প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে সিলেটবাসীর

প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে সিলেটবাসীর

ফন্ট সাইজ:

একটি প্রকল্প। সেটি নিয়ে অনেক চাওয়া। প্রকল্পটি বিশাল। এ যাবতকালের সর্বোচ্চ বাজেটের প্রকল্প। প্রায় ৪৬০০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বদলে দেবে সিলেটকে। আনবে আমূল পরিবর্তন। এই প্রকল্প এখনও পাইপলাইনে। টাকা ছাড় হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে প্রকল্পটি ঝুলে আছে মন্ত্রণালয়ে। এবার প্রকল্প নিয়ে আশাবাদী সবাই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার সিলেট আসছেন। তিনি প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করে যাবেন। নগর কর্মকর্তাদের মুখে হাসি। প্রকল্পের টাকা ছাড় না হলেও অসুবিধা নেই। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প উদ্বোধন করছেন। টাকা ছাড় হবে এখন। বিদেশে অর্থায়নেরও জোগাড় হবে। সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী সিলেটের উন্নয়নে আন্তরিক। এটিই তার প্রমাণ। আশা করা হচ্ছে- শিগগিরই প্রকল্পটি পাস হবে, টাকাও ছাড় হবে। প্রকল্পটি বদলে দেবে সিলেট নগরকে। প্রায় ১৭ কিলোমিটার শহর রক্ষা বাঁধ ও ওয়াকওয়ে হবে।

এদিকে- প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিলেটবাসীর প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে। দুই মন্ত্রী নিয়েও আশাবাদী মানুষ। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এরই মধ্যে শুনিয়েছেন আশার বাণী। তাদের ভাষ্য- আগামী দুই বছরেই বদলে যাবে সিলেট। এজন্য দফায় দফায় বৈঠক করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে। বিএনপি’র নেতারাও বলছেন একই কথা। দলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, সিলেটে আর উন্নয়ন বৈষম্য থাকবে না। বরং সিলেট তার উন্নয়নের হিস্যা পাবে। এই পরিকল্পনা ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন হবে। সেটি প্রধানমন্ত্রী ঢাকায়ই করতে পারতেন। তিনি সিলেটে আসছেন, এতে বোঝা যায়, আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে সিলেট উন্নয়নের ছোঁয়া পাবে। শুধু সিলেট নয়, গোটা বিভাগেই হবে উন্নয়ন। কর্মসংস্থান বাড়বে। মানুষের জীবন যাত্রার মানও উচ্চ হবে।

এদিকে; বিগত ১৭ বছরে বৈষম্যের শিকার সিলেট। দক্ষিণ-উত্তর অঞ্চলের উন্নয়নের দিকে তাকালেই সিলেটকে বোঝা যায় উন্নয়ন বঞ্চিত একটি জনপদ। বিগত বিএনপি’র সরকারের সময় যে সব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল সেগুলোর মধ্যে অনেকটাই এখন গলার কাঁটা। এর মধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উল্লেখযোগ্য। ১৭ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়নি তিন চার বছরেও। ২০২৮ সালে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কাজ চলমান থাকায় এ রুটটি যাত্রীদের কাছে ভোগান্তির আরেক নাম। ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লাগে যাত্রীদের ঢাকায় যেতে। স্থানে স্থানে কাজ হওয়ায় গাড়ি আটকে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

সম্প্রতি এ রুট নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এরপর তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভুমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সিলেট-ঢাকা রেলপথের উপর চাপ বেড়েছে। এই অবস্থায় বৃটিশদের তৈরি এ রেলপথ হয়ে উঠেছে মরণফাঁদ। বার বার রেল দুঘর্টনা ঘটছে। অনেক আগে থেকেই দাবি রয়েছে- সিলেট থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ডাবল লাইনের রেললাইন। ব্রডগজ করা হলে ভোগান্তি কমবে না বলে জানিয়েছেন সিলেটের উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা। এয়ারপোর্ট হাব করা যায় সিলেটকে। নামেই এটি আর্ন্তজাতিক। আর্ন্তজাতিক রুটে বিমান চললেও অন্য কোনো উড়োজাহাজ কোম্পানী এখনো সুযোগ পায়নি। সড়ক পথে দুরবস্থার কারণে ঢাকা-সিলেট রুটে বিমানের ভাড়াও আকাশচুম্বি। সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সিলেটবাসীর স্বপ্নের একটি প্রকল্পও।

বিগত দিনে দুর্নীতির কারণে যাত্রা শুরু না হতেই হোঁচট খেয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। ক’দিন আগে নতুন ভিসি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দক্ষিণ সুরমার সুনামগঞ্জ বাইপাসে ক্যাম্পাস নির্ধারিত হলেও এখনো ভুমি অধিগ্রহণই হয়নি। আওয়ামী লীগ সময়ে স্থাপন করা আইসিটি ভিলেজ বর্তমান সরকারেরও গলার কাটা। এটি নিয়ে ভাবছেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এই ভিলেজকে তিনি প্রবাসে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর জন্য ট্রেনিং সেন্টার করতে চান। বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনবেন বলে জানান। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন উন্নয়নসংক্রান্ত দাবিদাওয়াও সামনে আনছে। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে ২৫ দফা দাবি জানিয়েছে সিলেট বিভাগ গণদাবি ফোরাম।

সংগঠনের সভাপতি চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদের সই করা ওই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সিলেটকে ‘আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিক রাজধানী’ ঘোষণা, বিভাগকে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গেজেট প্রকাশ এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ। এছাড়া সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথ আধুনিকায়ন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বিমানবাহিনীর ঘাঁটি স্থাপন, সিলেটে প্রকৌশল ও পর্যটন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ পুনঃস্থাপনসহ নানা দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নদ-নদী ও খাল খনন, তেল সংরক্ষণাগার স্থাপন এবং বিরতিহীন আধুনিক ট্রেন চালুর বিষয়টিও দাবির তালিকায় আছে। 

মহিবুল

২ মাস আগে

যেখানে তেল,গ্যাস,পাথরের খনি তাহা আমরা ভোগ করতে পারি না, এই দাবী তো সিলেটের হিসাবে যোগ করা প্রয়োজন ছিল।

মন্তব্য করুন