দুর্নীতি দমনে তামিমের কঠোর পদক্ষেপ

দুর্নীতি দমনে তামিমের কঠোর পদক্ষেপ

ফন্ট সাইজ:

গতকাল মাঠে গড়িয়েছে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ। ক্রিকেটের এই উৎসবের মাঝেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নেয়া তামিম ইকবাল দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে গ্যালারির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মজুরি নিয়ে চলা অনিয়ম তাকে ব্যথিত করেছে। স্টেডিয়ামের বাথরুম অপরিষ্কার দেখে খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, বোর্ডের বরাদ্দকৃত অর্থের সিংহভাগই গরিব শ্রমিকদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। দুঃখজনক এই ঘটনায় তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

পাশাপাশি বৃষ্টির শঙ্কা ও মাঠের শতভাগ প্রস্তুতি না থাকার পরও শুধুমাত্র খেলোয়াড়দের আর্থিক দিক বিবেচনা করে লীগ শুরু করার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দায়িত্ব নিয়েই মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি প্রশাসনিক সংস্কারে দারুণ জোর দিয়েছেন ববাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক এই অধিনায়ক। পুরো পরিস্থিতি নিয়ে বোর্ডপ্রধান তামিম বলেন, ‘আমি নিজেই অবাক হয়েছি। গ্যালারিতে গিয়ে একজন দর্শক আমাকে বললেন, যদি ওয়াশরুমগুলো ঠিক করা যায়। এরপর আমি নিজে খোঁজ নিয়ে দেখলাম এখানে বিশাল এক দুর্নীতি চলছে।’

দুর্নীতির এই চিত্র রীতিমতো ভয়ংকর। বিসিবি টেন্ডারের মাধ্যমে বাইরের প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিলেও কাজ করানো হচ্ছে বোর্ডের নিজস্ব লোক দিয়েই। মাঝখান থেকে দালালরা প্রতিদিন শ্রমিকপ্রতি অন্তত ২০০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। ওভারটাইমের ক্ষেত্রেও চলছে চরম জালিয়াতি। যাদের সঙ্গে অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে, তাদের ভুয়া ওভারটাইম দেখিয়ে টাকা তুলে নেয়া হচ্ছে।

প্রকৃত কাজ করা শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এমন অমানবিক প্রতারণা মেনে নিতে পারেননি তামিম। কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘মাঝখানে যে ব্যক্তি কোনো কাজ না করে খালি লোকজন দিয়ে ২০০ টাকা করে সে নিয়ে যাচ্ছে, তাকে আমি ডেকে বলেছি, প্রত্যেক শ্রমিকের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। প্রমাণসহ ফিন্যান্সে সাবমিট করবেন, তারপর আমি বিল ছাড়ব। না হলে ব্ল্যাকলিস্ট করে দেবো।’

গরিবের হকের টাকা আত্মসাৎ করাকে মারাত্মক অপরাধ হিসেবে দেখছেন বোর্ড সভাপতি। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, শ্রমিকের ঘামে ভেজা এই টাকা চুরির ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে ভাগে না। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বোর্ডপ্রধানের সাফ কথা, বড় দুর্নীতি নিয়ে অনেক কথা বলা যায় বা তদন্ত করা যায়, কিন্তু দিন এনে দিন খাওয়া মানুষদের পেটে লাথি মারাটা জঘন্য অপরাধ।

এ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তামিম বলেন, ‘যারা সাত বা দশ হাজার টাকা বেতন পান, যাদের এই টাকায় পুরো পরিবার চলে, তাদের থেকে যদি কেউ ৫০০ টাকাও নেয়, তবে সেটা ম্যাসিভ ক্রাইম। এই জায়গায় আমি এক পারসেন্টও ছাড় দেবো না।’ অন্যদিকে মাঠের অব্যবস্থাপনা ও নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে প্রিমিয়ার লীগ শুরু করাটাকেই মূল সাফল্য মানছেন তামিম। খেলোয়াড়দের আর্থিক দিক ভেবেই বৃষ্টি বা ড্রেনেজ সমস্যার ঝুঁকি নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটের আম্পায়ারিং নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।

গত কয়েক মৌসুমে আম্পায়ারিংয়ের মান সন্তোষজনক হলেও এখানেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চান তিনি। প্রভাবশালীদের চাপে অন্যায় সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে আম্পায়ারদের সম্পূর্ণ বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটের এই সার্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং লীগ শুরু করার প্রেক্ষাপট নিয়ে তামিম বলেন, ‘সবচেয়ে ইম্পর্টেন্ট ছিল খেলাটাকে শুরু করা। সব কিছু ইভেনচুয়ালি আস্তে আস্তে পারফেক্ট হবে, কিন্তু প্লেয়াররা টাকা পেয়েছে এবং তাদের ফ্যামিলির কষ্ট কিছুটা হলেও কমাতে পারছি, এটাই সবচেয়ে বড় কথা।’

Mohammed Rasheduzzaman

২ মাস আগে

তামিমের পদক্ষেপগুলোর জন্য ধন্যবাদ। সব ক্ষেত্রে সততার উপর কাজ করলে দেশ ও ক্রিকেট তামিমকে আজীবন মনে রাখবে।

Mohammed Rasheduzzaman

২ মাস আগে

তামিমের পদক্ষেপগুলোর জন্য ধন্যবাদ। সব ক্ষেত্রে সততার উপর কাজ করলে দেশ ও ক্রিকেট তামিমকে আজীবন মনে রাখবে।

মন্তব্য করুন