পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে অশান্তি

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কর্মীদের উপর আক্রমণ, দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, আগুন

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর থেকেই কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার নানা প্রান্তে অশান্তির ঘটনা ঘটছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ, কলকাতা থেকে হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনার মতো নানা জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কর্মীদের মারধর, অফিস ভাঙচুর, আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। অনেক জায়গা থেকে সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কলকাতার নানা জায়গায় রাত থেকেই অশান্তি শুরু হয়েছে। ইস্টার্ণ মেট্রোপলিটান বাইপাশের ধারে রুবি এলাকায় তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। বেহালায় পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীর উপর আক্রমণ ও অফিস ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে।

অশান্ত দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভাঙড়। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, ভাঙড়ে বিজয়ী আইএসএফের নেতা-কর্মীরা রাতভর তাণ্ডব করেছে বিভিন্ন এলাকায়। ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে নিমকুড়িয়া গ্রামে। বেঁওতায় তৃণমূল নেতার বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। তৃণমূল করার ‘অপরাধে’ বাড়িতে ঢুকে মহিলা-সহ একটি পরিবারের সমস্ত সদস্যকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার সকালে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা না খোলার কারণে নিমকুড়িয়া গ্রামে এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ফিরোজ মোল্লা নামে এক তৃণমূল সমর্থকের অভিযোগ, আমরা তৃণমূল করি বলে আইএসএফ দলের বুথ সভাপতির নেতৃত্বে পঞ্চাশ জন লোক আমাদের উপর হামলা করেছে। মাথায় বন্দুকের বাট দিয়ে আঘাত করেছে। ভোজালি দিয়ে আঘাত করেছে। বাবার অবস্থা খারাপ। বাবাকে কলকাতার এক হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে।

অন্য দিকে, ভাঙড়ের বেঁওতা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বাড়ির সিসি ক্যামেরা ভেঙে বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে কোনও অভিযোগের প্রেক্ষিতেই প্রতিক্রিয়া দেয়নি বিজেপি এবং আইএসএফ।

মিনাখাঁয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য মহুয়া সরদার মাইতির বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। মহুয়ার অভিযোগ, সোমবার চার দিকে বিজেপির ফল ভালো হওয়ার পরে রাতে স্থানীয় বিজেপির কিছু বাহিনী তার বাড়িতে এসে চড়াও হয়। বাড়িতে ঢুকে তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ। বাড়ি ভাঙচুর করে এমনকি তার মেয়েকেও তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে মহুয়ার দাবি। এই বিষয়ে তিনি মিনাখা থানায় জানিয়েছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।

জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশনের কাছে তৃণমূল কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। সিসি ক্যামেরায় ভাঙচুরের ঘটনা ধরা পড়েছে। জলপাইগুড়ির জেলার ডাবগ্রাম ফুলবাড়ী বিধানসভার ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন কানকাটা মোরে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ার টেবিল ভাঙচুর চালান এবং নির্বাচনের কাজে ব্যবহৃত পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার দলীয় কার্যালয়ের সামনে রাস্তায় জ্বালিয়ে দেন। কোচবিহার দু’ নম্বর ব্লকের রাজারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের টাকাগাছ ঘাটপারে তৃণমূলের পার্টি অফিসের দখল নিয়েছে বিজেপি।

সোমবার সন্ধ্যায় বহরমপুর থানার চুঁয়াপুর কদমতলা বটতলা এলাকা দিয়ে ডিজে বাজিয়ে বিজেপির বিজয় মিছিল ভাকুড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিপ্লব কুণ্ডুর বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় মিছিলে থাকা ব্যক্তিরা বিপ্লবের বাড়িতে ভাঙচুর চালান ও বাড়ির সামনে রাখা বেশ কয়েকটি বাইকে ভাঙচুর করেন এবং পেট্রোল ঢেলে দেন বলে অভিযোগ।

পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূল কংগ্রেসর সাবেক জেলা সভাপতি বিশ্বনাথ পাণ্ডব ও তার স্ত্রী কাউন্সিলার লিপকা পাণ্ডবের উপর মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শহরের গণনা কেন্দ্রের সামনে গোলকুয়াচক এবং পঞ্চুরচকে তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুর করা হয়। চন্দ্রকোণায় ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা যুব সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তীর বাড়িতে হামলার ঘটনার অভিযোগ ওঠে। রাত ১০টার সময় ঘাটাল মহকুমায় খড়ার পুরসভা খোলা নিয়ে বিজেপির সবাই জমায়েত করে। অভিযোগ, তথ্য লোপাটের চেষ্টা চলছে।
তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এই সব অশান্তির বিষয়ে এখনও কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।  প্রশাসনকি সূত্রে বলা হয়েছে, সর্বত্র পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে টহল দিচ্ছে। 

মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতা পুলিশের তরফে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে বলা হয়েছে, ভোটের ফল ঘোষণার পর অনেক বিভ্রান্তিকর পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে। অন্য জায়গার ছবি এবং ভিডিওকে কলকাতার বলে চালানো হচ্ছে। এই ধরনের পোস্টের উপর কলকাতা পুলিশ কড়া নজর রেখেছে। যারা শান্তি বিঘ্নিত করার জন্য ভুল খবর ছড়াচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। ভোটের ফলের পর কলকাতার পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলেও জানিয়েছে পুলিশ। 


Anwarul Azam

২ মাস আগে

নির্বাচন শেষ। আর কত। এবার থামুন। ঝামেলা মিটানো ভালো। কি হবে এসব করে। ৪০/৫০ বছর ধরে অনেক'ত হলো। শান্তি চাই। শান্তি। সারা পৃথিবী জুড়েই চলছে। কম বেশি।

মন্তব্য করুন