দেশের যুব সমাজকে ক্রীড়ামুখী করতে এবং তৃণমূল থেকে মেধাবী ক্রীড়াবিদ খুঁজে বের করার প্রয়াসে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করতে যাচ্ছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিযোগিতার বিস্তারিত তুলে ধরেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি জানান, ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট- দেশের কিশোর কিশোরীরা এই আট ইভেন্টে অংশ নেবেন। আগামী ২রা মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সময়ে দেশের বাকি জেলা স্টেডিয়ামেও অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়েরা উপস্থিত থাকবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি সব জেলার সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন।
এখন পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৯ জন কিশোর-কিশোরী নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৬ জন কিশোর এবং ৪৪ হাজার ১৩৩ জন কিশোরী। জেলাভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন হয়েছে সিলেটে, সেখানে সংখ্যাটি ১৫ হাজার ৩২৪। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের গণ্ডি পেরিয়ে বিভাগীয় পর্যায় শেষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে এর চূড়ান্ত পর্ব। চূড়ান্ত পর্বের মেধাবী খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা মেধাবী ও সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদদের বিকেএসপিতে দেবো। মেধাবী কিশোর-কিশোরীরা কোনো না কোনো স্কুলের শিক্ষার্থী হবে, ফলে তাদের ক্রীড়া বৃত্তির আওতায় আনা হবে।’ বর্তমানে সাভারের মূল বিকেএসপিতে শিক্ষার্থীর চাপ বেশি থাকায় আঞ্চলিক বিকেএসপিগুলোর মানোন্নয়নে জোর দিচ্ছে সরকার। আমিনুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রামে একজন মেধাবী খেলোয়াড় পাওয়া গেলে সে যেন চট্টগ্রাম বিকেএসপিতেই থাকতে পারেন আমরা সেই ব্যবস্থা করতে চাই।
এজন্য আঞ্চলিক বিকেএসপিগুলোর সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে।’ অতীতে প্রতিভা অন্বেষণের নামে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে এবার পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। মন্ত্রণালয়, এনএসসি কর্মকর্তাদের সহায়তা করছে। আমাদের কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে আপনারা দেখিয়ে দেবেন, আমরা শুধরে নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কাজ করব সবাই একসঙ্গে।’ প্রতিভা বাছাইয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘প্রতিভা বাছাইয়ে কোনো স্বজনপ্রীতি থাকবে না। আমি মন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন খেলোয়াড় হিসেবে এটা তদারকি করবো। আমাদের মেডিক্যাল টিম থাকবে যারা সর্বাত্মক চিকিৎসা প্রদান করবে।’
