দেশের স্বার্থে আমরা একসঙ্গে কাজ করবো

দেশের স্বার্থে আমরা একসঙ্গে কাজ করবো

ফন্ট সাইজ:

দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। একইসঙ্গে এই সংসদকে পুরো বাংলাদেশ আখ্যায়িত করে সংসদকে ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা ও সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে ধন্যবাদ জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংসদে আমার আগে বিরোধীদলীয় নেতা বক্তব্য রেখেছেন, উনার পরে আমি বক্তব্য রাখছি। উনি যেই কথাগুলো বলেছেন তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি কথাগুলো বলছি, নিশ্চয়ই সবাই বুঝতে পারছেন আমাদের লক্ষ্য এক। আমাদের উদ্দেশ্য এক। আমাদের গন্তব্য এক। লক্ষ্য কি? লক্ষ্য হচ্ছেÑ বাংলাদেশের মানুষ। উদ্দেশ্য কি? উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ। গন্তব্য কি? একটি স্বনির্ভর নিরাপদ আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ। আজকে হয়তো জুলাই সনদ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, আমি সেই ডিবেটেই যাবো না। কারণ একটু আগেই আমি বলেছি, আমাদেরও লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, গন্তব্য হচ্ছে- এই দেশ, দেশের জনগণ এবং আত্মনির্ভরশীল সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, আমি আবারো বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে একমত পোষণ করছি, আমরা গত প্রায় দেড় মাস ধরে আলোচনা করেছি এই সংসদে। হ্যাঁ আমরা অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছি। বিলের বিষয়ে কোন কোন বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। কোন কোন বিষয়ে হয়তো আমাদের দ্বিমত আছে। মাননীয় স্পিকার পরিষ্কারভাবে আমার দলের অবস্থান থেকে আমি বলতে চাই যে সকল বিষয়ে আমাদের দ্বিমত রয়েছে। আমরা বিরোধী দলের সদস্যদের সঙ্গে বসবো। আলোচনা করবো। দেশের স্বার্থে আমরা সমাধান বের করবো।
তারেক রহমান বলেন, এখানে সকলেরই মনে আছে, রোজার সময় বিরোধীদলীয় নেতা আমাকে উনাদের ইফতার পার্টিতে দাওয়াত করেছিলেন, আমরা সেখানে গিয়েছিলাম, আমি গিয়েছিলাম- আমার সঙ্গে আজকের হোম মিনিস্টার সঙ্গে ছিলেন, আমরা সেখানে উনাদেরকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম, ওটা উনাদের দলীয় সিদ্ধান্তের কারণ সেটা গ্রহণ করেননি। সেটা উনাদের পলিসির ব্যাপার। কিন্তু আমরা উনাদেরকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে, আমরা চাই যে ডেপুটি স্পিকার আমরা উনাদের কাছ থেকে চেয়েছিলাম। আজকে আবারো পরিষ্কারভাবে আমি বলতে চাই, এই প্রস্তাবটি মাননীয় বিরোধী দলের নেতা এবং মাননীয় বিরোধীদলীয় সদস্যবৃন্দ আমাদের এই প্রস্তাবটি এখনো ওপেন আছে। আমরা এখনো এই প্রস্তাবটি ওপেন রেখেছি। এই প্রস্তাবটি দেওয়ার মাধ্যমে আবারো আমরা আমাদের পরিষ্কার ইনটেনশন বোঝানোর চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, যেভাবে ঠিক বিরোধীদলীয় নেতা, সেদিন বলেছিলেন যে, আসুনÑ আমরা দুই দল মিলে যদি একসঙ্গে একটি কমিটি গঠন করি, যেখানে জ্বালানির বিষয়ে যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে আমরা আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারবো। উনারা যেরকম উনাদের ইনটেনশন দেখিয়েছেন, আমরাও সেই সময় আমাদের ইনটেনশন পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছি। একইভাবে এই সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে আমি উনার বাসায় গিয়েছিলাম। উনার বাসায় গিয়ে দেশ পরিচালনা করার জন্য উনাদের সহযোগিতা আমি চেয়ে এসেছিলাম। একইভাবে আমি নাহিদ ইসলামেরও বাসায় গিয়েছিলাম। এনসিপি’র কাছে আমি বলেছিলাম দেশ পরিচালনায় আপনারাও সহযোগিতা করুন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এবং বিরোধীদলীয় নেতা উভয়ে আমরা বলেছি সমগ্র বাংলাদেশ এই সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাকিয়ে আছে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য। তাকিয়ে আছে একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশের জন্য। সে কারণেই কিন্তু আমরা মনে করি, এটি হয়তো বোঝার ভুল হতে পারে বা দেখার ভুল হতে পারে। হতেই পারে, মানুষ মাত্র ভুল হতেই পারে। কিন্তু আমাদের পক্ষ থেকে সরকারের পক্ষ থেকে আমি বলেছি এবং বলছি ইনশাআল্লাহ্। ভবিষ্যতেও বলবো এখনো, বর্তমানেও বলছি- আমরা চাই একসাথে কাজ করবো।

