পশ্চিমবঙ্গের মতুয়াগড় ঠাকুরনগরে জনসভা থেকে মতুয়া সম্প্রদায়ের সকলকে নাগরিকত্বের গ্যারান্টি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রোববার জনসভায় ভাষণ দেওয়ার আগে মতুয়া
সম্প্রদায়ের মন্দিরে পূজা দেন মোদি। এরপর জনসভায় বক্তব্য রাখার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী মতুয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, '৪-৫ বছর আগে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দিতে গিয়ে মতুয়াদের সঙ্গে দেখা করার স্মৃতি আজও সতেজ। বড়মার আশীর্বাদের সেই মমতা আমি কোনওদিন ভুলব না।'
মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্কের মাঝেই মোদি প্রতিশ্রুতি দেন মতুয়া সম্প্রদায়ের সবাইকে ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়ার। মতুয়া সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'মতুয়ারা নাগরিকত্ব পাবেন, স্থায়ী ঠিকানা পাবেন, প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিক যে নথি পান, সবই পাবেন-এটা মোদির গ্যারান্টি।
ঠাকুরনগরের জনসভা থেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর উদ্ধৃতি দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন,আপনারা আমাদের ভোট দিন, আমরা আপনাদের স্বাধীনতা দেব।'
তার দাবি, প্রথম দফার ভোটেই তৃণমূল কংগ্রেসের 'অহঙ্কার ভেঙে গিয়েছে' এবং দ্বিতীয় দফার পর রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন নিশ্চিত। এদিন তার বক্তব্যে উঠে আসে আরজি কর এবং সন্দেশখালি-কাণ্ড থেকে শুরু করে অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতির প্রসঙ্গ।
মোদির দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস আমলে নারীরা সবথেকে বেশি প্রতারিত হয়েছেন এবং সরকার সবসময় অপরাধীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের ছোট গুন্ডারাও নিজেদের সরকার ভাবে। হুগলি নদীর এপারের এলাকায় ছিল কারখানা। আজ সেখানে তালা পড়ার নোটিস আসে। গত ১৫ বছরে অনেক পাটকল বন্ধ হয়েছে। একটা কারখানাই চলছে, তা হল সিন্ডিকেটের কাটমানি, কমিশন আদায়।’
এরপর উত্তর কলকাতার ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে গিয়ে পূজা দিয়ে রোড শোতে অংশ নেন। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে শেষ রবিবাসরীয় প্রচারে দু’টি জনসভা থেকেই তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। মোদীর বক্তৃতায় আই-প্যাক মামলার প্রসঙ্গও আসে। তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা সৃষ্টি করছিল। প্রমাণ লোপাটের চেষ্টাও হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছে। এই কাজ গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতি বলেও মেনেছে আদালত।’’
এদিকে,নদীয়ায়া এক জনসভা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ অভিযোগ করে বলেন, ষড়যন্ত্র করে মমতাদি কিছু মতুয়া, নমশূদ্রের নাম ভোটারতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন’!
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফা ভোট গ্রহণ হয়, দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ হবে ২৯ এপ্রিল। এরপর ৪ মে ফল ঘোষণা করা হবে।
