মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ ইন্দোনেশীয় একটি মানবপাচার চক্রকে ধ্বংস করেছে। তারা সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডকে ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহার করে অভিবাসীদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করাতো। এ খবর জানিয়েছে অনলাইন নিউ স্ট্রেইটস টাইমস। রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার পরিচালিত অভিযানে মোট ১০ জন ইন্দোনেশীয় অভিবাসী এবং দু’জন পরিবহনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযান চালায় মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের অ্যান্টি-ট্রাফিকিং ইউনিট। গ্রেপ্তারকৃতদের বয়স ২৭ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। তাদের গোমবাক ইন্টিগ্রেটেড টার্মিনাল এবং দক্ষিণ বাস টার্মিনালে আটক করা হয়। একই সঙ্গে একটি মাজদা সিএক্স-৫ গাড়িও জব্দ করা হয়, যা পাচার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, গোয়েন্দারা কেলান্তান থেকে ক্লাং ভ্যালির দিকে আসা ইন্দোনেশীয়দের একটি গ্রুপকে নজরদারি করে আটক করেন। তিনি বলেন, গোমবাক টার্মিনালে দুই ইন্দোনেশীয় পুরুষ, দুই নারী এবং একজন পরিবহনকারীকে আটক করা হয়। অন্যদিকে একই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও তিন পুরুষ ও তিন নারীকে দক্ষিণ টার্মিনালে গ্রেপ্তার করা হয়। এ তথ্য জানিয়েছে দ্য স্টার। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি আগে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর উপকূল ব্যবহার করলেও এখন তারা নতুন কৌশলে আকাশ ও স্থলপথের মিশ্র রুট ব্যবহার করছে, যাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যাওয়া যায়। ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক অভিবাসীর ক্ষেত্রে সরাসরি ফ্লাইট ব্যবহার করা হয়নি। কারণ তাদের মধ্যে কেউ কেউ মালয়েশিয়ায় প্রবেশে নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত ছিলেন।
অভিবাসীদের প্রথমে ইন্দোনেশিয়া থেকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হতো। এরপর থাইল্যান্ডের হাট ইয়াই শহরে নেয়া হতো। কেউ কেউ কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করতেন। হাট ইয়াইতে তাদের নিরাপদ ঘরে রাখা হতো। এরপর অবৈধ সীমান্ত পথ ব্যবহার করে কেলান্তানে প্রবেশ করানো হতো। এই পুরো চক্রটি ইন্দোনেশিয়ার এক নাগরিক পরিচালনা করতেন এবং থাইল্যান্ডের হাট ইয়াইতে একাধিক মধ্যস্থতাকারী কাজ করত। জাকারিয়া শাবান জানান, প্রতিটি এজেন্টের আলাদা দায়িত্ব ছিল। যেমন আগমন নিয়ন্ত্রণ, আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং অভিবাসন স্ট্যাম্প জাল করা, যাতে কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করা যায়।
এই পাচার চক্র প্রতিজন অভিবাসীর কাছ থেকে প্রায় ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ মালয়েশিয়ান রিংগিত (প্রায় ১,১২৭ সিঙ্গাপুর ডলার পর্যন্ত) আদায় করত। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চক্রটি বহুস্তরীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করত এবং আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলত।