তিনি আরও বলেন, কাজ করতে গেলে অতীতে যতবারই গণতন্ত্র চলতে শুরু করেছিল, বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গণতন্ত্র যতবারই বাধাগ্রস্ত হয়েছে দেশের অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গণতন্ত্র যতবারই বাধাগ্রস্ত হয়েছে, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গণতন্ত্র যতবারই বাধাগ্রস্ত হয়েছে দেশের মানুষের কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গণতন্ত্র যতবারই বাধাগ্রস্ত হয়েছে দেশের অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কাজেই এই মুহূর্তে আমরা সকলে যদি গিয়ে একটি সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞেস করি তুমি কি চাও? আমি বিশ্বাস করি একজন সাধারণ মানুষ বলবে আমরা শান্তি চাই। একজন সাধারণ মানুষ বলবে আমরা নিরাপদ রাস্তা চাই। একজন সাধারণ মানুষ বলবে আমি আমার লেখাপড়া শেষ করে একটি কর্মসংস্থান চাই। একজন গৃহিণী বা একজন নারী বলবে আমি নিরাপদে রাস্তায় যেতে চাই।
তারেক রহমান বলেন, খুব সম্ভবত বাংলাদেশের মানুষ যত না রাজনৈতিক ডিবেট চায়, যত না রাজনৈতিক বিভিন্ন বক্তব্য চায়, তার থেকে তাদের সমস্যার সমাধান চায়। আজকে এই মুহূর্তে আমার দলের সদস্যরা এবং ক্ষেত্রবিশেষে আমি দেখছি বিরোধী দলের বন্ধুরাও আমার কিছু কিছু কথায় টেবিল থাবড়াচ্ছে। এই যে চেয়ারটা আপনি দেখছেন, যেই চেয়ারে আমি এখানে বসছি আপনার সামনে, এই চেয়ারটি খুব কঠিন একটি চেয়ার। এই চেয়ারটি দেখলে মনে হয় বসতে খুব আরাম। আসলে মোটেও আরামের না। এই চেয়ারটিতে বসলে প্রতি মুহূর্তে মনে হয় যে, আগুনের তপ্ত হিট আসছে। হাসার কিছু নেই। আমি যা ফিল করি, আমি আপনাদেরকে তাই বলছি। এই চেয়ারের থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আপনার সামনে বক্তব্য আমি হয়তো অনেক পপুলার কথা বলতে পারতাম। যেটাতে আরও অনেক বেশি তালি হতো। কিন্তু এই চেয়ার আমাকে বলে যে, আমি সবসময় পপুলার কথা বলতে পারি না। আমাকে সেটাই বলতে হবে। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমারও তো ইচ্ছা করে পপুলার কথা বলতে, যাতে জোরে জোরে তালি পাই। কিন্তু এই চেয়ার প্রতি মুহূর্তে আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ইউ হ্যাভ টু টেক দি রাইট ডিসিশন নট দি পপুলার ডিসিশন।

তিনি বলেন, আজকে এই সংসদের এই সবুজ চেয়ারে যারা বসে আছেন, আমি মনে করি আজকে বোধহয় আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আসুন আমরা পপুলার ডিসিশনে আলাপ করবো না। আমরা আলাপ করবো সঠিক ডিসিশনের ব্যাপারে। রাইট ডিসিশনের ব্যাপারে। আজকে এই সংসদ অধিবেশনের শেষ দিন। আজকে অধিবেশন শেষ হয়ে যাবে। আমার সংসদ নেতা হিসেবে আমার দলের সদস্যদের কাছে, বিরোধীদলীয় বন্ধুদের কাছে, সহকর্মীদের কাছে, সদস্যদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে যে, আসুন আগামী অধিবেশন যেটি শুরু হবে, সেখানে আমরা আলোচনা করবো, আমরা কতো দ্রুত দেশে বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করতে পারি, আমরা আলাপ করতে চাই আগামী সংসদে দ্রুত আমরা কতো বেশিসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান দেশেই হোক বিদেশেই হোক তৈরি করতে পারি।
তারেক রহমান বলেন, এই সংসদে দাঁড়িয়ে আমি আলাপ করতে চাই যে, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আমাদের হাসপাতালগুলোতে কতো দ্রুত শিক্ষা এবং চিকিৎসা সুবিধা আমরা পৌঁছে দিতে পারি। আমি বিরোধীদলীয় সহকর্মীদের কাছে আহ্বান জানাতে চাই। আসুন আমরা ডিবেট করবো, আমরা বিতর্ক করবো, আমরা আলাপ করবো, আমরা আলোচনা করবো, আমরা বসবো, কথা বলবো কিন্তু কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না।

