চ্যাম্পিয়ন্স লীগের মহাকাব্যিক এক লড়াইয়ের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে ফুটবল ভক্তরা। গত সপ্তাহে প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে গোলবন্যার পর আজ আলিয়েঞ্জ অ্যারেনাতে দ্বিতীয় লেগে মুখোমুখি বায়ার্ন মিউনিখ ও প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ৯ গোলের সেই থ্রিলারে ৫-৪ ব্যবধানে জিতে আপাতত চালকের আসনে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। আজকের ম্যাচটি দু’দলের জন্য কেবল হার-জিতের নয়, এটি বার্সেলোনার এক মৌসুমে ৪৫ গোলের রেকর্ড ভাঙারও লড়াই। পিএসজি (৪৩ গোল) ও বায়ার্ন (৪২ গোল)- উভয়ই ইতিহাসের খুব কাছে। হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হবে রাত ১টায়।
পিএসজি’র হয়ে আক্রমণভাগে উসমান দেম্বেলে, দিজিরে দুয়ে এবং খিচা কাভারেৎস্কেলিয়া যে গতির ঝড় তুলছেন, তা যেকোনো রক্ষণের জন্য দুঃস্বপ্ন। বিশেষ করে, আজ একটি গোল করলেই জলাতান ইব্রাহিমোভিচকে (১০) টপকে পিএসজি’র হয়ে এক চ্যাম্পিয়ন্স লীগের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়বেন ‘জর্জিয়ান মেসি’ খ্যাত কাভারেৎস্কেলিয়া। অন্যদিকে বায়ার্নের তুরুপের তাস হ্যারি কেইন। টানা ছয় ম্যাচে গোল করা এই ইংলিশ স্ট্রাইকার চাইবেন ঘরের মাঠে বাভারিয়ানদের অবিশ্বাস্য এক কামব্যাক উপহার দিতে।
তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরে শুরু হয়েছে ‘হোটেল রাজনীতি’। মিউনিখে এসে পিএসজি ‘ইনফিনিটি হোটেল’-এ থাকতে চেয়েছিল। হোটেলটিকে হয়তো সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখছে প্যারিসিয়ানরা। কেননা, এখানে অবস্থান করেই গত বছর শিরোপা ঘরে তোলে তারা। তবে বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কম্পানি সাফ জানিয়ে দেন, ‘এটি আমাদের শহর, আমাদের হোটেল।’ শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে পিএসজিকে আস্তানা গাড়তে হয় ‘আন্দাজ হোটেল’-এ।
ইতিহাস বলছে, চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগ হেরে ১০ বারের মধ্যে ৯ বারই বিদায় নিয়েছে বায়ার্ন। তবে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা জার্মান জায়ান্টদের জন্য এক দুর্ভেদ্য দুর্গ। এখানে পিএসজি’র বিপক্ষে শেষ ৭ ম্যাচের ৫টিতেই জিতেছে তারা। ভিনসেন্ট কোম্পানি সমর্থকদের প্রতি আগেই স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রেখেছেন, ‘আমার একমাত্র অনুরোধ হলো, ম্যাচ ডে-তে যদি টিকিটধারী কারও শারীরিক অসুস্থতা বোধ হয়, তবে দয়া করে বাড়িতে থাকুন এবং আপনার টিকিটটি এমন কোনো সুস্থ ব্যক্তিকে দিয়ে দিন, যে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা নামক এই দুর্গে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে সমর্থন জোগাতে পারবে।’
অন্যদিকে পিএসজি এবার বিদেশের মাটিতে টানা ছয় ম্যাচ জয়ের রেকর্ড নিয়ে মিউনিখে পা রাখছে। গত বছর এই মাঠেই ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা জেতে তারা। সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে প্যারিসিয়ান কোচ লুইস এনরিকে প্রথম লেগের পর বলেন, ‘ঘরের মাঠে বায়ার্ন তাদের সমর্থকদের সামনে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তবে ওই স্টেডিয়ামে ফিরে যাওয়া আমাদের জন্য দারুণ সব স্মৃতি বয়ে আনবে। আমরা একই মানসিকতা নিয়ে সেখানে জয়ের জন্যই নামবো।’
বায়ার্ন শিবিরে ফিরছেন ম্যানুয়েল নয়ার, আলফানসো ডেভিস ও জশুয়া কিমিচের মতো তারকারা। তবে পিএসজি’র বড় দুশ্চিন্তা আশরাফ হাকিমির চোট। মরক্কান এই ডিফেন্ডারের অনুপস্থিতিতে আজকের সফরকারীদের রক্ষণে কিছুটা হলেও ফাটল দেখা দিতে পারে।
