বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার আগারগাঁওস্থ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নানা আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সামরিক ও অসামরিক অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর কর্মকর্তা, নাবিক এবং অসামরিক ব্যক্তিবর্গের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য ৪ জনকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক, ৪ জনকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক, ৩ জনকে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক এবং ৩ জনকে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদকসহ মোট ১৪ জনকে পদক প্রদান করেন।
১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের সুবিশাল উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সম্ভাবনাকে সুরক্ষিত করতে ‘আইনি ভিত্তি’ প্রণয়ন করেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দুরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাহিনীর গোড়াপত্তন হয় এবং তার প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ১৯৯৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর শুভ উদ্বোধনের মাধ্যমে বহিনী আনুষ্ঠিানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের প্রতিটি সদস্য দেশের উপকূলীয় দুর্গম এলাকাসমূহ, নদীপথ ও সমুদ্রসীমায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতির মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নদী ও সমুদ্র পথে এবং উপকূলীয় এলাকায় জনসাধারণের জানমাল রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, মৎস্য সম্পদ রক্ষা, মাদক পাচার রোধ, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এ বাহিনী অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোস্ট গার্ডকে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
এর অংশ হিসেবে এরই মধ্যে বাহিনীর বহরে তিনটি সার্ভেইলেন্স ড্রোন যুক্ত হয়েছে এবং নতুন জাহাজ সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কোস্ট গার্ডের জনবল বৃদ্ধি করে ১০ হাজারে উন্নীত, অপারেশন সক্ষমতা বাড়াতে মেরিটাইম হেলিকপ্টার এবং নতুন জলযানসহ আধুনিক ড্রোন সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে মাল্টিরোল রেসপন্স ভেসেল ও অফশোর পেট্রোল ভেসেল নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে উচ্চগতির বুলেটপ্রুফ বোট সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা উপকূলীয় এলাকায় অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