অতীতে আমরা দেখেছি ব্যর্থ করার জন্য ১৭৩ দিন হরতাল ডাকা হয়েছিল। সেই সরকার হয়তোবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সরকার হয়তো পরবর্তীতে ক্ষমতায় থাকেনি। ক্ষমতায় আসেনি। কেউ একজন সদস্য সেটি আমার দলের সদস্য হোক, সেটি বিরোধীদলীয় সদস্যরা হোক। বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন, যে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এই ১৭৩ দিনের হরতালে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যেই ক্ষতির মাসুল আজও আমাদেরকে টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছে বছরের পর বছর যুগের পর যুগ। তিনি বলেন, এই সংসদ মানে পুরো বাংলাদেশ, এই সংসদ মানে, এই সংসদের সফলতা মানে ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এটি সংসদের রীতি, সংসদের নীতি। একটি দল সরকারে থাকবে, একটি দল বিরোধী দলে থাকবে। সেজন্যই আমি বারে বারে বলছি এই সংসদের দ্বারা গঠিত সরকার। এই সরকারের টিকে থাকা এই সরকারের সফলতা মানেই কিন্তু সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়া। কারণ আমি বিশ্বাস করি, এই সংসদ এমন একটি সংসদ যা বাংলাদেশের অতীতে কোনোদিন হয়নি। বর্তমান সংসদ এবং ভবিষ্যতে হবে যেটি সেটি হলো উভয়পক্ষ। দেশের স্বার্থে আমরা একসঙ্গে কাজ করবো। আমরা উভয়পক্ষ আসুন কেউ কাউকে ব্যর্থ করতে চাইবো না। কারণ আপনি এবং আমি আপনার এবং আমরা মিলেই কিন্তু পূর্ণ সংসদ। কাজেই আপনি ব্যর্থ হলে আমি ব্যর্থ, আমি ব্যর্থ হলে আপনি ব্যর্থ। এই কথাটি আমাদেরকে মনে রাখতে হবে এবং আমরা যেকোনো একজন ব্যর্থ হলেই বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমরা কেউই এই সংসদের কোনো একজন সদস্য, আমরা শয়নে-স্বপনে কেউ ব্যর্থ বাংলাদেশ দেখতে চাই না।

তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা সঠিকভাবেই বলেছেন যে, আজকের এই সংসদের দিকে সমগ্র বাংলাদেশ তাকিয়ে, এই সংসদের দিকে পৃথিবীর প্রতিটি কর্নারে যেখানেই একজন বাংলাদেশি আছে, সম্ভবত প্রত্যেকটি মানুষ এই সংসদের বর্তমান এবং এই সংসদের ভবিষ্যতে আছে- একটি দৃঢ় প্রত্যাশা আশা নিয়ে আছেন।

তারেক রহমান বলেন, মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতাকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, কৃষকদের এই সমস্যা থেকে বের করে আনার জন্যই আমরা আমাদের ম্যানিফেস্টোতে কৃষক কার্ড রেখেছিলাম। আবারো নির্দ্বিধায় বলতে হবে, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে আমরা সরকার গঠন করার পরে দ্রুততার সঙ্গে আমরা চেষ্টা করেছি, সেই কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। হয়তো অনেকেই বলতে পারে যে, কয়জনকে আপনারা দিয়েছেন কৃষক কার্ড? আমরা দেয়া শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা কৃষক বলতে যাদেরকে বোঝায় তাদের কাছে ধীরে ধীরে আমরা পৌঁছাবো।
তিনি বলেন, খুব সঠিকভাবেই বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, এই দেশের শিক্ষাঙ্গন বা ছাত্রদের কথা। আমরা অবশ্যই চাই না আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলোর যে অবস্থা, শিক্ষার্থীদের যে অবস্থাÑ সেটি এরকম থাকুক। সেটি অবশ্যই পরিবর্তিত হোক। বিরোধীদলীয় নেতার এক সন্তান বৃটেনে থাকেন। যেভাবেই হোক রাজনৈতিক কারণে বহু বছর আমাকেও বৃটেনে থাকতে হয়েছিল। আমি দেখেছি সেই দেশের স্কুলগুলো কেমন। যখন স্কুলগুলো দেখতাম, সেই দেশের স্কুলের বাচ্চাদেরকে দেখতাম- এই বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছি বলেই খুব স্বাভাবিকভাবেই মনে হতো আহা! আমার দেশের

