জরিপের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জরিপ সংস্থারই এক শীর্ষ কর্তা

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলাফল

জরিপের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জরিপ সংস্থারই এক শীর্ষ কর্তা

ফন্ট সাইজ:

প্রতি নির্বাচনের পরই বুথফেরত জরিপ সম্প্রচারের হিড়িক পড়ে যায়। এবারও তাই হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের ফলাফল নিয়ে বিভিন্ন জরিপ সংস্থার জরিপের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন একটি প্রখ্যাত জরিপ সংস্থার এক কর্তা। আশ্চর্য়ের বিষয়- সি ভোটার, টুডে’জ চাণক্য এবং অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার মতো নামী জরিপ সংস্থা বুধবার নিজেদের সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশই করেনি। বৃহস্পতিবার অবশ্য টুডে’জ চাণক্য সংস্থা নিজেদের রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। কিন্তু অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া নিজেদের জরিপের রিপোর্ট প্রকাশই করবে না বলে জানিয়েছে।

অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া সংস্থার শীর্ষ কর্তা প্রদীপ গুপ্তা বলেছেন, “আমরা সচরাচর মানুষের সামনে মুখোমুখি কথা বলে সমীক্ষা করতে চাই। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ৬০-৭০ শতাংশ মানুষ নিজেদের মুখ বন্ধ রাখছেন। তাই মাত্র ২০-৩০ শতাংশ মানুষের মতামত নিয়ে আমরা কোনও সংখ্যা বলতে চাই না।”

অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার কর্তার বক্তব্য, “এমন কোনও তথ্য আমরা প্রকাশ করতে চাই না, যাতে আমাদের নিজেদেরই আস্থা নেই।” বস্তুত তিনি  স্বীকার করে নিয়েছেন বাংলার মন বুঝতে তার সংস্থার সমীক্ষকরা ব্যর্থ হয়েছেন।

আসলে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বুথফেরত জরিপ কাজটা বরাবরই বেশ কঠিন। এখানকার রাজনীতি সচেতন মানুষ সচরাচর কোনও সমীক্ষক সংস্থাকে সঠিক তথ্য দেন না। তবে এই নীরবতাকে উদাসীনতা বলতে নারাজ জরিপ সংস্থা। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কৌশলগতভাবে তথ্য গোপন রাখার প্রবণতার মিশ্রণ এতে কাজ করে। বুথফেরত জরিপ সাধারণত ভোট দেয়ার পর স্বেচ্ছায় তথ্য প্রকাশের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু যদি অনেকেই উত্তর দিতে অস্বীকার করেন বা ভুল তথ্য দেন, তাহলে পুরো ডেটাই বিকৃত হয়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ করে মেরুকৃত পরিবেশে নীরব ভোটাররা এক্সিট পোলের মডেলে একটি বড় অদৃশ্য ফাঁক তৈরি করেন। এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয় ননরেসপন্স বায়াস, যেখানে যারা উত্তর দিতে চান না, তারা প্রায়শই সমীক্ষার কাঠামোর সঙ্গে খাপ খান না, ফলে তাদের মতামত যথাযথভাবে ধরা পড়ে না। নীরব থাকার কারণও এক নয়। কোথাও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ভয়, কোথাও ব্যক্তিগত সতর্কতা, আবার কোথাও কৌশলগত নীরবতা-সব মিলিয়েই এই প্রবণতা তৈরি হয়। ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচনে, অল্প সংখ্যক নীরব ভোটারও একাধিক আসনের ফল ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তাই আধুনিক নির্বাচনী বিশ্লেষণে তাদের ‘হিডেন সুইং ফ্যাক্টর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রকাশ্যে আসা ট্রেন্ডের চেয়েও অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় অপ্রকাশিত জনমত।

তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গের নারী ভোটাররা নির্বাচনের ফলাফলে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখেন। যে তথ্য অনেক সময় বুথফেরত সমীক্ষায় ধরা পড়ে না।
সম্ভবত সেকারণেই সেই ২০১৬ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে জরিপের ফলাফল অন্তত পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে অন্তত মেলেনি। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া সংস্থার শীর্ষ কর্তা প্রদীপ গুপ্তা হয়তো সেকারণেই এবার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। স্বাভাবিকভাবেই অন্য জরিপ সংস্থাগুলোর জরিপ এবার আরও বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল। শেষ পর্যন্ত এই মৌন ভোটাররাই কি বাংলার মসনদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন? উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন