ক্ষমতায় পালাবদলের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের বর্তমান যে হালচাল, তাতে তিস্তা চুক্তি সই খুব সহজে না হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদীর বাংলাদেশ অংশে জল ধরে রাখাসহ অন্যান্য সুবিধা তৈরির জন্য একটি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে কথা হচ্ছে। সমস্যা হলো, মহাপরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা নেওয়ার আলাপ চলছে আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রতিযোগী চীনের সঙ্গে। মহাপরিকল্পনার প্রকল্পগুলো সীমান্ত থেকে তুলনামূলকভাবে ‘কাছাকাছি’ ও ‘চীনাদের দ্বারা’ বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় এ বিষয়ে ভারত আপত্তি করেছে।

ভারতীয় বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে প্রাদেশিক সরকারের আপত্তি অগ্রাহ্য করে আন্তর্জাতিক ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই করা সম্ভব। তবে সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা থাকায় নরেন্দ্র মোদির সরকার এক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি নেয়নি।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘সড়কে ভয়ংকর প্রক্সি বাহিনী’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, যুদ্ধের ময়দানে অন্য দেশের বাহিনীর পোশাকে ‘প্রক্সি যোদ্ধা’ হিসেবে যুদ্ধ করতে দেখা যায় ভিনদেশি তরুণদের। বাংলাদেশে এমন সম্মুখযোদ্ধা প্রক্সি ফোর্স না থাকলেও সড়কের আতঙ্ক হয়ে উঠেছে একটি বিশেষ চক্র। যাদের কাছে র‌্যাব বা ডিবি পুলিশের জ্যাকেট, হ্যান্ডকাফ, পিস্তল, ওয়াকিটকিসহ সবই আছে। দেখতে হুবহু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আভিযানিক দলের মতোই। টার্গেটকৃত মানুষকে গাড়িতে ওঠানোর সময়েও মনে হবে যেন কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কিন্তু এই প্রক্সি বাহিনীর সদস্যরা বাস্তবে ভয়ংকর ডাকাত। সড়কে ওত পেতে থাকে টার্গেটের আশায়।

গত ২৫ এপ্রিল উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরে সালমান মাহবুব জয় নামে এক ব্যবসায়ীকে র‌্যাব পরিচয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে ৬৫ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। যাদের একজন পুলিশ থেকে চাকরিচ্যুত বলে জানা গেছে। গত শুক্রবার রাজধানীর ডেমরা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক ব্যবহার করে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ভালুকায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয় দিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে প্রায় ১৪ টন রড ডাকাতি করা হয়। র‌্যাব, ডিবি ও অন্য সংস্থাগুলোর নামে এরকম ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, সারা দেশে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ১৩৩টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে ডিএমপিতে ১২টি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া এই ৩ মাসে সারা দেশে দস্যুতার মামলা হয়েছে ৪৩৯টি। ঢাকায় তিন মাসে দস্যুতার মামলা হয়েছে ৭৬টি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ডাকাতদের একটি চক্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে অপহরণের পর সবকিছু লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। আরেকটি চক্র ধনাঢ্য বাসাবাড়ি রেকি করে রাতের আঁধারে ডাকাতি করছে। এসব চক্রে নাম লেখাচ্ছে বিভিন্ন বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত সদস্যরা। গ্রেপ্তার এড়াতে এসব চক্রের সদস্যরা ব্যবহার করছেন বস্তির নারী ও প্রত্যন্ত এলাকার অসহায় মানুষদের নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম। বাসাবাড়িতে ডাকাতির ক্ষেত্রে রেকির পরে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় আঁকা হয় বিশেষ সংকেত।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি মানুষের ভয় ও আস্থাকে কাজে লাগিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠছে এসব অপরাধী চক্র।

মামলা বেশি, ভাগও বেশি : ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাতে রাজধানীর মাটিকাটার ১১৮/৪ নম্বর বিক্রমপুর কটেজের দ্বিতীয় তলা থেকে স্বর্ণালংকার, মোবাইলসহ ৪০ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন মালামাল লুট করে ১২-১৩ জনের একটি দুর্ধর্ষ ডাকাত চক্র। সম্প্রতি এই ডাকাত দলের অন্যতম হোতা ১৭ মামলার আসামি আলী হোসেন ওরফে চোরা আলীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। জানা গেছে তাদের রেকি টিম সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বাসা টার্গেট করে অপারেশনাল টিমকে সেখানে সহজে যেতে সড়কে বিভিন্ন সংকেত এঁকে দিয়ে আসে। কোনো বাসায় লুটের পর ভাগবাঁটোয়ারার ক্ষেত্রে যার নামে মামলা বেশি, তাকে বেশি ভাগ দেওয়া হতো। গ্রেপ্তার এড়াতে তারা ভাষানটেক বস্তির বিভিন্ন নারীর নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম ব্যবহার করে। তা-ও একটি সিমে ১৫-২০ মিনিটের বেশি কথা বলা হয় না। এদিকে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে র‌্যাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, এসব চক্র কৌশল পরিবর্তন, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং ছোট ছোট সংগঠিত গ্রুপে কাজ করায় সম্পূর্ণ নির্মূল করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে প্রতিটি ঘটনার পর দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব চক্রকে নির্মূল করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ আরও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন