ঢাকায় পাকিস্তান দল, প্রস্তুত বাংলাদেশ

ঢাকায় পাকিস্তান দল, প্রস্তুত বাংলাদেশ

ফন্ট সাইজ:

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে ২ ম্যাচের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ খেলতে গতকাল সকালে ঢাকায় পা রেখেছে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। আগামী ৮ই মে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সিরিজের ১ম ম্যাচ মাঠে গড়াবে। এরপর ১৬ই মে সিলেট স্টেডিয়ামে ২য় টেস্টটি অনুষ্ঠিত হবে। চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার লক্ষ্যে এই সিরিজটি উভয় দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাগতিক বাংলাদেশ নিজেদের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সিরিজ জিততে পারেনি। তবে এবার চেনা পরিবেশে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর নতুন স্বপ্ন দেখছে টাইগাররা। দীর্ঘ ৪ বছরেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ খেলতে এলো পাকিস্তান দল। সর্বশেষ সিরিজের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আবারও তারা এদেশের মাঠে ফিরেছে। এবারের সিরিজে একটি কঠিন লড়াইয়ের সুস্পষ্ট পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।

নয়া প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানিয়েছেন টেস্টে নতুন রণনীতি নিয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবেন তারা। তাদের পরিকল্পনা আগ্রাসী টেস্ট খেলা। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের খেলার ধরনে পরিবর্তন আনছি। আমরা দৃঢ়ভাবে চেষ্টা করবো আগ্রাসী টেস্ট খেলতে।’ পাকিস্তানের পুরো দল একসঙ্গে ঢাকায় আসেনি। পাকিস্তান সুপার লীগ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় বহরে বাবর আজমসহ দলের বাকি তারকারা বাংলাদেশে পা রাখবেন। এবারের বাংলাদেশ সফরের জন্য ৪ জন নতুন মুখ নিয়ে শক্ত দল সাজিয়েছে পাকিস্তান। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন তরুণ আবদুল্লাহ ফজল, আমাদ বাট, আজান আওয়াইস এবং মুহাম্মদ গাজী ঘোরি। সিরিজের ২ ম্যাচে পাক দলের নেতৃত্ব দেবেন শান মাসুদ। পাশাপাশি এবারই প্রথম তাদের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন সাবেক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। নতুন কোচের অধীনে এই সফরটি তাদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। দলে নতুন ও পুরোনো খেলোয়াড়দের চমৎকার ভারসাম্য তৈরি করা হয়েছে।

পেস বোলিং আক্রমণ বরাবরের মতোই বেশ শক্তিশালী, যেখানে নেতৃত্ব দেবেন শাহিন শাহ আফ্রিদি এবং হাসান আলী। স্পিন বিভাগেও রয়েছেন নোমান আলী ও সাজিদ খানের মতো পরীক্ষিত মুখ। সবকিছু মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়ে মাঠে নামার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সফরকারীরা। নতুন খেলোয়াড়দের জন্য এই সফর নিজেদের প্রমাণ করার একটি সুযোগ। অতীত পরিসংখ্যান বিচার করলে বাংলাদেশের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মোট ১৫৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে মাত্র ২৫টিতে জয়ের দেখা পেয়েছে তারা। বাকি ম্যাচগুলোর মধ্যে ১১২টিতে হার এবং ১৯টিতে ড্র করেছে টাইগাররা। অপরদিকে, পাকিস্তানের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ১৫টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এই ১৫ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২টিতে জয়ের স্বাদ পেয়েছে তারা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সেই দুই জয়ই এসেছিল বিদেশের মাটিতে। রাওয়ালপিন্ডিতে ১টি ঐতিহাসিক সিরিজে প্রতিপক্ষকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলার ‘দামাল ছেলেরা’।

কিন্তু নিজেদের মাটিতে পাকদের বিপক্ষে পরিসংখ্যান একেবারেই হতাশাজনক। ঘরের মাঠে ৫টি সিরিজ খেলে ৪টিতেই হারের তিক্ত স্বাদ পেতে হয়েছে। কেবল একটি সিরিজ ড্র করতে সক্ষম হয়েছিল স্বাগতিকরা। তাই এবার নিজেদের মাটিতে প্রথম সিরিজ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ তাদের সামনে হাতছানি দিচ্ছে। সেই ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এবার ঘরের মাঠেও তারা দারুণ কিছু করে দেখাতে চায়। খেলোয়াড়রা এই লক্ষ্য পূরণে কঠোর অনুশীলন করছেন। বর্তমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান নিয়ে উভয় দলই বেশ চাপে রয়েছে। বাংলাদেশ সদ্য শেষ হওয়া অ্যাওয়ে সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১টি হার ও ১টি ড্র নিয়ে ফিরেছে।

ফলে মাত্র ১৬.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ৮ম স্থানে রয়েছে তারা। অন্যদিকে পাকিস্তান ৫০ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে ৫ম স্থানে অবস্থান করছে। এই নতুন চক্রে বাংলাদেশের সামনে আরও বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। মোট ৬টি দলের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে তারা, যার মধ্যে ৩টি দেশের মাটিতে এবং ৩টি বিদেশে। ঘরের মাঠে পাক দলের পর শক্তিশালী ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। তাই টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে হলে এই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে ভালো করার কোনো বিকল্প নেই। অধিনায়ক শান মাসুদের দলও চাইবে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে বিজয়ীর বেশে মাঠ ছাড়তে। এখন মিরপুর ও সিলেটে এক জমজমাট লড়াই দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন দেশের কোটি ক্রিকেট ভক্ত।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন