ফজলুর রহমানের বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ

ফজলুর রহমানের বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ

ফন্ট সাইজ:

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের দেয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ফজলুর রহমান যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন দফায় দফায় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রেসিডেন্টের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্যের সময় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

ফজলুর রহমান বলেন, আমরা কি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই? যেমন বিরোধী দলের নেতা বলেন, উনাকে আমি অসম্মান করি না, সবসময় ‘মাননীয়’ বলে কথা বলি। কিন্তু উনার দলের লোকজন এখানে বসে আছে, তারা আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে কথা বলে। তারা নাকি সভ্য! তারা নাকি ইসলাম এবং উনি যে বলতেছে, ওইদিন বলল যে- আমার দাড়ি পাকা, আমার চোখের সমস্ত পাকা। উনি আমার চেয়ে ১০ বছরের ছোট। আমার বয়স ৭৮ বছর। আমি ৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করেছি, উনি ৫৮ সালে জন্মগ্রহণ করেছে।

এসময় স্পিকার তাকে প্রশ্ন করেন, আপনাকে কি কেউ এই ধরনের উক্তি করেছে? এরকম তো সংসদে কেউ বলেনি। জবাবে ফজলুর রহমান বলেন, করেছে। স্পিকার পুনরায় বলেন, আপনি কেন নিজের গায়ে টেনে নিচ্ছেন? ফজলুর রহমান তখন জোর দিয়ে বলেন, করেছে।

স্পিকার তাকে বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলে তিনি জামায়াতে ইসলামী ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে কঠোর মন্তব্য করেন। ফজলুর রহমান বলেন, আচ্ছা, আমি যে কথাটা বলতে চেয়েছিলাম, বিরোধীদলের নেতা বলেছেন উনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক এবং উনি শহীদ পরিবারের লোক এবং উনি জামায়াতে ইসলামী করেন। এটা ডাবল অপরাধ। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াত করতে পারে না। শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ করতেছে।
ফজলুর রহমানের এই মন্তব্যের পরপরই সংসদে ব্যাপক হট্টগোল ও শোরগোল শুরু হয়। স্পিকার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

ফজলুর রহমান আবারও বলেন, আমি আবারো বলে রাখলাম, শহীদ পরিবারের লোক তো জামায়াত করতেই পারে না। আর জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ করতেছে।
ফজলুর রহমানের এসব বক্তব্যের যারা প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন তাদের দেখিয়ে তিনি বলেন, এই যে দেখেন, তারা কী ধরনের আচরণ করছে আজকে।

ফজলুর রহমান আবারও বক্তব্য শুরু করে যুদ্ধাপরাধীদের শোক প্রস্তাব ও ইনডেমনিটি ইস্যুতে কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সনের ১৪ই ডিসেম্বরকে পালন করা হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। সেই মুনীর চৌধুরী, আব্দুল আলীম চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সার থেকে ধরে শত শত বুদ্ধিজীবীকে যারা হত্যা করেছিল তাদেরকে বলা হয় আল-বদর। আমি খুব দুর্ভাগা, এই হাউজে প্রস্তাব হয়েছে, তাদের ব্যাপারেও শোক প্রস্তাব হয়েছে। আমি একা হলেও এটা প্রতিবাদ করতাম। ইতিহাস ভুল বার্তা যাবে যদি আমরা যুদ্ধাপরাধীর ব্যাপারে শোক প্রস্তাব নেই।

তিনি বলেন, আরেকটা কথা, পুলিশের ব্যাপারে যে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে। ৫ই আগস্টের পরে যে থানা লুট হয়েছে, পুলিশ হত্যা হয়েছে, তারা তো তখন যুদ্ধ করেনি, তারা তো নিরপরাধ। এত অস্ত্র গেল কোথায়? ৫ই আগস্টের পরে যে ঘটনাগুলো হয়েছে সেগুলো তো কোনো আইনে ইনডেমনিটি পাওয়ার কথা না। সেটার জন্য তদন্ত হওয়া উচিত।

৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করার তীব্র সমালোচনা করেছেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আর ৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এক নয়। হিমালয় পর্বতের সঙ্গে টিলার যেমন তুলনা হয় না, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ৫ই আগস্টের তুলনা করাও অন্যায়। ফজলুর রহমান বলেন, ৫ই আগস্টের যোদ্ধাদের আমি ছোট করে দেখছি না। যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা নিবেদন করি। আমি নিজেও এই আন্দোলনে ছিলাম। শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত আমার যুদ্ধ চলবে বলেছিলাম। কিন্তু কোনো কারণে আগস্ট কোনো বিপ্লব নয়, এটি হলো গণঅভ্যুত্থান। সেই গণঅভ্যুত্থানকে যারা মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে তুলনা করতে চায়, আমি বলবো এটা বলাই অন্যায়। কারণ মুক্তিযুদ্ধ মহাসমুদ্রের চেয়েও গভীর।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা সংগ্রাম একদিনে হয়নি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই ১৯৭১ সনে শহীদ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

সংসদে স্বাধীনতাবিরোধীদের উদ্দেশ্য করে এই প্রবীণ রাজনীতিক বলেন, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, এদেশের জঙ্গলে রয়েল বেঙ্গল টাইগার থাকবে— ততদিন মুক্তিযোদ্ধারা জিতবে, রাজাকাররা কোনোদিন এদেশে জয়লাভ করতে পারবে না।
৫ই আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে থানা লুট ও পুলিশ হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ৫ই আগস্টের পরের ঘটনাগুলো কোনোভাবেই আইনি ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) পাওয়ার কথা নয়।

ফজলুর রহমান বলেন, পুলিশের ব্যাপারে যে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে, সেটা ৫ই আগস্ট পর্যন্ত এক রকম। কিন্তু ৫ই আগস্টের পর এত থানা লুট হলো, এত পুলিশকে হত্যা করা হলো- তারা তো তখন যুদ্ধ করেনি, তারা তো নিরপরাধ। এত অস্ত্র গেল কোথায়?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, যদি ৫ই আগস্টের পর কোনো পুলিশ হত্যা হয়ে থাকে, থানা লুট হয়ে থাকে, অস্ত্র লুট হয়ে থাকে-সেটার জন্য তদন্ত হওয়া উচিত, সেটার বিচার হওয়া উচিত।

পুলিশ সদস্যদেরও মানবাধিকার রয়েছে উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ৫ই আগস্টের আগে পুলিশ যা করেছে তারা রাষ্ট্রীয় বাহিনী হিসেবে করেছে, তারা যদি অন্যায় করে থাকে তার বিচার হোক। কিন্তু আমি মনে করি তারাও এদেশের নাগরিক, তাদেরও পরিবার আছে, তাদের সন্তানরাও এতিম হয়েছে। অন্তত রাষ্ট্রের তাদের কাছে গিয়ে বলা উচিত যে, তোমাদের সন্তান যেভাবেই নিহত হয়ে থাক, আমরা তোমাদেরকে দেখবো।

বক্তব্যের সময় ডিস্টার্ব করবেন না, স্পিকারের কড়া রুলিং: ফজলুর রহমানের বক্তব্যের সময় অন্য সদস্যদের হট্টগোল ও বাধাদানের ঘটনায় কড়া রুলিং দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি সদস্যদের সতর্ক করে বলেন, সামান্য কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি করা ঠিক নয়, এতে জাতীয় সংসদের প্রতি মানুষের সম্মান থাকবে না।

ফজলুর রহমান তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে, তাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে কটূক্তি করা হচ্ছে। এ সময় সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দাঁড়িয়ে সদস্যদের শান্ত হওয়ার নির্দেশ দেন।
স্পিকার বলেন, এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। এখানে প্রত্যেকেই নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। রুলস অব প্রসিডিউর বইটা একটু পড়েন। সংসদ যদি বিধি মোতাবেক পরিচালিত না হয়, এটি আর জাতীয় সংসদ থাকবে না। অতীতে জাতীয় সংসদ সম্পর্কে অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। সদস্যদের বাকস্বাধীনতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে স্পিকার বলেন, সরকারদলীয় এবং বিরোধী দলের সদস্যের মত এক হবে- এমন তো হতে পারে না। যদি সরকারি দলের কোনো সদস্যের বক্তব্যে আপনাদের আপত্তি থাকে, এরপর তো সময় আছে, আপনারা তার যুক্তি খণ্ডন করুন। কিন্তু বক্তব্যের সময় তাকে ডিস্টার্ব করবেন না।
তিনি আরও বলেন, এই যে শিশুদের মতো আচরণ করছেন, বয়স্ক ব্যক্তি-যারা ইতোমধ্যে দাদা হয়ে গেছেন, তাদের নাতিরাও হয়তো গ্যালারিতে বসে দেখছে। তারা কী ভাববে এটা সম্পর্কে? স্পিকার যখন দাঁড়ান, তখন বসে পড়া সবার অবশ্য কর্তব্য। পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান তার নির্ধারিত বক্তব্য শেষ করেন।

নিজের অবদান বলতে গিয়ে অন্যের ওপর হাতুড়ি পেটানো ঠিক নয়:
ফজলুর রহমানের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের ওপর হাতুড়ি পেটানোর অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি। কে কোন দল করবে, তা নির্ধারণ করে দেয়ার অধিকারও কারও নেই। শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্য বয়সে আমার বড়। তিনি মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের কথা বলেছেন; কিন্তু নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের ওপর হাতুড়ি পেটানোর অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আঘাত করেছেন। আমি বলে থাকি আমি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য—-উনি এটাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন! রাজনৈতিক আদর্শ বেছে নেয়ার অধিকার সবার আছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, উনি বলেছেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না। তাহলে কি উনাকে জিজ্ঞেস করে দল করতে হবে? এটি আমার নাগরিক অধিকার। আমি কোন দল করব, কোন আদর্শ অনুসরণ করব-এর ওপর হস্তক্ষেপ করার ন্যূনতম কোনো অধিকার রাষ্ট্র কিংবা সংবিধান কাউকে দেয় নাই। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই। তিনি আমার পরিচয় এবং আদর্শ নির্বাচনের ব্যাপারে কথা বলে গুরুতর অপরাধ করেছেন।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা সরকারদলীয় ওই সংসদ সদস্যের বক্তব্যের ‘অসংসদীয় অংশ’ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ দেয়া) করার জন্য স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
সংসদে সবার গঠনমূলক আচরণের প্রত্যাশা করে শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা খোলা মনে এই সংসদকে কার্যকর করার জন্য জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বলেছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটা প্রস্তাব দিয়েছেন, আমরা সঙ্গে সাথেই তা গ্রহণ করেছি। কিন্তু উনি (ফজলুর রহমান) এটাতে কী উপসংহার টানলেন? যার মগজ যেরকম, তার উপসংহার সেরকমই হবে।

প্রবীণ এই রাজনীতিকের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশা করেননি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এখানে ভালো কিছু শিখতে এসেছি। কাউকে হিট করা বা গালি দেয়ার মাধ্যমে বড় কিছু অর্জন করা যাবে না। সাধারণত যুক্তি যখন ফুরিয়ে যায়, মাথা তখন গরম হয়ে যায়। একটা প্রবাদ আছে- রেগে গেলেন তো হেরেই গেলেন। আমরা সবাই মিলে হারতে চাই না, জিততে চাই। এজন্য সবাই যেন মাথা ঠান্ডা রেখে যুক্তির সাথে সত্যনির্ভর কথা বলি। তাহলে সংসদের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হবে।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর সংসদে উত্তেজনা প্রশমনে রুলিং দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানকে উদ্দেশ করে বলেন, এখন আর কথা না বললেও চলে। সংসদ উত্তপ্ত হোক এটা আমরা চাই না।’
এসময় স্পিকার রুলিং দিয়ে বলেন, ফজলুর রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার মধ্যে যদি অসংসদীয় কোনো কিছু থাকে, সেটা এক্সপাঞ্জ করা হবে। আর মাননীয় বিরোধী দলের নেতা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার মধ্যেও যদি কোনো কিছু অসংসদীয় থাকে, সেটিও এক্সপাঞ্জ করা হবে।

BAD MOUTH

২ মাস আগে

একাত্তুরের ভারতীয় তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধ মুর্দাবাদ।
চব্বিশের প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধ জিন্দাবাদ।

Md Aminul Islam

২ মাস আগে

ফজা পাগলাই সেরা। বাংলার টাইগার।

হারুন আল রশিদ

২ মাস আগে

''মজা মারে ফজা ভাই, আমরা সবাই দাড় বাই''--- এটি গ্রামীন প্রবচন। জনাব এ্যডভোকট ফজলুর রহমানের সাথে এর সম্পর্ক নাই তবে কোথায় যেন একটা খটকা আছে। দৃষ্টি আকর্ষনের উপায় হিসেবে কিছু কথা না কইলে চলে না। এই যে প্রতি মিনিটে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে সংসদে খিস্তি খেউড় করা কি জন্য? বলি কি, খাড়া রোদে সংসদ ভবনের দক্ষিন প্লাজায় তারিখ দিয়ে এ সব ফিরিস্ত দেন। সংসদে দরকারী কথা বলেন। পোলা পানের ভিডিও দেখেও বুঝেন না? তবে আর কখন?

আমজনতা

২ মাস আগে

জনাব ফজলুর রহমান নিজেই নিজেকে 'ফজা পাগলা' আখ্যায়িত করলেন! উনি যে ভাঙ্গা ঢাক পেটালেন সেই ঢাকের শব্দে এখন আর কেউ নাচে না। আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কিন্তু তিনি কোনও সার্টিফিকেট পান নাই অথচ আমার নিকটতম আত্নীয় দের মধ্যে বেশ কয়েকজন ৭১ এ শান্তি কমিটির সক্রিয় সদস্য থাকার পরেও একটা বিশেষ দল করার কারনে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট পেয়ে গার্ড অব অনার নিয়ে কবরে গিয়েছেন! মুক্তিযোদ্ধা জামাত করলে যদি ডাবল অপরাধী হয় তাহলে একজন মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কে যারা মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেয় তাকে মিঃ রহমান কী বলবেন? আজ তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে হাসিনার মতো চেতনা ফেরি করছেন কিন্তু ফ্যাসিস্টের সময় যখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খেতাব ছিনতাই করে তাকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী, ছদ্মবেশী মুক্তিযোদ্ধা, পাকিস্তানের দালাল বলা হয়েছিল তখন উনি কোথায় ছিলেন? উনি আসলে উনার Mother Party'র স্মৃতি ভুলতে পারেন না। উনার কথা ও কাজে কখনই মনে হয়নি শহীদ জিয়ার প্রতি উনার ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ আছে। আসলেই wrong headed!

এম.টি রক্সি

২ মাস আগে

অভিনন্দন ফজলুর রহমান আপনাকে। যতদিন বেচে থাকবেন এভাবে প্রতিবাদ করে যাবেন। আক্তারুজ্জামানদের মতো বিক্রি হবেন না।

Mohsin

২ মাস আগে

গত সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির নীতিনির্ধারকগণ সবাই কে অবাক করে দিয়ে একটি মেজর ভুল করেছেন জনাব ফজলুর রহমান কে নমিনেশন দিয়ে কারণ পবিত্র সংসদে দাঁড়িয়ে উনি বলছেন পুলিশ হত্যার বিচার করতে হবে কিন্তু উনার বিবেক দিয়ে একটা কথা গভীর ভাবে চিন্তা করা উচিৎ ছিল কেননা আন্দোলনের সময় পুলিশ ছিল সশস্ত্র আর আন্দোলন কারীরা ছিল নিরস্ত্র সুতরাং নিরস্ত্র আন্দোলন কারীরা তাদের উপর অস্ত্রধারী পুলিশদের আঘাত প্রতিহত করতে গিয়ে পুলিশ নিহত হয়েছেন তাই ফজলুর রহমান বা অন্য কেহ ছাত্র আন্দোলনের সময় স্বৈরাচার শেখ হাসিনার অতিরিক্ত আজ্ঞাবহ পুলিশ নিহত হাওয়ার ঘটনা বিচার চাওয়ার আগে ঠান্ডা মাথায় একবার চিন্তা করবেন।

Shahid

২ মাস আগে

রক্ষি বাহিনীর খুনি, ধর্ষক, গুন্ডা, সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দেওয়া ভুল হয়নি। তবে কেহ যদি অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নৈতিক দায়িত্ব হয়ে পড়ে দেশপ্রেমিক হিসেবে। হানাদার, রাজাকার, খুনি, ধর্ষক, টাকা পাচারকারীদের পুনর্বাসন করে দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থা দিনকে দিন দূর্বিসহ করে তুলেছে তাদের এমনিতেই ছেড়ে দেওয়া হবে না। হয়নি।

Mahin

২ মাস আগে

ফজা পাগলা!

মন্তব্য করুন