পাকিস্তান সুপার লীগের (পিএসএল) একাদশ আসর জুড়ে শুধুই নাহিদ রানা বন্দনা। রোববার ফাইনালে হায়দরাবাদ কিংসমেনকে হারিয়ে ৯ বছরের শিরোপা খরা ঘোচায় পেশোয়ার জালমি। এ জয়ে বল হাতে তুরুপের তাস হয়ে দাঁড়ান বাংলাদেশের তরুণ গতি তারকা নাহিদ রানা। করাচির গতির ঝড়ের পর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে পারে খোদ অধিনায়ক বাবর আজমের। কেননা, আগামী ৮ইমে ঢাকায় শুরু হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ফাইনালসেরা হওয়া অ্যারন হার্ডির মতে পিএসএলে নাহিদ যে পারফর্মেন্স দেখালেন, তাতে সেই সিরিজে তার মুখোমুখি হতে চাইবেন না বাবর।
হায়দরাবাদের দেয়া ১২৯ রানের লক্ষ্যে ২৮ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই পৌঁছে যায় পেশোয়ার। এর আগে বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দ্বিতীয় দফার অনাপত্তিপত্রে (এনওসি) ফাইনাল খেলতে উড়ে যান নাহিদ। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট, এর মধ্যে ছিল গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতো বিধ্বংসী ব্যাটারের মূল্যবান উইকেটটি। পুরো টুর্নামেন্টে ৫ ম্যাচে ৫.৪৪ ইকোনমি রেটে ৯ উইকেট নিয়ে নাহিদ নিজেকে প্রমাণ করেছেন অনন্য উচ্চতায়। তার এই আগুনে বোলিং তাকে এনে দিয়েছে ফাইনালের ‘সুপার পাওয়ার অব দ্য ম্যাচ’-এর পুরস্কার।
পেশোয়ারের শিরোপা জয়ের মহানায়ক অ্যারন হার্ডি। বল হাতে ৪ উইকেট নেয়া এ অস্ট্রেলিয়া তারকা ব্যাট হাতে খেলেন অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংস। ম্যাচ শেষে নাহিদ রানাকে প্রশংসায় ভাসান হার্ডি। আসন্ন বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সে মাত্র তিন দিন আগে প্লেন থেকে নামলো এবং আজও দুর্দান্ত গতিতে বল করলো। ১৫১ কিমি গতির ডেলিভারিগুলো ব্যাটারদের জন্য এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা ছিল। সামনেই পাকিস্তান-বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ। আমি নিশ্চিত, বাবর সম্ভবত নেটে বা ম্যাচে তার মুখোমুখি হতে চাইবে না।’ নাহিদকে নিয়ে ভবিষ্যৎবাণীই করলেন হার্ডি। তিনি বলেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, সে সারা বিশ্বে ঘুরে বেড়াবে এবং যেকোনো প্রতিযোগিতায় খেলবে। তার মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে সবাই সাদরে গ্রহণ করবে।’
ম্যাচ চলাকালীনই ২৩ বছর বয়সী নাহিদকে প্রশংসায় ভাসান পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম। নাহিদ তার ওভারগুলোর সময় ফিল্ডিং সেটআপে সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে ব্যাটারদের বোকা বানান। টাইগার পেসারের এই বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করে ওয়াসিম আকরাম বলেন, ‘পেইস ইজ পেইস ইয়ার। নাহিদ রানা যেভাবে বল করেছে, দেখে খুব উপভোগ করেছি। কী গতি তার! ব্যাটারদের নাকানিচুবানি খাওয়াচ্ছে, হোক সে টেল এন্ডার কিংবা মূল ব্যাটার। ফিল্ডিং সাজানোর ক্ষেত্রে কিছু ডিটেইলস দেখিয়েছে। সে খুব বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। প্রেজেন্স অব মাইন্ড খুব ইম্পরট্যান্ট।’
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে উচ্ছ্বসিত নাহিদ বলেন, ‘আমি সত্যিই এটি উপভোগ করলাম। গত বছর আমি এসেছিলাম তবে খেলিনি। এ বছর আমি এসেছি এবং এটি সত্যিই উপভোগ করেছি। আমি কেবল আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে এবং দলের জন্য একটি প্রভাবশালী পারফরম্যান্স করতে চেয়েছিলাম। আমি আমার পারফরম্যান্স ভালোভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি, আমি তাই খুশি।’
