পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলের যে পূর্বাভাস বিভিন্ন সংস্থার জরিফে উঠে এসেছে সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগে জনমতকে প্রভাবিত করার জন্য বুথফেরত জরিপ যা পূর্বাভাস দিয়েছে, তা একটি “বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের” অংশ।
মমতার মতে, 'বুথফেরত জরিপে নিজেদের জয় দেখাতে সংবাদমাধ্যমকে বাধ্য করেছেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা। সত্যি দেখালে শেয়ার বাজারে ধস নামবে বলেই এমনটা করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান কিংবা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেয়া বেশিরভাগ জরিপের পূর্বাভাস খারিজ করে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস অন্তত ২২৬টি আসন পাবে। আমরা হয়তো ২৩০টি আসনও অতিক্রম করতে পারি। জনগণের দেয়া এই বিপুল জন-রায়ের ওপর আমার সম্পূর্ণ আস্থা আছে বলেও তিনি জানান।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ২৯৪টি আসন রয়েছে। রাজ্যটিতে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ ৯২.৪৭ শতাংশ ভোট পড়ার রেকর্ডও হয়েছে। প্রচণ্ড গরম এবং কথিত ভয়ভীতি প্রদর্শন সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যায় ভোট দিতে আসায় মমতা বন্দোপাধ্যায় জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, যারা বাংলাকে দমন করতে চেয়েছিল, ব্যালটের কাছেই তারা পরাজিত হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, তিনি সেই দলীয় কর্মীদের ধন্যবাদ জানাতে চান যারা অবিরাম লড়াই করেছেন এবং আক্রমণ সহ্য করেছেন। তিনি সংযম প্রদর্শনের জন্য আবেদন করেন এবং সমর্থকদের উস্কানি পেলেও সহিংসতা থেকে দূরে থাকতে বলেন।
গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শান্ত ও সংযত থাকুন। বাংলার মানুষের ওপর এবং দিদির ওপর আস্থা রাখুন। ৪ঠা মে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, আপনারা আপনাদের উত্তর পেয়ে যাবেন।
এদিকে, রাজ্যে প্রচারে এসে রাহুল গান্ধী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবল সমালোচনা করলেও কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গোলাম মীর বৃহস্পতিবার বলেছেন, তৃণমূল যদি একা সরকার গঠন করতে না পারে, সেক্ষেত্রে কংগ্রেস নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে। তাদের সমর্থন দরকার পড়বে। মীর আরও দাবি করেছেন, বাংলার ভোট নিয়ে বুথফেরত জরিপ যা দেখাচ্ছে, তার উলটো ফল হবে। রাজ্যের নারীদের হাতে সরাসরি যে আর্থিক সুবিধা দিয়েছে রাজ্য সরকার, তার সুফল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষেই পড়বে বলে মনে করছেন মীর।
