জাইমার বই পড়া

জাইমার বই পড়া

ফন্ট সাইজ:

বাইরে সোনাঝরা রোদ। ঢাকায় বিমানবন্দরে নেমেই অবাক বিস্ময়ে চেয়ে রইলো জাইমা। এত সুন্দর বাংলাদেশ। মনে হচ্ছে সবুজ রঙে শিল্পী কোনো ছবি এঁকেছেন। এই বাংলাদেশকে রেখে দূরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন বেশ কয়েক বছর। শীতল বাতাস বইছে। এটাই শীতকাল। দু’চোখ মেলে অনেকদিন পর দেশকে দেখছেন জাইমা। প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন। মনে আছে ছোটবেলায় তিনি বইমেলায় যেতেন বাবার হাত ধরে। সেই বইমেলাতে কিনেছিলেন কিছু কার্টুন সিরিজ, ছোটদের গল্প আর ছড়ার বই। জাইমা জানেন যেকোনো নতুন কিছু জানতে হলে বইয়ের বিকল্প নেই।

জাইমার বয়স তখন আট বছর। বই পড়তে ভালোবাসেন। বাবার কাছে বই নিয়ে নানান আবদার করেন। তার আগ্রহ ছিল রঙিন প্রচ্ছদের হাকল বেরি ফিন, রুশ দেশের রূপকথা, ফেলুদা সহ অনেক অনেক বই। পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি এই বইগুলো পড়তে তার খুব ভালো লাগে। বইয়ের রাজ্যে হারিয়ে যেতে চান। পাখির দেশে যেতে মন চায়। ফুলের দেশে যেতে মন চায়। তার মন চায় পরীর দেশে ঘুরে বেড়াতে। এর মাঝে টেলিভিশনের খবরে দেখলেন ঢাকায় বইমেলা হচ্ছে। বইমেলাতে নানা রকম বই পাওয়া যায়। হরেক রকম বই। ছোটদের, বড়দের জন্য কতো রকমের যে বই। দেশের নামকরা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণ করে থাকে। বই তার প্রিয়। বইয়ের মধ্যে কতো বিষয় থাকে। নিত্যনতুন বিষয় জানতে পেরে আনন্দ হয়। বই ভালোবাসে না এমন কাউকে পাওয়া যাবে না। জাইমার দাদি তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী। জাইমা বইমেলায় যাবার জন্য বায়না ধরলেন। কিন্তু বইমেলাতে গেলে অনেক হাঁটতে হয়। কারও সাহায্য ছাড়া এতদূর হাঁটা তো জাইমার জন্য সম্ভব হবে না। জাইমার ভাবনায় এলো তাহলে বইমেলাতে ছোটদের যাবার জন্য কি কোনো ব্যবস্থা নেই। ব্যবস্থা থাকলে তার মতো ছোটরা বইমেলাতে যেতে পারবে। অবশ্যই দাদিকে বলবে যেন তাদের মতো ছোটদের জন্য সহজে বইমেলায় যাবার ব্যবস্থা করতে। তার দাদি এমনিতে শিশুবান্ধব মানুষ। তিনি শিশুদের মনন ও মানসিকতা উন্নয়নের জন্য ভাবেন। বইমেলাতে হয়তো শিশুদের জন্য আলাদা কর্নার করার কথাও ভাববেন।

বলছি, ২০০৪ সালের কথা। গল্পটি এই জন্য বলা যে, জাইমাকে নিয়ে তখন আমি লিখেছিলাম ‘জাইমার বইমেলা’ নামে একটি ছোটদের বই। বইটির ইংরেজি ভার্সনও করা হয়েছিল। বইটি প্রকাশ করেছিল নামকরা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অনন্যা।

জাইমা এখন অনেক বড় হয়েছেন। বাবা তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে এসেছেন। বাবার সঙ্গে গেলেন বইমেলায়। দেখলেন সেখানে ছোটদের জন্য আলাদা কর্নার রয়েছে। দেখে আনন্দ পেলেন। জাইমা বেড়ে উঠেছেন যুক্তরাজ্যের মতো একটি উন্নত দেশে। ব্যারিস্টারি পড়েছেন। প্রিয় বাংলাদেশে এসেছেন অনেকদিন পর। নির্বাচনে জয়লাভ করে বাবা এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী। দিনরাত তিনি ছুটে বেড়াচ্ছেন দেশের নানা প্রান্তে। দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য কাজ করছেন। মাঝে মাঝেই তাকে বাবার সঙ্গে দেখা যায়। রাজনৈতিক কোনো জনসভায়, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অথবা অসহায় অসচ্ছল মানুষের মাঝে। টাঙ্গাইলে চলে যাচ্ছেন কৃষক কার্ড বিতরণ করার জন্য। আবার খেলার মাঠে খেলা দেখতেও যাচ্ছেন।

সিনেমা হলে যাচ্ছেন সিনেমা দেখতে। মানবতার জন্য কাজ করতে তার অনেক ভালো লাগে। এটা শিখেছেন পরিবার থেকে। তার দাদা জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট। দাদি ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বাবাও এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী। অনেক সময় ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও হুটহাট করে কোথাও যাওয়া যায় না। যেতে পারেন না। কিছু নিয়মকানুন তাকে মানতেই হয়। তবুও এই নিয়মের বেড়াজাল বা গণ্ডি পেরিয়ে কোথাও ছুটে যান। তিনি ছুটে যান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে। সেখানে হাজার হাজার বই দেখলেন। নিজে ঘুরে পুরো কেন্দ্র দেখে অবাক হলেন। দেশের ভেতর বই নিয়ে এত কাজ হয়! বই পড়া কর্মসূচির কথা শুনে বিস্মিত হলেন। নিজে কিনে নিলেন বাঙালির চিন্তামূলক রচনা সংগ্রহ। তিনি মনে করেন দেশের মানুষের উন্নতি করতে হলে অর্থনীতির পাশাপাশি লেখাপড়াও অত্যন্ত জরুরি। নানা ধরনের বই পড়তে হবে। বই মানুষকে উন্নত করে। মানুষের মানসিক উন্নতি সাধনে সাহায্য করে। প্রতিটি শিশুকে পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি সৃজনশীল বই পাঠে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাহলেই একদিন শিশুরা বড় হয়ে দেশপ্রেম শিখবে। দেশকে ভালোবাসতে শিখবে।

ট্যাগসমূহ: