নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠার দুই দশক পার করলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২০০১ সালে নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠে বর্তমানে ৩৩টি বিভাগে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বিশাল এই ছাত্রগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ এখনো আবাসিক হলের সুযোগ-সুবিধার বাইরে রয়ে গেছে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানসিক চাপের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক সাংস্কৃতিক জীবন থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। তবে এই সমস্যা সমাধানের জন্য আশার বাণী জানালেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। নতুন চারটি হল নির্মাণের প্রায় ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প ইতিমধ্যে এডিপি প্রণয়ন সভায় সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ৩৩টি বিভাগের বিপরীতে ছেলেদের জন্য দুইটি এবং মেয়েদের জন্য তিনটিসহ মোট পাঁচটি আবাসিক হল রয়েছে। হলগুলো হলোÑ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক উকিল হল, ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল, নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল, বিবি খাদিজা হল এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি হল। এসব হলে মোট আসন সংখ্যা আনুমানিক ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ এর মতো হলেও বর্তমানে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৭০ শতাংশই আবাসন সুবিধাবঞ্চিত হয়ে মেস বা বাসা ভাড়া করে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। আবাসিক হলগুলোতেও আবাসন সংকটের চিত্র অত্যন্ত প্রকট। চারজনের কক্ষে পাঁচ থেকে ছয়জন এবং গণরুমগুলোতে ১০ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী অত্যন্ত মানবেতরভাবে বসবাস করছেন। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের অভাব এবং গাদাগাদি করে থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
অন্যদিকে, অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত পরিবহন সংকট ও বর্ধিত ভাড়ার ভোগান্তি পোহাচ্ছেন, যা তাদের শিক্ষা জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে। ব্যবসায় প্রশাসন ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিন জানান, আমি একাধিকবার আবেদন করেও হলে সিট পাইনি। আবাসন একজন শিক্ষার্থীর মৌলিক প্রয়োজন হওয়া সত্ত্বেও আমাদের চড়া দামে বাইরে থাকতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। আমরা চাই, সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি স্বচ্ছ ও ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হোক। একই শিক্ষাবর্ষের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মীর মুনতাসির মাহমুদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনাবাসিক হওয়ার কারণে আমাদের প্রতিদিন বাসে ঝুলে দূর থেকে ক্লাস করতে আসতে হয়। বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও গরমে পড়াশোনার অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। অথচ প্রশাসনিক কাজের জন্য আমাদের ঠিকই হলে গিয়ে ধরনা দিতে হয়। যদি আবাসন সমস্যার সমাধান না হয়, তবে আমাদের আইডেন্টিটি থেকে হলের নাম বাদ দেয়া হোক। এদিকে, আবাসন সংকট সমাধানে আশার বাণী জানালেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত মুক্ত আলাপ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সম্প্রতি এডিপি’র আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় নোবিপ্রবিতে হল নির্মাণের জন্য নতুন একটি প্রকল্প সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রথমে উনারা বলছে চার মাস আগেই একটা প্রজেক্ট পেয়েছিলেন। যারা প্রজেক্ট পায়নি তাদের জন্য একটু দুঃখজনক বিষয়। তখন আমি বলছি, স্যার যদি প্রজেক্ট না দেন আমার ১১ হাজার স্টুডেন্টের মাঝে আড়াই হাজার স্টুডেন্টের আবাসন ব্যবস্থা আছে বাকিরা কই যাবে? তিনি আরও জানান, হলগুলোতে আমরা ইন্টিগ্রেটেড সিস্টেম চালু করবো। প্রত্যেকটা হল ১০০০ আসনবিশিষ্ট, ছেলেদের জন্য ২টা হল আর মেয়েদের জন্য ২টা হল। প্রত্যেক হলের জন্য ১২০ কোটি টাকা বাজেটে ৪টা হলের প্রায় ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প। নতুন আবাসিক হল নির্মিত হলে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট অনেকটাই দূর হবে বলে আশা উপাচার্যের।
