জাতীয় দলের পাইপলাইন মজবুত করতে বড় ভূমিকা পালন করে হাই-পারফরম্যান্স (এইচপি) বিভাগ। যে কারণে প্রতি বছরই এইচপি বিভাগের জন্য খেলার সূচি আলাদা করে সাজানোর চেষ্টা থাকে বিসিবি’র। আসন্ন মৌসুমেও এইচপি নিয়ে বড় পরিকল্পনা রয়েছে ক্রিকেট বোর্ডের। এ কারণে এইচপি’র প্রধান কোচ হতে যাচ্ছেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। জাতীয় দলে কাজ করা এই কোচের ওপরই পরের মৌসুমের জন্য ভরসা রাখতে যাচ্ছে বিসিবি। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে কথাও হয়েছে সালাহউদ্দিনের। আসন্ন পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষে জাতীয় দলের দায়িত্ব ছাড়বেন সালাহউদ্দিন এমনটি জানা গেছে। এ ছাড়া এবারের এইচপি বিভাগে থাকছে না কোনো বয়সের মানদণ্ড। সবমিলিয়ে সাদা এবং লাল বল মিলিয়ে ক্রিকেটার থাকবেন ৩৫ জন। কোচ হিসেবে আরও থাকছেন সোহেল ইসলাম, মিজানুর রহমান বাবুল, রাজিন সালেহ ও তালহা জুবায়েররা।
সবকিছু ঠিক থাকলে এইচপি’র প্রথম সিরিজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই দায়িত্ব বুঝে নেবেন সালাহউদ্দিনরা। জানা গেছে, আগামী ১লা জুন শুরু হবে সিরিজের ক্যাম্প। জুন মাসের ৩ তারিখ জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল এইচপি বিভাগের সঙ্গে খেলতে আসবে। এরপর ৮, ১০ এবং ১৩ই জুন ওয়ানডে সিরিজ মাঠে গড়াবে বগুড়া এবং রাজশাহীতে। এরপর দু’টি চারদিনের ম্যাচ মাঠে গড়াবে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। পরবর্তীতে জুলাইয়ে বাংলাদেশ এইচপি দল সফর করবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানে তারা তিনটি একদিনের ম্যাচ এবং দু’টি চারদিনের ম্যাচ খেলবে। এরপর ১৫ই আগস্ট থেকে ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকবে বাংলাদেশ হাই-পারফরম্যান্স বিভাগ। এবারও সেখানে টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টির পরে দু’টি চারদিনের ম্যাচ খেলবে তারা।
এ ছাড়া ইমার্জিং এশিয়া কাপেও এইচপি থেকে ক্রিকেটারদের খেলানোর কথা রয়েছে। প্রস্তাবটা যেমন বিসিবি’র দিক থেকে ছিল, একইভাবে সালাহউদ্দিনও মনে করছেন, জাতীয় দলকে আপাতত তার তেমন কিছু দেওয়ার নেই। এর চেয়ে অপেক্ষাকৃত তরুণদের নিয়ে এইচপিতে ভবিষ্যতের ক্রিকেটার তৈরির কাজটাই নিজের জন্য ভালো হবে। এ নিয়ে সালাহউদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে আমি এ ধরনের কাজ আগেও করেছি। তাই আমার মনে হয়েছে, ভবিষ্যতের ক্রিকেটার তৈরির কাজটাই আমি ভালো করতে পারবো।
বিসিবিও সেভাবেই চিন্তা করেছে।’ ২০২৪ সালের নভেম্বরে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচের দায়িত্ব পান সালাহউদ্দিন। বিসিবি’র সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির কার্যকাল ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত। পাকিস্তান সিরিজের পর এইচপি’র প্রধান কোচের পদে যোগ দিলেও সালাহউদ্দিনের চুক্তির মেয়াদ আপাতত ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্তই থাকবে। এইচপি’র বর্তমান প্রধান কোচ ডেভিড হেম্পকে দেয়া হবে অন্য দায়িত্ব।
জাতীয় দল ছেড়ে এইচপি’র দায়িত্বে কেন আগ্রহী হলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এইচপিতে যারা থাকবে, তাদেরকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। খেলার পাশাপাশি তাদের ক্রিকেটীয় চিন্তাভাবনা আর জীবনযাপন প্রণালিতেও উন্নতি আনাটা জরুরি। তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে আমি এ ধরনের কাজ আগেও করেছি। তাই আমার মনে হয়েছে, ভবিষ্যতের ক্রিকেটার তৈরির কাজটাই আমি ভালো করতে পারবো। বিসিবিও সেভাবেই চিন্তা করেছে।’
