অনিয়মের অভিযোগ জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত দুই আইনজীবী সংগঠনের

ঢাকা বার নির্বাচন

অনিয়মের অভিযোগ জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত দুই আইনজীবী সংগঠনের

ফন্ট সাইজ:

ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন ঘিরে গুরুতর অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশ ল ইয়ার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ও এনসিপি সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমদ।

সংগঠন দু’টির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মতে, গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। বাহ্যিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ হলেও ভেতরে ভেতরে নানা অসংগতি ছিল বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে-ধাপে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্ব হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রেই ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি, যা পুরো প্রক্রিয়াকে শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

মতিউর রহমান আকন্দ আরও বলেন, ‘যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া ব্যালট পেপার বিতরণ এবং ভোটার স্লিপ ছাড়া ভোটগ্রহণের কারণে এই অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে।’ তার ভাষায়, নির্বাচনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের কারণে এটি আইনজীবীদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।

এছাড়া অ্যাডভোকেট সাকিল আহমদ অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে পূর্বপরিকল্পিত অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও ব্যাপক কারচুপির হয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠন থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে ছিল, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহার করে এই কারচুপি করা হয়। ভোটগ্রহণ চলাকালে জাল ভোট প্রদান, বুথের ভেতরে প্রবেশ করে ভোটারদের ব্যালটে জোরপূর্বক সিল মারা, বিরোধী প্যানেলের কমিশনার ও এজেন্টদের বের করে দেওয়া, যাচাই বাচাই ছাড়াই ব্যালট বিতরণ এবং বহু ভোটারের ভোট আগেই জালিয়াতির মাধ্যমে প্রদান করার মতো গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ভোট ডাকাতির সামগ্রিক চিত্র, যা অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের কালো অধ্যায়েরই পুনরাবৃত্তি'।

তিনি আরও বলেন, 'সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো যে নীল প্যানেল অতীতে স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে বিভিন্ন অনিয়ম, কারচুপি ও দমন-পীড়নের শিকার হয়েছিল, তারাই আজ একই কায়দায় নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের অন্যতম মূল আকাঙ্ক্ষা ছিলো যে গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। কিন্তু এ ধরনের প্রহসনের নির্বাচন জুলাই বিপ্লবের শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি ছাড়া কিছুই না'।

ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স দাবি জানাচ্ছে যে, জাল ভোট, বুথ টেম্পারিং এবং বিরোধী এজেন্টদের বের করে দেয়ার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং আইনজীবী সমাজের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ থাকে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন