পঞ্চগড় সদর হাসপাতাল

সংকটের সমাধান কবে?

ফন্ট সাইজ:

১০০ শয্যার পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় রূপান্তরের জন্য পাশে ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ১৫০ শয্যার ৯ তলা বিশিষ্ট আরেকটি ভবন। কিন্তু সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসকসহ জনবল পদায়ন, আসবাবপত্র ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ না দেয়ার কারণে এ ভবনটিতে এখনো শুরু করা যায়নি চিকিৎসা কার্যক্রম। এ নতুন হাসপাতাল ভবনটি ২০২৪ সালের ২৭শে জুন গণপূর্ত বিভাগ সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, ১৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করতে বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য চিকিৎসকসহ ৩৮৮ জন জনবল এবং আসবাবপত্র, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য মালামাল ক্রয় করার জন্য ৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে চালু পঞ্চগড় জেলার ৫টি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞসহ ২৪৬ জনের মধ্যে ১৬৪টি চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য। বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালগুলোতে এ শূন্যতা বিরাজ করছে। কোনো সময় চিকিৎসক দেয়া হলেও কিছুদিন থেকে তারা তদবির করে বদলি নিয়ে চলে যায়। ফলে চিকিৎসকের অভাবে অনেক রোগীকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে দিনাজপুর, রংপুর ও ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। অর্থের অভাবে আবার অনেকের পক্ষে বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। এম্বুলেন্সে যেতে যেতে পথিমধ্যে কেউ কেউ মারাও যাচ্ছে। এ চিত্র প্রতিটি হাসপাতালের। ১০০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী ভর্তি থাকে। তীব্র চিকিৎসক সংকটের মধ্যে রোগীরা হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় কষ্ট করে চিকিৎসাসেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসার জন্য আসে আরও হাজারো নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর। কোনোমতে চিকিৎসাপত্র পেলেও তাদেরকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ইনজেকশন বাইরে থেকে ক্রয় করতে হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর স্বল্পতার কারণে আধুনিক সদর হাসপাতালটিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগীরা নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সরকারিভাবে অর্থ বরাদ্দ না দেয়ার কারণে বিভিন্ন মহলের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে নতুন ভবনটিতে চিকিৎসা সুবিধা চালু করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় একজন সচিবের পরামর্শে স্থানীয়ভাবে টাকা সংগ্রহের জন্য সাবেক পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবেত আলী উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

জেলা প্রশাসক সিভিল সার্জনকে নিয়ে চিকিৎসা সহায়তা তহবিলে ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে তার সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা, চেম্বার নেতা, ঠিকাদার, ব্যবসায়ী, এনজিও প্রতিনিধিসহ নানা পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে ২৩ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। বাকি টাকা পর্যায়ক্রমে সংগ্রহের কথা ছিল। এ টাকা দিয়ে বেড ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী ক্রয় করে আধুনিক সদর হাসপাতাল থেকে মেডিসিন বিভাগ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ বিষয়ে দৈনিক মানবজমিনে সংবাদ প্রকাশিত হলে সরকারের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। পরে উচ্চ পর্যায় থেকে জেলা প্রশাসককে বলা হয় হাসপাতাল চালুর দায়িত্ব তোমার না। এটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এতে জেলা প্রশাসক নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। তিনি পদোন্নতিপ্রাপ্ত হয়ে পরবর্তীতে ঢাকায় বদলি হয়ে চলে যান। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমান চিকিৎসক সংকট ও অর্থ বরাদ্দ না দেয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্বাস্থ্য সহায়তা তহবিলে জমা হওয়া ২৩ লাখ টাকার মধ্যে ১৩ লাখ টাকা দিয়ে ইতিমধ্যে ইসিজি মেশিন, বেড, চেয়ার-টেবিল, ট্রলিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের নতুন ভবনটি চালুর জন্য প্রতিনিয়তই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। খুব দ্রুত নতুন ভবনটি চালু হবে বলে আশা করছি।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন