বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত জবপরঢ়ৎড়পধষ ঞৎধফব অমৎববসবহঃ (জঞঅ)’র বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবদের বিবাদী করা হয়। সোমবার পিটিশনটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাঈদুল ইসলাম পলক এবং ফাইলিং আইনজীবী হিসেবে সুবীর নন্দী দাস মামলাটি উপস্থাপন করেছেন। আজ মঙ্গলবার রিট পিটিশনটি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায়ের আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তিটিকে সুস্পষ্টভাবে অযৌক্তিক এবং কাঠামোগতভাবে অসম আখ্যা দিয়ে রিট আবেদনে বলা হয়েছে, এটি কেবল বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থেরই পরিপন্থি নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্যও ক্ষতিকর। এই প্রেক্ষিতে জনস্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি সাধারণ জনগণের পক্ষে প্রতিনিধিত্বমূলক ক্ষমতায় এই রিট পিটিশনটি দায়ের করেছেন এবং বৃহত্তর জনস্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চুক্তিটি আলোচনা ও সম্পাদনের ক্ষেত্রে দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং জনকল্যাণ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।
পিটিশনে বলা হয়, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর অসম ও অতিরিক্ত দায়বদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। শুল্ক কাঠামো দেশের জন্য প্রতিকূল, নিয়ন্ত্রক স্বায়ত্তশাসন হ্রাস পেতে পারে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্প, কৃষি ও পরিবেশগত সুরক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়াও সংবিধানে নির্ধারিত চুক্তি প্রণয়ন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অভিযোগে এই চুক্তির সাংবিধানিক বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে করা সার্বিক কাজের (কর্মকাণ্ডের) বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আরেকটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। ওই সরকারের সময় গৃহীত সিদ্ধান্তের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আইন প্রণয়ন, সংস্কার কমিশন ও দেশি-বিদেশি চুক্তির বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে রিটে। এসব বিষয়ে কমিশন গঠন করে ইনকোয়ারি (অনুসন্ধান) করার আর্জি জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মুহাম্মদ মুহসিন রশিদ রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দায়ের করেন। রিটে কেবিনেট সচিব ও আইন, বিচার ও সংসদ-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন