কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম (৬০) হত্যা মামলায় দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে ওই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। দৌলতপুর থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে পরিবারের দাবি, ওই শিক্ষার্থী নির্দোষ।
গ্রেপ্তারের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে। ওই ছাত্রের পরিবার দাবি করেছে, জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে গেলেও পরে হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
নির্দোষ দাবি করে ওই ছাত্রের বাবা বলেন, ‘রাতে পুলিশ বাড়িতে এসে আমার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার পর অনেকেই সেখানে দেখতে গিয়েছিল, আমার ছেলেও গিয়েছিল। এখন তাকে আসামি করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে ওই ছাত্রের খালা বলেন, ‘রাতে ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। পুলিশ মূলত তার চাচাতো ভাইকে গ্রেপ্তার করতে এসেছিল। তাকে না পেয়ে তাকে ঘর থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। ঘটনার দিন সে ঘটনাস্থলে ছিল না। প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরে মাকে কাজে সাহায্য করছিল। পরে হামলার খবর পেয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যায়।’
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন তথ্য দেয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
এর আগে, একই মামলায় রোববার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা সবজি বিপ্লব হোসেন (২৬) ও আলিফ ইসলাম (২৩) নামের দুইজনকে আটক করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল দুপুরে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর আবদুর রহমানের দরবারে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা তাকে কক্ষ থেকে টেনে বের করে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ ভবনের দোতলা থেকে নিচে ফেলে দেয়া হয়। হামলার পর দরবারে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
ঘটনার তিন দিন পর ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
