পোস্টাল ব্যালটে ভাগ্য বদলে গেল যেসব প্রার্থীর

পোস্টাল ব্যালটে ভাগ্য বদলে গেল যেসব প্রার্থীর

ফন্ট সাইজ:

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এবার নতুন সংযোজন ছিল পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান। প্রবাসী ও দেশের অভ্যন্তরে সরকারি কর্মচারী, নির্বাচন কর্মকর্তা এবং কারাবন্দিরা এই প্রক্রিয়ায় ভোট দিতে পেরেছেন। আর এই পোস্টাল ব্যালটের কল্যাণেই দুই প্রার্থী হেরে গিয়েও জিতে গেছেন। জানা যায়, সিরাজগঞ্জ-৪ ও মাদারীপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা হারের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে ফিরে এসেছেন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফলাফল গণনার ঠিক শেষদিকে এসে দুই প্রার্থী জয় পান।

সূত্রমতে, রিটার্নিং কর্মকর্তার ফলাফল ঘোষণার সময় সব কেন্দ্র থেকে আসা ফলাফলে এগিয়েছিলেন সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এম আকবর আলী। ১৪৭টি কেন্দ্রের ফলে তিনি ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৫৮ ভোট এবং জামায়াত জোটের প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান পান ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩ ভোট। এ সময় আকবর আলী ৭৬৫ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। তবে পোস্টাল ভোটের ফল প্রকাশের পর বিএনপি প্রার্থী পান ৮২০ ভোট, যেখানে জামায়াতের প্রার্থী পান ২ হাজার ১৭৯ ভোট। এতে জামায়াত প্রার্থী পান ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৭২ ভোট আর বিএনপি প্রার্থী পান ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৮ ভোট। শেষ হিসাব-নিকাশে ৫৯৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

এদিকে একই অবস্থার সৃষ্টি হয় মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনেও। পোস্টাল ভোটের ফলে জয়ী হন ১১-দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা (রিকশা প্রতীক)। ওই আসনের ১০২টি কেন্দ্রে তিনি ভোট পান ৬৩ হাজার ৫১১টি এবং পোস্টাল ভোট পান ১ হাজার ৩৯৮টি। মোট ভোট দাঁড়ায় ৬৪ হাজার ৯০৯। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র নাদিরা আক্তার (ধানের শীষ) সরাসরি ভোট পান ৬৪ হাজার ২৯১ এবং পোস্টালে পান মাত্র ২৩৩ ভোট। সব মিলিয়ে তার প্রাপ্ত ভোট ৬৪ হাজার ৫২৪। ফলে ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন হানজালা।

নির্বাচন কমিশনের ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধনকারী ভোটারের সংখ্যা ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন। এর মধ্যে প্রবাসী পোস্টাল ভোটার (ওসিভি) ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন এবং অভ্যন্তরীণ পোস্টাল ভোটার ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন। সর্বশেষ কাস্টিং পোস্টাল ভোটের সংখ্যা ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯৩টি। এর মধ্যে ৯২ হাজার ৯৬টি ভোট বিভিন্ন ত্রুটির কারণে বাতিল হয়েছে। সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭ জনের ভোট। এতে অনেক প্রার্থীর ভাগ্য খুলে গেছে। আবার অনেক প্রার্থীর হাসি কেড়ে নিয়েছেন তারা। তাদের মধ্যে প্রবাসী ভোটার ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২০৫ জন এবং অভ্যন্তরীণ ভোটার ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩৮৮ জন। এখনো নির্বাচন কমিশনে এসে পৌঁছায়নি ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯১টি পোস্টাল ব্যালট। এর মধ্যে কিছু ব্যালট দেশে ও প্রবাসে ভোটারের নির্ধারিত ঠিকানায় গিয়ে ভোটারপ্রত্যাশীকে না পেয়ে ফেরত এসেছে। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টা পর আসা ব্যালট গ্রহণযোগ্য নয় বলেও জানা গেছে।
দেশ ও দেশের বাইরে থেকে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেয়ার জন্য নিবন্ধন করেন, যাদের অর্ধেকের বেশিই প্রবাসী। সারা বিশ্বের ১২৩টি দেশ থেকে পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সৌদি আরব থেকে আসে, যা ২ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৩। তার মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার ৫৭৯টি ভোট কাস্টিং হয়েছে। এ ছাড়া সবচেয়ে কম আবেদন পড়ে জিম্বাবুয়ে, কলম্বিয়া ও ক্যামেরুনসহ পাঁচ দেশে থেকে আসে একটি করে আবেদন। আর ২৪টি দেশ থেকে ১০টি কম আবেদন আসছে। এর মধ্যে শুধু পাঁচটি দেশের ১২টি ভোট কাস্টিং হয়েছে। তবে ভোট কাস্টিংয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়, দেশের অভ্যন্তরের ভোট বেশি বাক্সে পড়েছে।
আসনভিত্তিক পোস্টাল ভোট: সবচেয়ে বেশি ফেনী-৩ আসনে ১১ হাজার ৫৫২ জনের পোস্টাল ভোট কাস্টিং হয়েছে। এর মধ্যে প্রবাসী ভোট ৮ হাজার ৪৯৫ এবং অভ্যন্তরীণ ৩ হাজার ৫৭ জন ভোট দিয়েছেন। এরপর চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১১ হাজার ৫৩ জন, কুমিল্লা-১০ আসনে ৯ হাজার ৮৬১ এবং নোয়াখালী-১ আসনে ৯ হাজার ২৪১ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সবচেয়ে কম বাগেরহাট-৩ আসনে ১ হাজার ২০৩ জনের পোস্টাল ভোট কাস্টিং হয়েছে। এর মধ্যে ১০৩ প্রবাসী ও ১০৭৫ জন অভ্যন্তরীণ ভোটার। এছাড়া বিজয়ী সিরাজগঞ্জ-৪ এ পোস্টাল ব্যালটে ভোট পড়েছে ৩ হাজার ১৩০টি। এর মধ্যে প্রবাসী ৪৬৪টি এবং অভ্যন্তরীণ ২৬৬৬টি। আর মাদারীপুর-১ এ পোস্টাল ব্যালটে ২০৫৯টি। এর মধ্যে প্রবাসী ১৩৭৫টি ও অভ্যন্তরীণ ৪৮৬টি।

Abdul Matin Sikder

৪ মাস আগে

জনগন পোষ্টাল ব্যালট বাতিল চেয়েছিলো, এখানে আগেই ১.৫ বছর বয়সী জামাতী সরকার ভোটচুরি করেছে, সামনে এর বিরুদ্ধে আইনী ব্যাবস্থা চাই।

Md. Abdur Razzak

৪ মাস আগে

ভোট চুরি করে আর কয়দিন!

মন্তব্য করুন