বজ্রপাতে পাঁচ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। নিহতদের মধ্যে নেত্রকোণায় তিনজন, সুনামগঞ্জে তিনজন, হবিগঞ্জে দুইজন, নোয়াখালীতে একজন এবং রাঙ্গুনিয়ার একজন রয়েছেন। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে-
নেত্রকোণা সংবাদদাতা জানান, নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে তিনজন নিহত হয়েছেন। ধনু নদ ও হাওর এলাকায় এ সব বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। জানা যায়, উপজেলার জগন্নাথপুরের ফেরিঘাটে সকাল ৯টার দিকে ধনু নদীতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরছিল নিহত আব্দুল মোতালিব (৫৫)। এ সময় বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান। নিহত আব্দুল মোতালিব ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাগবেড় গ্রামের বাসিন্দা।
অপরদিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বজ্রপাতের শিকার হয়ে মোনায়েম খান ওরফে হালান মিয়া (৫৫) মারা গেছেন। নিহত মোনায়েম খান উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের সাতগাঁও গ্রামের বড়রিয়া পাড়ার নেকবর খানের ছেলে। বাড়ির সামনে জাংঘালিয়া হাওরে জমিতে কাজ কাজ করার সময় বজ্রপাতে নিহত হর। অপরদিকে কৃষ্ণপুর হাওরে ধান কাটছিলেন শুভ মণ্ডল। সেখানেও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হলে বজ্রপাতের আঘাতে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান শুভ মণ্ডল। খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন বজ্রপাতে নিহতদের বিষয় নিশ্চিত করেন।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। জেলার পৃথক স্থানে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈঠাখালী গ্রামের জমির হোসেন (৪২) এবং মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নিহত হন। একই সময় সদর উপজেলার হাওরের অন্য একটি স্থানে বজ্রপাতে জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের আবু সালেহ (২২) নামের আরও এক কৃষকের মৃত্যু হয়। এছাড়া, শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আরও তিনজন কৃষক আহত হন।
স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ থেকে জানান, হবিগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক কৃষকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রাম-সংলগ্ন গড়দার হাওরে এবং বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, মকছুদ আলী (৪০) নামে এক কৃষক নিজ জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি নোয়াগাঁও গ্রামের ছাবর উল্লাহর ছেলে। এ ছাড়া, বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকায় আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুস সালাম (৩৫) বাড়ির পাশে খলা থেকে ধান আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা মান। নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী থেকে জানান, হাতিয়ায় বজ্রপাতে মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার খাসের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরাফাত হোসেন মৃত আফছার মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন এবং পাশাপাশি কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শান্তিনিকেতন এলাকায় বজ্রপাতে মো. আমির শরীফ (৬২) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সন্ধ্যার দিকে কালবৈশাখী ঝড় চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা যায়, আমির শরীফ পেশায় একজন বর্গাচাষি ছিলেন। ঘটনার দিন বিকালে তিনি বাড়ির পাশের বিলে বর্গা নেয়া জমিতে সেচ দিতে যান। কাজ শেষে সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
