পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা প্রচারের শেষ দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর শোডাউন দেখেছে রাজ্যের মানুষ। কলকাতার হাইভোল্টেজ ভবানীপুর কেন্দ্র নিয়ে প্রথম থেকেই উত্তেজনা ছিল । শেষমুহূর্তে সেই উত্তেজনা তুঙ্গে উঠৈছে। এখন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন মনোজ অগ্রবাল। তিনি জানান, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচার চলাকালীন দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বিরক্ত করার অভিযোগ দায়ের করেছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। সিইও স্পষ্ট করে জানান, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জেলার নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। সেই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
দক্ষিণ কলকাতার এই আসনটি এবারের নির্বাচনে আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে। এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার বিরুদ্ধে লড়ছেন বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে শুভেন্দুর কাছে হেরে যান মমতা। পরে ভবানীপুর আসনে তৃণমূলের জয়ী প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পদত্যাগ করলে উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী পদ রক্ষা করেন মমতা। এবার সরাসরি এ আসনেই প্রার্থী হয়েছেন তিনি। এবারও মমতাকে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। অন্যদিকে ‘এক ভোটে জিতলেও তিনিই জিতবেন’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন মমতা। শুভেন্দু তার নিজের আসন নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও লড়ছেন। নন্দীগ্রামে ভোট গ্রহণ ২৩ এপ্রিল শেষ হয়েছে। ভবানীপুরে ভোটগ্রহণ বূধবার।
এদিকে, কংগ্রেস নেতা ও মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরী বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের যারা হারবেন তারা এখন থেকেই বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। বহরমপুরের অনেক তৃণমূল নেতাই শিবির পরিবর্তনের পরিকল্পনি করেছেন বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে মঙ্গলবার কংগ্রেস নেতার এই মন্তব্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তার দাবি, ভোটে হারের পর বিজেপির হাত-পা ধরে টিকে থাকার চেষ্টা করবেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা।
অধীর বলেছেন, বহরমপুরের তৃণমূল নেতারা বিজেপিমুখী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন। পুরসভায় আলোচনা হয়ে গিয়েছে। শিবির পরিবর্তনের পরিকল্পনা চলছে। টাকাপয়সা কামানোর ব্যবস্থা পাকাপাকি করতে এইসব নেতারা ভাবছেন যে, আর তৃণমূল করে লাভ নেই। তাই বিজেপিতে যাওয়ার ব্যবস্থা পাকা করা হচ্ছে।”
