ভারপ্রাপ্ত কোচ আবদুল কাইয়ুম সেন্টুর অধীনে ছন্দে ফিরে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। লীগ ও ফেডারেশন কাপ মিলে টানা তিন ম্যাচে জয় দেখে সাদা-কালোরা। গতকাল সেই জয়যাত্রায় ইতি টেনে দিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। কুমিল্লায় বাংলাদেশ ফুটবল লীগের (বিএফএল) ১৫তম রাউন্ডের লড়াইয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন মোহামেডানকে ২-১ গোলে হারায় কিংস। যদিও ম্যাচের শুরুতে লিড নিয়েছিল মোহামেডান। তবে গোল হজমের পর টানা দুই গোল করে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে তপু বর্মনের দল। এ জয়ে ১৫ ম্যাচ শেষে ৩৪ পয়েন্ট কিংসের। সমান ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে মোহামেডান ছয়ে। এক ম্যাচ কম খেলা আবাহনী ২৮ পয়েন্ট নিয়ে আছে দুইয়ে। আজ ফকিরেরপুল ইয়ংম্যান্সকে হারালেও তিন পয়েন্টে এগিয়ে থাকবে কিংস।
ম্যাচের দশম মিনিটে ডি-বক্সে ঢোকার মুখে কিংসের ডিফেন্ডার সাদ উদ্দিনের চেষ্টা রুখে দেন মোহামেডানের গোলরক্ষক সুজন হোসেন। ১৮ মিনিটে লিড নেয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে সাদা-কালোরা। কিংসের গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকুকে একা পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি মোহামেডানের ফরোয়ার্ড সৌরভ দেওয়ান। ১৩তম রাউন্ডে এই সৌরভের হ্যাটট্রিকেই আরামবাগ ক্রীড়া চক্রকে হারিয়েছিল মোহামেডান। ম্যাচের ২৮ মিনিটে কাক্ষিত গোলের দেখা পায় দলটি।
মিডফিল্ডার সাইফুল হোসেনের পাস থেকে পোস্টের কোনাকুনি দিয়ে জাল কাঁপান উজবেক মিডফিল্ডার মোজাফফরভ। গোল হজমের পর আক্রমণের ধার বাড়ায় কিংস। ৪৪ মিনিটে এক ফাউলকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হলুদ কার্ড দেখেন কিংসের ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রাকিব হোসেনের পাস থেকে গোল করে কিংসকে সমতায় ফেরান ফয়সাল আহমেদ। ১-১ গোলের সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল। বিরতির পর ৬১ মিনিটে মোহামেডানের রক্ষণের ভুলে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি কিংসের শাহরিয়ার ইমন। পোস্টের বাইরে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। ৬৭ মিনিটে সুযোগ হারায় মোহামেডানও। বক্সে প্রতিপক্ষ দুই ডিফেন্ডারকে পেয়েও নিশানায় বল পাঠাতে পারেননি সৌরভ। এর এক মিনিট পর ফয়সালের পাস থেকে গোল করে কিংসকে এগিয়ে দেন ডেরিয়েলতন গোমেজ। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে লীগে ১৩ ম্যাচে ১৫ গোল করলেন এই ব্রাজিলিয়ান।
খেলোয়াড়দের হুমকিতে লালকার্ড বদলে গেল হলুদ কার্ডে!
গতকাল দিনের আরেক ম্যাচে মুন্সীগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ব্রার্দাস ইউনিয়ন-আরামবাগ ক্রীড়া চক্রের ম্যাচে অদ্ভূত ঘটনা ঘটে। ম্যাচের ৩২ মিনিটে মাঝমাঠে আরামবাগের ঘানাইয়ান ফুটবলার কোয়ামে কিজিতোকে মাটিতে ফেলে দেন ব্রাদার্সের ইব্রাহিমা বারি। যদিও রেফারি বিতু রাজ বড়ুয়া ফাউলের বাঁশি বাজাননি। তবে কিজিতো ছিলেন বেশ ক্ষুব্ধ। মাটি থেকে উঠে দৌড়ে গিয়ে ইব্রাহিমাকে ধাক্কা দেন তিনি। তাতে মাটিতে পড়ে যান ইব্রাহিমা। রেফারি তৎক্ষণাত হলুদ কার্ড দেন কিজিতোকে। পরে সাইডলাইন থেকে চতুর্থ রেফারি সাইমুন হাসানের পরামর্শে নিজের সিদ্ধান্ত বদলান বিতু রাজ। লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের হওয়ার নির্দেশ দেন কিজিতোকে। ঘানাইয়ান এই ফরোয়ার্ড সিদ্ধান্ত মেনে মাঠ থেকে বের হলেও মানতে পারেননি আরামবাগের কোচিং স্টাফরা। রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে না খেলার হুমকিও দেয় তারা।
এক পর্যায়ে আরামবাগের সব খেলোয়াড় মাঠ থেকে উঠে আসেন। সহকারী রেফারিদের সঙ্গে কিছুক্ষণ আলোচনা করার পর কিজিতোর লাল কার্ডে সিদ্ধান্ত উঠিয়ে আবার হলুদ কার্ড দেন বিতু রাজ। গোলমালের কারণে প্রথমার্ধে ৪৫ মিনিট শেষে আরও যোগ করা হয় ১৫ মিনিট। ফিফার আইনের ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, রেফারি কেবল তখনই তার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন যদি তিনি নিজে বুঝতে পারেন যে সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। অথবা তার সহকারীদের (লাইন্সম্যান বা ফোর্থ অফিসিয়াল) সঙ্গে আলোচনার পর নিশ্চিত হন যে সিদ্ধান্ত বদলানো দরকার। বিতর্কের পর ম্যাচটি ড্র হয় ২-২ গোলে। ব্রাদার্স অবশ্য শুরুতে পিছিয়ে যায়। বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধের ৫১ ও ৮০ মিনিটে দুই গোল করে সমতা ফেরায় তারা।
