যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কোমি বুধবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। ভার্জিনিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে প্রথমবারের মতো হাজির হন তিনি। অভিযোগ, তিনি নর্থ ক্যারোলাইনার একটি সমুদ্রসৈকতে ঝিনুকের ছবি তুলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে হুমকি দিয়েছেন। ১০ মিনিটেরও কম সময়ের সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে কোনো শর্ত ছাড়াই তাকে আদালত থেকে চলে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়। বিচারক উইলিয়াম ফিটজপ্যাট্রিক বলেন, এ মুহূর্তে শর্ত আরোপের প্রয়োজন দেখি না। গত বছর বিচার বিভাগ প্রথমবার কোমির বিরুদ্ধে মামলা করার সময়ও কোনো শর্ত দেয়া হয়নি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।
মঙ্গলবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি এমন সময় এসেছে, যখন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ প্রেসিডেন্টের চাওয়া অনুযায়ী মামলাগুলো দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছেন। এই নতুন মামলা ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প মনে করেন, কোমি তার বিরুদ্ধে বিচারব্যবস্থাকে ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’-এর প্রচেষ্টার একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। এখন কোমির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টকে হুমকি দেয়া এবং আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যের মাধ্যমে হুমকি প্রেরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলাটি নর্থ ক্যারোলাইনার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টে করা হলেও, কোমির প্রথম হাজিরা ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ার আদালতে হয়। কারণ এটি তার বাসার কাছাকাছি। শুনানির সময় কোমি গাঢ় রঙের স্যুট পরেছিলেন এবং কিছু বলেননি তিনি। তাকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দোষ স্বীকার বা অস্বীকার করতে বলা হয়নি। কোমির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা শিগগিরই আবেদন করবেন, যেখানে অভিযোগ করা হবে যে বিচার বিভাগ বেছে বেছে এবং প্রতিহিংসামূলকভাবে তাদের মক্কেলের বিরুদ্ধে মামলা করছে। নর্থ ক্যারোলাইনায় কোমির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন বা পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নর্থ ক্যারোলাইনার মার্কিন অ্যাটর্নি এলিস বয়েল, যিনি নিউ বার্ন ফেডারেল আদালতে মামলাটি তদারকি করবেন, তিনিও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবারের অভিযোগটি মূলত গত মে মাসে কোমির একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি সৈকতের বালিতে সাজানো ঝিনুক দিয়ে ‘৮৬ ৪৭’ সংখ্যা তৈরি করে একটি ছবি পোস্ট করেন এবং ক্যাপশনে লেখেন, ‘আমার সৈকত ভ্রমণে সুন্দর ঝিনুকের বিন্যাস।’
এই পোস্টের পরপরই রিপাবলিকান ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সমালোচনা শুরু করেন। তাদের মতে, এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একটি ‘মৃত্যুর হুমকি’। স্ল্যাং হিসেবে ‘৮৬’ সংখ্যাটি কোনো কিছু সরিয়ে ফেলা বা বাদ দেয়ার ইঙ্গিত দেয়। আর ট্রাম্প বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট।
