জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় বৈশাখের তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং। দিন যত যাচ্ছে বৈশাখের তাপদাহ তত বাড়ছে। শনিবার দিনে তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে আর এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গড়ে ১৫ থেকে ১৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে জনজীবন থেকে শুরু করে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা সব ক্ষেত্রেই নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা।
জানা গেছে, কালাই উপজেলায় দৈনিক প্রায় ২৪ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ১৭ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকায় চাহিদার এক-তৃতীয়াংশেরও কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে এলাকাবাসী। এই সংকটের কারণে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে প্রায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। পিক আওয়ারে চাহিদা ২৬ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ ১৩ মেগাওয়াটে নেমে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। ফলে আটটি ফিডারে দেড় ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের পর এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেয়ার পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দিন-রাতে মিলিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। প্রচণ্ড গরম ও দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের পড়াশোনা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। কালাই পৌর এলাকার পরীক্ষার্থী রাকিবুল হাসান জানায়, রাতে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যায়, ফ্যান বন্ধ হয়ে গেলে ঘুমানো যায় না। সকালে পরীক্ষা দিতে গিয়ে মাথা ঝিমঝিম করে। পরিবহন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অটোরিকশাচালকরা জানান, রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাটারি চার্জ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে দিনে গাড়ি চালানো কমে গেছে, আয়ও কমে গেছে। লিটন মিয়া নামে একজন চালক বলেন, ব্যাটারিতে চার্জ না থাকলে গাড়ি চালাতে পারি না। সেদিন সংসারের বাজারও করতে পারি না।
বিদ্যুৎনির্ভর গভীর নলকূপগুলোতেও সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কালাই পৌর এলাকার বিদ্যুৎচালিত গভীর নলকূপের মালিক হেলাল উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, তার গভীর নলকূপের আওতায় প্রায় ২৯০ বিঘা বোরো জমি রয়েছে। গত ১৫ দিন ধরে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে চরম বেকায়দায় পড়েছি। এমন পরিস্থিতি যদি আরও কয়েকদিন চলে, তাহলে বোরো ধানের চরম ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কালাই জোনাল কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. জোবায়ের আলী বসুনিয়া বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে জাতীয় গ্রিড থেকেই পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পেয়ে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।
