বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন দায়িত্ব নিয়েই আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন তামিম ইকবাল। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দেশের ক্রিকেটের আগামী দিনের রূপরেখা তুলে ধরেন বিসিবির এই অ্যাডহক কমিটির সভাপতি। দর্শক সুবিধা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ঘরোয়া কাঠামোর খোলনলচে বদলে ফেলার ঘোষণা এসেছে তার কণ্ঠে। বোর্ডে জমে থাকা পুরনো জঞ্জাল দ্রুত সরাতে চান সাবেক এই অধিনায়ক। সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে জাতীয় ক্রিকেট লীগ বা এনসিএলে দ্বিতীয় একাদশ চালুর যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি মিরপুরের গ্যালারিতে ছাউনি নির্মাণ ও পুরো স্টেডিয়ামকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথায় জোর দিয়েছেন তামিম। দেশের ক্রিকেটে পালাবদলের এই সন্ধিক্ষণে সব বিতর্ক পেছনে ফেলে শুধুই উন্নয়নে ফোকাস করার দৃঢ় আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে নিজের পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে নতুন সভাপতি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে এখানে এই অর্গানাইজেশনের আন্ডারে যদি ইচ্ছা থাকে তবে অনেক কাজই ফাস্ট ট্র্যাক করে সম্পন্ন করা সম্ভব।’
স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিসিবি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সাধারণ দর্শকদের দুর্ভোগ কমাতে মিরপুর স্টেডিয়ামের যেসব অংশে ছাউনি নেই, সেখানে নতুন করে শেড বসানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্কোরবোর্ড এলাকায় টিকিটের দাম কম থাকায় সবচেয়ে বেশি দর্শক সমাগম ঘটে। প্রচণ্ড গরমে তারা যেন কষ্ট না পায়, সেজন্য প্রায় সাতাশ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে ক্যানোপি বা ছাউনি তৈরির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশ রক্ষায় পুরো স্টেডিয়ামের ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে বোর্ড। প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয় বোর্ডকে। সোলার সিস্টেম চালু হলে দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমে আসবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ চলছে। এ প্রসঙ্গে নতুন
বোর্ড প্রধান বলেন, ‘আমরা ভার্বালি সবাই এগ্রিড হয়েছি যেখানে আমরা একটা ক্যানোপি সেটআপ করে দিব প্রায় ২৭ হাজার স্কয়ার ফিটের মতো।’ অবকাঠামোগত এই মেগা উদ্যোগ দেশের ক্রিকেটের চেহারা পুরোপুরি পাল্টে দিতে পারে। দর্শক সুবিধা বাড়লে মাঠে উপস্থিতিও স্বাভাবিকভাবে আরও অনেক বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টদের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে বোর্ডের ভেতরে ও বাইরে।
এনসিএলে দ্বিতীয় একাদশের নতুন দিগন্ত
ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনতে বিসিবি এখন থেকে জাতীয় ক্রিকেট লীগে প্রথম একাদশের পাশাপাশি দ্বিতীয় একাদশ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটের আদলে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতদিন শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু ক্রিকেটারই ঘরোয়া শীর্ষ টুর্নামেন্টগুলোয় নিয়মিত খেলার সুযোগ পেতেন। ফলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিভাগের খেলোয়াড়দের জন্য জাতীয় দলে ওঠার পথটা ছিল অত্যন্ত কঠিন। নতুন এই পদ্ধতি চালু হলে প্রতিটি দলের একটি করে দ্বিতীয় একাদশ থাকবে। এর ফলে নতুন করে আরও প্রায় দেড় শতাধিক ক্রিকেটার নিয়মিত খেলার সুযোগ পাবেন। দীর্ঘদিন ধরে যারা দলের বাইরে থাকতেন, তারা এখন নিজেদের প্রমাণ করার মঞ্চ পাবেন। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা তারকাদের জন্যও ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি হবে। এই টুর্নামেন্টটি হবে তিন দিনের। সিস্টেমটি নিয়ে সভাপতি বলেন, ‘এই কারণ আমাদের ক্রিকেটীয় ইতিহাসে এমন কাহিনী খুব নেই যে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিভাগ থেকে জাতীয় দলে আসছে।’ নতুন প্রতিভা অন্বেষণে দ্বিতীয় একাদশের ম্যাচগুলো ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এটি বোর্ডের একটি দারুণ মাস্টারস্ট্রোক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে সর্বমহলে।
শুধু সাকিব নয়, বলতে হবে মাশরাফি-দুর্জয়ের কথাও
ক্রিকেট পাড়ায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় সাকিব আল হাসানের জাতীয় দলে ফেরা। গত কিছুদিন ধরেই তাকে নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। তবে বিসিবি প্রধান মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সাকিবের পাশাপাশি আরও দুজন সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও নাঈমুর রহমান দুর্জয়ও বর্তমানে একই রকম আইনি জটিলতার মাঝে আছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই এই তিন তারকা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
বোর্ডের আইনগত সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে নিলেও, ক্রিকেটীয় দিক থেকে তাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন নতুন সভাপতি। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আইনি বাধা দূর হলে বোর্ড তাদের সাদরে গ্রহণ করবে। মাশরাফি ও নাঈমুর খেলা ছাড়লেও সাকিব এখনও খেলছেন। তাই তার ফেরা নিয়ে আগ্রহ বেশি। সাকিব ইস্যুতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বোর্ড সভাপতি বলেন, ‘আমার অনুরোধ, যখন এই প্রশ্নটা করেন আমাদের তিনজন ক্রিকেটার, তিনজন সাবেক অধিনায়ক, সাকিবের সঙ্গে মাশরাফি ও নাঈমুরও একই ধরনের পরিস্থিতিতে আছে।’ অর্থাৎ বোর্ড সবার প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেই সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যেতে চায়, তা তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট।

Rushdi
২ মাস আগেমাশরাফি, নাঈমুর ও সাকিব সব গুলা হাসিনারে সাথে ছিল। বিনপি কোন আক্কেলে এদের কথা আলোচনা করছে। তামিম বাটপারি করে হাসিনার সাথে পতনের দুই দিন আগেও দেখা করেছিল। রাজনীতি তে লজ্জা বলে কোনো শব্দ নাই। বিনপিকে ধানক্ষেতের শুভেচ্ছা। আল্লাহ তোদের ধানক্ষেতেই যেন আবার পাঠায়। বেঈমান bnp।