কঠিন এক পরীক্ষার মুখে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। মার্কিন সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগের বিষয়ে পার্লামেন্টকে তিনি বিভ্রান্ত করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর প্রস্তাবে মঙ্গলবার ভোট হওয়ার কথা দেশটির পার্লামেন্টে। এ ধরনের তদন্ত শুরু হলে তা স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। যদি প্রমাণিত হয় যে তিনি জেনে-বুঝে পার্লামেন্টকে ভুল তথ্য দিয়েছেন, তাহলে তার পদে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
হাউস অব কমন্সের স্পিকার লিন্ডসে হয়েল জানিয়েছেন, বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনকের আবেদনের ভিত্তিতে এ বিষয়ে বিতর্ক ও ভোটের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, প্রিভিলেজেস কমিটি বিষয়টি তদন্ত করবে কি না। এই বিতর্কের সূত্রপাত ম্যান্ডেলসনকে স্টারমারের নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে।
গত বছর তথ্য প্রকাশ পায় যে, মার্কিন যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের সম্পর্ক আগের ধারণার চেয়ে অনেক গভীর ছিল। এরপরই গত সেপ্টেম্বরে ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করা হয়। এই ঘটনা স্টারমারের বিচারবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে যখন জানা যায়, নিরাপত্তা যাচাইকারী সংস্থা ওই নিয়োগে ছাড়পত্র দিতে অনিচ্ছুক ছিল। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সেই সিদ্ধান্ত উল্টে দেন এবং বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়নি।
স্টারমারের দপ্তরের এক মুখপাত্র এই ভোটাভুটির উদ্যোগকে আগামী ৭ মে স্থানীয় নির্বাচনের আগে ‘হতাশাজনক রাজনৈতিক নাটক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে এক সাবেক জ্যেষ্ঠ সিভিল সার্ভেন্টের চিঠিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে- ওই বিষয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল। তদন্ত অনুমোদিত হলে, ম্যান্ডেলসন নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, স্টারমারের এই বক্তব্যগুলোই মূলত খতিয়ে দেখা হবে। এর আগে একই কমিটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বিরুদ্ধে কোভিড-১৯ সময়কালে আয়োজিত পার্টি নিয়ে পার্লামেন্টকে জেনে-বুঝে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ প্রমাণ করে। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই জনসন পদত্যাগ করেন।