স্কুলগুলো কেন এমন হতে পারে না?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী জুলাই মাস থেকে পর্যায়ক্রমিকভাবে ধীরে ধীরে প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদেরকে স্কুল ব্যাগ দেবো, পর্যায়ক্রমিকভাবে বাচ্চাদের আমরা স্কুল ড্রেস দেবো এবং পর্যায়ক্রমিকভাবে মাননীয় স্পিকার আমরা বাচ্চাদেরকে জুতার ব্যবস্থাও ইনশাআল্লাহ করবো।
তিনি বলেন, সার্বিক বিশ্ব পরিস্থিতিতে আমরা দেখেছি বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশ মধ্যপ্রাচ্যে যে ক্রাইসিস যাচ্ছে যে যুদ্ধ অবস্থা তার মধ্যে তার কারণে পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেকটি দেশ জ্বালানির সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। যার তাপ হয়তো বাংলাদেশে এসেও লেগেছে। বাংলাদেশের মানুষ বেশ কিছুদিন কষ্ট পেয়েছে এটিতে আমি বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে এ ব্যাপারে কমবেশি একমত। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সেদিন একটি প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছিল যে এই সমস্যাটি যদি আমরা উভয় একসঙ্গে বসে মিটমাটে বসি, আলোচনা করি তাহলে হয়তো মিটমাট করা বা একটা শুরু বের করা সম্ভব হবে। আমাদের প্রস্তাবনা বিরোধীদের কাছে উপস্থাপন করেছি। আমরা যৌথভাবে একটি কমিটি গঠন করেছি এ ব্যাপারে আলোচনা করে কী সিদ্ধান্ত নেয়া যায় যাতে দেশের মানুষ স্বস্তিতে থাকতে পারে। আমি মনে করি, আমরা আজও এই সমস্যার সমাধান উভয়পক্ষ একসঙ্গে বসে নিশ্চয়ই ইনশাআল্লাহ বের করতে সক্ষম হবো।
তিনি বলেন, এই সংসদে আজকে দাঁড়িয়ে আমি আমার অবস্থান থেকে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই। অনুরোধ জানাবো মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতাকে। আমি প্রথমেই বলেছি এই সংসদ বাংলাদেশের মানুষের জন্য, এই সংসদ বাংলাদেশের জন্য। যে কথাটি বলছিলাম আমি বিরোধীদলীয় নেতা এবং উপনেতা স্বাভাবিকভাবে যেহেতু উনারা নেতা এবং উপনেতা স্বাভাবিকভাবে লিডার তো কিছুটা প্রায়োরিটি পাবেই। উনাদের দু’জনকে বলবো দয়া করে আপনাদের বিষয়গুলো যদি আমার অফিসে একটা কপি পাঠিয়ে দেন, আমি নিজেও চেষ্টা করবো বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার।

প্রথম অধিবেশনের সমাপ্তি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ২৫তম দিনে শেষ হয়েছে। গত ১২ই মার্চ জাতীয় সংসদে প্রথম অধিবেশ শুরু হয়। তার আগে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সমাপনী বক্তব্য রাখেন। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার পর প্রেসিডেন্টের ঘোষণা পাঠ করার মাধ্যমে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সমাপনী বক্তব্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম অধিবেশন শেষ হয়। স্পিকার সমাপনী ভাষণে তিনি বলেন, প্রথমবার স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদ পরিচালনায় সরকার ও বিরোধী দলের সকল সদস্যের সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এ সংসদে মোট ২২০ জন সদস‌্য প্রথমবার সংসদ-সদস‌্য হয়েছেন। এরপরেও আপনাদের গঠনমূলক আলোচনা ও সহনশীল আচরণ আমাকে মুগ্ধ করেছে।

MD.Hafiz Uddin

২ মাস আগে

I am afraid of the condition of press liberty.

Hafiz

২ মাস আগে

Please press my earlier opinion.

Lima

২ মাস আগে

একসঙ্গে সব সন্ত্রাসী দের আমারা জামিন দিয়ে দিব।

আ ন ম হাবিবুল্লাহ

২ মাস আগে

শুরুটা সুন্দর। কোন দৃশ্যমান উন্নয়ন নয়, হাত দিচ্ছে টেকশই উন্নয়নে। যেমন এসেই ১০,০০০ পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ। স্যাটেলাইট বা টানেলের মত অপ্রয়োজনীয় উন্নয়ন নয়। সহায়তা দিচ্ছে প্রান্তিক হত দরিদ্র পরিবার এর হাতে। এই উন্নয়ন চোঁখে দেখা যাবেনা। দেশের অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে দিবে ভেতর থেকে।

মন্তব্য করুন