চতুর্থ প্রান্তিকে আদানি পাওয়ারের মুনাফা বেড়েছে ৬৪ শতাংশ

চতুর্থ প্রান্তিকে আদানি পাওয়ারের মুনাফা বেড়েছে ৬৪ শতাংশ

ফন্ট সাইজ:

বিদ্যুৎ চাহিদার প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও আর্থিকভাবে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার লিমিটেড। ৩১শে মার্চ ২০২৬ অর্থবছর শেষে চতুর্থ প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক নিট মুনাফা বার্ষিক ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড ১০৫ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। এটি প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ উৎপানের রেকর্ড। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক আয়বৃদ্ধি, উন্নত কার্যক্ষমতা এবং করব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। আদানি পাওয়ার গত ২৯শে এপ্রিল এসব তথ্য প্রকাশ করে।

ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ বাংলাদেশের জাতীয় গ্রীডে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। জাতীয়ভাবে বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ সরবরাহের ১০ শতাংশ পূরন করে আদানি। গত ২২শে এপ্রিল গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আকস্মিকভাবে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে সৃষ্ট সরবরাহ ঘাটতির সবচেয়ে তীব্র প্রভাব পড়েছে উত্তরাঞ্চলে, বিশেষত রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে। কোথাও কোথাও লোডশেডিং ১০ থেকে ১১ ঘণ্টায় গিয়ে ঠেকেছে।

দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে আদানি দ্রুত মেরামত কাজ সম্পন্ন করে গত ২৭শে এপ্রিল ইউনিটটি ৫ দিনের মধ্যে পুনরায় চালু করেছে। ২০২৩ সালের মার্চে আদানির প্রথম ইউনিট এবং একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। বিপিডিবির কাছে দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ বজায় রেখে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আদানি পাওয়ারের কর পরবর্তী মুনাফা ছিলো ২৭ কোটি ২৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার। যা ২৫-২৬ অর্থবছরে বেড়ে প্রায় ৪৪ কোটি ৭৭ লাখ ৭০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। মোট ঘোষিত রাজস্ব ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫২ কোটি ৪০ লাখ ডলার থেকে ১৬৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং ইবিআইটিডিএ ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ কোটি ১২ লাখ ৭০ হাজার ডলারে। পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নিট মুনাফা ১৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে ১৩৫ কোটি ৯০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং সামগ্রিক বিদ্যুৎ বিক্রির পরিমাণ ৩.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৫.৮৮ বিলিয়ন ইউনিট থেকে ৯৯.১৫ বিলিয়ন ইউনিটে উন্নীত হয়েছে।

তবে বছরজুড়ে বিদ্যুৎ খাত কঠিন পরিবেশের মুখোমুখি হয়েছে। শীতকালীন আবহাওয়া ও অসময়ের বৃষ্টিপাত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিদ্যুৎ চাহিদার বিঘ্ন ঘটে তবে মার্চে উষ্ণ আবহাওয়ার আগমনে তা পুনরুদ্ধার শুরু হয়। সারা বছরে ভারতের সামগ্রিক বিদ্যুৎ চাহিদা মাত্র ০.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,৭০৯ বিলিয়ন ইউনিটে পৌঁছেছে। ২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিলো ২৪৩ গিগাওয়াটে , যা আগের অর্থবছরের ছিলো ২৫০ গিগাওয়াট। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্ব এবং আবহাওয়াজনিত চাহিদার অনিশ্চয়তার কারণে বিদ্যুৎ এক্সচেঞ্জে গড় বাজারদর ১৩.৭ শতাংশ কমে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় প্রায় ০.০৪০ ডলারে নেমে এসেছে।
আদানি পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস বি খ্যালিয়া বলেন, বিশ্ব যখন জ্বালানি মূল্য নিয়ে বড় ধরণের ধাক্কার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ভারতের জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কয়লাসহ আমাদের প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ দীর্ঘদিন ধরে আমাদের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে শক্তি জোগাবে। ভারত যখন দ্রুতগতিতে নবায়নযোগ্য শক্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন তাপবিদ্যুৎ গ্রিড স্থিতিশীল রাখা এবং সর্বোচ্চ চাহিদা মেটানোর চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করছে।

এই প্রতিকূলতার মধ্যেও দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব নিশ্চিতকরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে আদানি পাওয়ার। মহারাষ্ট্র স্টেট ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড থেকে নকশা, নির্মাণ, অর্থায়ন, মালিকানা ও পরিচালন মডেলে ২৫ বছরের জন্য ১,৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের পুরস্কার পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি সহযোগী প্রতিষ্ঠান মক্সি পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড তামিলনাড়ু বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য ৫৫৮ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর ফলে আদানি পাওয়ারের মোট পরিচালন সক্ষমতার ৯৫ শতাংশ দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির আওতায় এসেছে এবং সামগ্রিক সম্প্রসারণ সক্ষমতা চুক্তি ১৩.৩ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ১০.৪ গিগাওয়াট এই অর্থবছরেই নিশ্চিত হয়েছে।

নির্মাণ কার্যক্রমে ২০৩২ সালের মধ্যে ২৩.৭ গিগাওয়াট সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে চলমান সম্প্রসারণ প্রকল্প নির্ধারিত গতিতে এগিয়ে চলেছে। মহান দ্বিতীয় পর্যায়ের ৮৬ শতাংশ, রায়পুর দ্বিতীয় পর্যায়ের ৫৪ শতাংশ এবং রায়গড় দ্বিতীয় পর্যায়ের ৪৭ শতাংশ নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে ১,৩২০ মেগাওয়াটের কোরবা পাওয়ার লিমিটেডের দ্বিতীয় পর্যায়ের সম্প্রসারণ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে চালু হওয়ার পথে রয়েছে।

আদানি পাওয়ার ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। গুজরাট, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড ও তামিলনাড়ুতে বারোটি বিদ্যুৎকেন্দ্র মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট স্থাপিত তাপবিদ্যুৎ সক্ষমতা ১৮,১১০ মেগাওয়াট, পাশাপাশি গুজরাটে ৪০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রও রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন