ইতালিয়ান ফুটবলের শীর্ষ স্তর সিরি-আ’র শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করলো ইন্টার মিলান। রোববার রাতে ঘরের মাঠ সান সিরোতে পার্মাকে ২-০ গোলে হারিয়ে তিন ম্যাচ আগেই ২১তম বারের মতো ‘স্কুদেত্তো’ নিশ্চিত করলো নিরাজ্জুরিরা। গত মৌসুমের রানার্সআপ হওয়ার ক্ষত মুছে ইন্টারের জন্য এক রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এটি।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা নাপোলি শনিবার কোমোর সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করায় ইন্টারের শিরোপা নিশ্চিত করতে কেবল ১ পয়েন্টের দরকার ছিল। তবে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে ক্রিস্টিয়ান চিভুর শিষ্যরা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পিওতর জেলিনস্কির পাস থেকে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে নেন মার্কাস থুরাম। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের পাসে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন অভিজ্ঞ হেনরিখ মেখিতারিয়ান। ৮২ পয়েন্ট নিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়া ইন্টারের এটি গত তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয় লীগ শিরোপা। সাকুল্যে ২১টি সিরি আ ট্রফি নিয়ে তারা জুভেন্টাসের (৩৬) ঠিক পরেই অবস্থান করছে।
ইন্টারের হয়ে খেলোয়াড় হিসেবে ৩টি সিরি আ শিরোপা জিতেছেন চিভু। এবার কোচ হিসেবে প্রথম মৌসুমেই ক্লাবটিকে লীগ চ্যাম্পিয়ন করলেন এ সাবেক রোমানিয়ান তারকা। ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে কিছুটা রসিকতা করেই চিভু বলেন, ‘আমার মনে হয় আমি ইতিহাসের পাতায় আগে থেকেই ছিলাম। খেলোয়াড় হিসেবেও আমি এখানে কিছু অর্জন করেছিলাম... তবে আজ আমি খুশি এই তরুণদের জন্য, এই ক্লাবের জন্য এবং আমাদের এই চমৎকার সমর্থকদের জন্য, যারা শুরু থেকে আমাদের পাশে ছিলেন।’ ম্যাচের গোলদাতা মার্কাস থুরাম দলের একতা নিয়ে বলেন, ‘ইন্টারে যোগ দেয়ার পর থেকেই দেখেছি, এই দলটি মাঠ এবং মাঠের বাইরে একসঙ্গে থাকতেই ভালোবাসে। এটিই আমাদের মূল শক্তি।’
গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে পিএসজির কাছে ৫-০ গোলে পরাজয় এবং শেষ দিনে লীগ শিরোপা হারানোর গ্লানি ছিল নিরাজ্জুরি সমর্থকদের মনে। সেই গ্লানি মুছে দিয়ে উচ্ছ্বসিত ইন্টার অধিনায়ক মার্টিনেজ বলেন, ‘আমরা আজ খুব আনন্দিত। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতার একদম শেষ ধাপে এসে হেরে যাওয়ার পর পুনরায় শুরু করা সহজ ছিল না। অনেকে আমাদের ফেবারিট ভাবেনি, তবে আমরা মাঠ ও মাঠের বাইরে কঠোর পরিশ্রম করেছি।’
ইন্টার মিলানের সামনে এখন ঘরোয়া ডাবল জয়ের সুযোগ। আগামী ১৩ই মে ইতালিয়ান কাপের ফাইনালে লাৎসিওর মুখোমুখি হবে তারা। এর আগে ২০১১তে জোসে মরিনহোর অধীনে ইন্টার শেষবার একই মৌসুমে লীগ ও কাপ উভয় শিরোপা জয়ের স্বাদ পায়।
