জেপিমরগানের কর্মকর্তা লরনা হাজদিনি তার বিরুদ্ধে আনা ‘যৌন দাসী’ বিষয়ক অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। এ সপ্তাহে তার সাবেক এক সহকর্মী উচ্চপ্রোফাইল মামলা দায়ের করেছেন। সে বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি কখনো কোনো অনুপযুক্ত আচরণে জড়াননি এবং অভিযোগে উল্লেখ করা ঘটনাস্থলেও কখনো যাননি। তার আইনজীবীরা দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট-এ শক্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, মামলায় আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। মামলাটি সোমবার নিউ ইয়র্ক কাউন্টি সুপ্রিম কোর্টে ‘জন ডো’ ছদ্মনামে দায়ের করা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, জেপিমরগানের লিভারেজড ফাইন্যান্স টিমের ৩৭ বছর বয়সী এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হাজদিনি বাদীকে নির্যাতন করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি রোহিপনল ও ভায়াগ্রার মতো ওষুধ ব্যবহার করে তাকে অচেতন করেন এবং তার নির্দেশ না মানলে বোনাস বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন। ডেইলি মেইল প্রথমে এই মামলার খবর প্রকাশ করে।
জেপিমরগান সব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। ব্যাংকের এক মুখপাত্র বলেন, তাদের মানবসম্পদ বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ আইনজীবীদের বিস্তৃত তদন্তে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই তদন্তে টিমের ফোন রেকর্ড ও ইমেইলও পর্যালোচনা করা হয়। তিনি আরও জানান, বেশ কয়েকজন কর্মী তদন্তে সহযোগিতা করলেও অভিযোগকারী এতে অংশ নেননি এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট-এর সূত্র অনুযায়ী, অভিযোগকারী ২০২৫ সালের মে মাসে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, যেখানে বর্ণ ও লিঙ্গভিত্তিক হয়রানি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়। পরে তিনি প্রতিষ্ঠান ছাড়ার জন্য কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দাবি করে সমঝোতার চেষ্টা করেন। মামলায় জেপিমরগান চেজকেও আসামি করা হয়েছে, যেখানে ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আচরণ ও সঠিকভাবে তদন্ত না করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে অভিযোগকারী সরাসরি হাজদিনির অধীনে কাজ করতেন না। দু’জন একই টিমে থাকলেও আলাদা রিপোর্টিং লাইনে ছিলেন। সূত্র জানায়, হাজদিনি রিপোর্ট করতেন ম্যানেজিং ডিরেক্টর ব্র্যান্ডন গ্রাফিওর কাছে, আর অভিযোগকারী কাজ করতেন আরেক ম্যানেজিং ডিরেক্টর জন ওয়োল্টারের অধীনে। ফলে অভিযোগকারীর বার্ষিক বোনাসে হাজদিনির কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, যা মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এক সহকর্মী অভিযোগকারীকে ‘সামাজিকভাবে অস্বস্তিকর’ কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে দক্ষ বলে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে হাজদিনির সহকর্মীরা তাকে ‘শীর্ষ পারফরমার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, এই অভিযোগ তার সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে।
হাজদিনি নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্টার্ন স্কুল অব বিজনেসের স্নাতক এবং তিনি ‘মাইন্ডস ম্যাটার’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, যা সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা করে। অভিযোগকারী একাধিকবার যোগাযোগের অনুরোধ সত্ত্বেও কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি এর আগে হুলিহান লোকি, ক্রেডিট সুইস, টিসিজি ক্যাপিটাল মার্কেটস, মরগান স্ট্যানলি এবং দ্য কার্লাইল গ্রুপে কাজ করেছেন। পরে জেপিমরগানে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি নিউ ইয়র্কভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্রেগাল সেজমাউন্ট-এর সঙ্গে যুক্ত, যা সফটওয়্যার, ডিজিটাল অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা আইটি এবং আর্থিক সেবা খাতে বিনিয়োগ করে।
এখনো মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে আদালতের নথি ‘অ্যাবসোলিউট প্রিভিলেজ’-এর আওতায় থাকায়, সঠিক ও সদিচ্ছা নিয়ে প্রতিবেদন করলে গণমাধ্যম মানহানির দায় থেকে সুরক্ষিত থাকে। ফলে মামলাটি নিয়ে প্রতিবেদন করা আইনত বৈধ।
