ধোবাউড়ায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা মিনি পাম্পের সিন্ডিকেটে জিম্মি মানুষ

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় গাড়ির জ্বালানি তেল নিয়ে চলছে তেলেসমাতি। সীমান্তবর্তী জনপদ হওয়ায় এই অঞ্চলে সরকার অনুমোদিত কোনো বড় তেলের পাম্প নেই। তবে ধোবাউড়া সদরে চারটি মিনি পাম্প রয়েছে। কিন্তু তেলের সংকটের খবর প্রচারের পর থেকে এসব পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে।

তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর সংকট কিছুটা কমলেও ধোবাউড়ায় যেন সিন্ডিকেটের দাপটে সংকট আরও চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন গাড়ি চালকরা। বন্ধ রয়েছে সরকারি এম্বুলেন্স, পুলিশ ও সাংবাদিকদের গাড়ি। জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এবং নিরাপদ অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘেঁষে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়ে আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে এসব মিনি পাম্প। তেল নেই লিখে সাইনবোর্ড টানিয়ে মিনি পাম্পগুলো বন্ধ রাখলেও গোপনে ৩০০ টাকা লিটারে তেল বিক্রির অভিযোগ রয়েছে এসব পাম্প মালিকদের বিরুদ্ধে।

এদিকে তেলের সংকটে দিশাহারা হয়ে জরুরি কাজে নিয়োজিতরাসহ সাধারণ মানুষজন অন্তত ৩০ কিলোমিটার দূর থেকে তেল সংগ্রহ করছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন কার্যক্রম। সিন্ডিকেটের কবলে দিনের পর দিন এই ভোগান্তি চলমান থাকলেও মুক্তি মিলছে না জনগণের। সমস্যা সমাধানে নেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ।
গাড়িচালকরা অভিযোগ করেন, ধোবাউড়া সরকারি কলেজের সামনে পাম্প মালিক কামরুল ইসলাম ও সোহান গোপনে অন্যত্র তেল মজুত রেখে ৩০০ টাকায় তেল বিক্রি করছেন। এ ছাড়াও ধোবাউড়া উপজেলার আনাচে-কানাচে প্রত্যেকটি বাজারে প্রকাশ্যে তেল বিক্রি বন্ধ থাকলেও গোপনে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে তেল। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল না পেয়ে অনেকে গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ কেউ বাইসাইকেলে কর্মস্থলে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে পাম্প মালিক কামরুল ইসলাম, সোহান ও বাশার জানান, বিভিন্ন পাম্পে খোঁজ নিয়েছি কিন্তু তেলের কোনো ব্যবস্থা করতে পারিনি। অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেন পাম্প মালিক কামরুল ইসলাম। এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইন্সপেক্টর নেহেরুল ইসলাম বলেন, ধোবাউড়ায় কোনো পাম্পের অনুমোদন নেই, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন