ইরানের চোখ নিত্যপণ্যে

ইরানের চোখ নিত্যপণ্যে

ফন্ট সাইজ:

যুদ্ধের অনিশ্চয়তায় ইরান নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। তারা অর্থনীতির মূল মনোযোগ নিত্যপণ্যের দিকে দিয়েছে। বিষয়টি দৃশ্যমান হয় রোববার ইরানের বাজেট অধিবেশনের নেয়া সিদ্ধান্তে। ইরান সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিক্রির লভ্যাংশ অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্যসমূহ কিনতে ব্যয় করবে। ইরানের বন্দর সমূহের উপর হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ শুরু করলে ইরানে দুর্ভিক্ষ হবে কিনা এমন প্রশ্ন জাগে। তবে এমন সম্ভাবনা নাচক করে দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সামরিক সক্ষমতা পুনূরুদ্ধারের পাশাপাশি জনজীবনে স্বাভাবিকত্ব ফিরিয়ে আনা তাদের অন্যতম লক্ষ্য। যুদ্ধবিরতিতে তেহরানের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। মার্কেট, ক্যাফে এবং দোকানগুলো পুনরায় খুলছে। তবুও ভোক্তারা আতঙ্কে আছেন।

দোকনগুলোতে অধিকাংশ পণ্যই পাওয়া যাচ্ছে। তবে কেনার সময় গ্রাহকরা তাই কিনছেন যা তাদের প্রয়োজন। ইরানিদের উপর চাপ কমাতে সরকার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। রোববার বাজেট অধিবেশনে গম, ঔষধ, চিকিৎসা সামগ্রী, এবং শিশু খাদ্য আমদানিতে ডলারের বিনিময় হারে নতুন করে নির্দেশনা জারি করা হয়। এই বাজেটে সরকার ৩৫০ কোটি ডলার রাজস্ব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পেছনে ব্যয় করতে রাজি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম ইরনার তথ্য অনুযায়ী গত কয়েক হপ্তায় ইরানের জাতীয় ফান্ড থেকে ১০০ কোটি ডলার ব্যায় করা হয়েছে চাল, চিনি, বার্লি, ভূট্টা, সয়াবিন, লাল গোস্ত এবং মুরগির গোস্ত কিনতে। কর্তৃপক্ষ বলছে তাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ মুদ্রা এবং স্বর্ণ রিজার্ভ রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারনে অনেক জাহাজ ইরানের বন্দরে ভিড়তে পারছে না। এতে তেল উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। তেল উৎপাদন একবার থামালে তা পুনরায় শুরু করা সহজসাধ্য নয় এবং সময়সাপেক্ষ। ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানায়, ইরানে দুর্ভিক্ষ হবার ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।

যদিও তারা যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটকে অস্বীকার করেনি। ইরান সরকার আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য সীমান্তবর্তী এলাকার গর্ভনরদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। সমুদ্রপথ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও ইরানের সাথে ইরাক, পাকিস্তান ও তুরষ্কের সাথে সীমান্ত রয়েছে যার মাধ্যমে তারা আমদানি-রফতানি সচল রাখতে সক্ষম ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন