মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করার ঘোষণা

যশোরে প্রধানমন্ত্রীর কর্মব্যস্ত দিন

মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করার ঘোষণা

ফন্ট সাইজ:

যশোর সফরে গিয়ে গতকাল কর্মব্যস্ত দিন কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমানযোগে যশোর পৌঁছে প্রথমে পিতা জিয়াউর রহমানের খননকৃত উলাসী খাল কোদাল হাতে পুনঃখনন করে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এরপর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি যশোর মেডিকেল কলেজের ক্যাম্পাসে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। পরিদর্শন করেন যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি। সবশেষে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এতে তিনি জনগণের শান্তি নষ্ট করে বিরোধীদের অতীতের মতো ১৭৩ দিন হরতাল পালনের সেই সুযোগ না দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

একইসঙ্গে মেয়েদের ডিগ্রি ও স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানান। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এই দেশের মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে। বিএনপি বিশ্বাস করে এই দেশের মানুষের উন্নতি মানেই দেশের উন্নতি। দেশের ২০ কোটি মানুষের কল্যাণে বিএনপি’র সরকার কাজ করছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ শুরু করেছে ভোটে নির্বাচিত জনগণের সরকার। আমরা সেই কাজগুলো করবো যে কাজগুলোর মাধ্যমে জনগণের উন্নয়ন হবে।

তারেক রহমান বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে যশোরের জনসভায় বলেছিলাম, ইনশাআল্লাহ জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছিলাম। সরকার পরিচালনার সুযোগ পেয়ে বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ শুরু করেছে। বিএনপি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার দল। আমরা যা বলি, তাই করি। আমরা কথামালার রাজনীতি করি না। মেয়েদের ডিগ্রি ও স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া প্রথম শাসনামলে মেয়েদের ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ও পরবর্তীতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা বিনামূল্যে চালু করেছিলেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি- মেয়েদের ডিগ্রি ও স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করবো। যাতে করে মেয়েরা আরও উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারে। এ ছাড়া যে সকল মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করবে তাদের উপবৃত্তির ব্যবস্থা করবো।

হরতালের সুযোগ আমরা কাউকে দেবো না: উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, আমাদেরকে আজকে সতর্ক থাকতে হবে, সেই সব লোকদের বিরুদ্ধে, যারা বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়। যারা দেশ স্বাধীনের সময়, দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানুষকে বিভ্রান্তির চেষ্টা করেছিল, যারা ৮৬ সালে বিভ্রান্তি করেছিল, যারা ৭১ সালে বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল, যারা ২০০৯ সালে বিভ্রান্তি করেছিল, ঠিক এই সকল ব্যক্তি আজ আবার এসে ২০২৬ সালে বিভ্রান্তির চেষ্টা করছে। জনগণের শান্তি নষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করে তারেক রহমান বলেন, আসুন আমরা নিজেদের সতর্ক রাখবো, যাতে আর কেউ দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। জনগণের শান্তি নষ্ট করে ১৭৩ দিন হরতাল পালন করবে, সেই সুযোগ আমরা কাউকে দেবো না এবং বিভিন্ন রকম জুজু-বুড়ির ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে পিছিয়ে রাখা ‍যাবে না, বাংলাদেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। আমরা কোনো টিকিট বিক্রি করতে চাই না, বাস্তব কাজ করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কোনো টিকিট বিক্রি করতে চাই না; বরং আমরা বাস্তব কাজ করতে চাই। সেজন্য আমরা বলি, ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। কে কে আছেন আমার সঙ্গে দেশ গড়ার জন্য? এ সময়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থক হাত তুললে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হাজারো-লক্ষ মানুষ দেশ গড়ার জন্য আছেনÑ আলহামদুলিল্লাহ। আসুন, আজকে আমাদের প্রতিশ্রুতি হবে- ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। কারণ এদেশ আপনার, এদেশ আমার, এদেশ আমাদের সকলের, সকল বাংলাদেশির।”

কারা ফ্যাসিবাদের দোসর: তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের আস্থা আছে বিএনপি’র উপরে, বিশ্বাস করে বিএনপিকে। সেই জন্যই বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে ১২ তারিখের নির্বাচনে ম্যান্ডেট দিয়েছে। যে প্রতিশ্রুতি বিএনপি জনগণের কাছে দিয়েছে, সেই প্রতিশ্রুতি যাতে বিএনপি পালন করতে পারে, বাস্তবায়ন করতে পারে, তার ম্যান্ডেট জনগণ বিএনপিকে দিয়েছে। একদল লোকের এই ম্যান্ডেট পছন্দ নয় এবং সেই জন্যই দেখেছেন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে তারা বক্তৃতা দিচ্ছে। তারা বলে বেড়াচ্ছে- বিএনপি বলে ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে গিয়েছে। আসুন আমরা দেখি, কারা ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে গিয়েছে? তিনি বলেন, পাঁচ তারিখের পরে বিএনপি পরিষ্কার বলেছে, জুলাই-অগাস্ট মাসে যারা মানুষ হত্যা করেছে, তাদের বিচার হতে হবে। কিন্তু আমরা দেখেছি পাঁচ তারিখের পরে কেউ কেউ বলেছিল, ‘আমরা সবাইকে মাফ করে দিলাম’। কিন্তু আমরা কয়েকদিন আগে দেখেছি, যারা বক্তৃতায় জোরে জোরে কথা বলে; তাদেরকেই গিয়ে দেখেছি ফ্যাসিবাদের দোসরদের সঙ্গে ঢাকা থেকে অনেক দূরে গিয়ে মিটিং করতে। জনগণ যখন সেটা ঘিরে ফেলেছে- জায়গা, তখন আর তারা কোনো জবাব দিতে পারে না কেন- ফ্যাসিবাদের সঙ্গে গিয়ে মিটিং করেছে?”
তারেক রহমান বলেন, “আমাদের কাছে, বিএনপি’র কাছে এখন অগ্রাধিকার হচ্ছে, যে সরকারকে বাংলাদেশের জনগণ ১২ তারিখে নির্বাচনে নির্বাচিত করে, সেই বিএনপি সরকারের কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে মা-বোনদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা; সেই বিএনপি’র কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে হামের টিকার অভাবে যে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে, তাদের টিকার ব্যবস্থা করা এর বাইরেও বাংলাদেশের মানুষ, গ্রামের মানুষ, শহরের মানুষ, উপজেলার মানুষ, জেলার মানুষ যে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না, তাদের স্বাস্থ্যেসেবা নিশ্চিত করা। আমাদের কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে, যে সকল বেকার যুবক আছে- তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা; আমাদের কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে যে কৃষক সঠিকভাবে এখনো কৃষি উপকরণ পাচ্ছে না, তার জন্য কৃষক সহায়তা প্রদানের নিশ্চয়তা করা; আমাদের কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের সন্তানদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেয়া। আমাদের কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে এই যে এখানে বলেছে অডিটোরিয়ামের দাবি, বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা ঠিক করার দাবি, কলেজ সরকারিকরণ করার দাবি। আমাদের কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে মানুষের এসব দাবি পূরণ করা।
২৮ মিনিটের বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের ও দেশের কল্যাণে তার সরকারের গৃহীত কর্মসূচি তুলে ধরে তা পর্যায়ক্রমে পূরণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

যশোর জেলা বিএনপি’র সভাপতি এড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম চৌধুরী, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রমুখ।

সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে যশোরে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী যশোরের শার্শা উপজেলার উলাসী যদুনাথপুর জিয়া খাল পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করেন। তিনি নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়ি বোঝাই করেন এবং সেই ঝুড়িবোঝাই মাটি শ্রমিকের মাথায় তুলে দেন। এখানে এক সংক্ষিপ্ত সুধী সমাবেশে বক্তৃতা করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ বেডের হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং সুধী সমাবেশে বক্তৃতা করেন। মেডিকেল কলেজের প্রোগ্রাম শেষ করে গাড়িবহর নিয়ে ঐতিহ্যবাহী যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। তিনি এ সময় ঘুরে ঘুরে লাইব্রেরির বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন এবং শত বছরের পুরাতন তালপাতায় লেখা স্বচক্ষে অবলোকন করেন। সেখান থেকে সার্কিট হাউসে যান। বিশ্রাম শেষে সেখান থেকে হেঁটে ঈদগাহ ময়দানে জনসভাস্থলে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভা শেষে বিমানযোগে ঢাকায় ফিরেন তিনি।


Mortoza

২ মাস আগে

Abaro quota, education sector ey ..., quota bahire r kono chinta ki kora jay nah...free nah kore scholarship ei jatiyo kono vabna ki kora jay nah...

মন্তব্য করুন