বিএনপি প্রতিটি বিষয়ে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, হাজার চেষ্টা করেন, ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না, দুর্বল আওয়ামী লীগ হতে পারবেন। গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতের উদ্যোগে ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধা জাতীয় সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদে সরকারি দল মুখে ঠিকই জুলাইয়ের কথা বলে, শহীদ হাদির কথাও বলে। কিন্তু আমরা সরকারি দলের কাছ থেকে তার উল্টোটা দেখতে পাই। তারা দুটি ভোটের একটা ৫১ শতাংশ মানেন- যা তাদের নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে, কিন্তু আরেকটি গণভোটের ৭০ শতাংশ মানেন না- যা শাসকগোষ্ঠীকে স্বৈরতন্ত্র হওয়া থেকে রক্ষা করবে, জাতিকে বৈষম্যমুক্ত করবে, সুশাসন কায়েম করবে এবং সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণকে দেয়ার জন্য। তাদের এই দ্বিচারিতা জাতির জন্য লজ্জার, দুঃখের। যেদিন ৭০ শতাংশ ভোটের রায় মানবে, সেদিন বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী পথ অনুসরণ করে যাচ্ছে, যে আওয়ামী লীগ জাতি ও বিরোধী দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ করতো এবং লাঠিয়াল দিয়ে কর্তৃত্ববাদ কায়েম করেছিল। আর বর্তমানে আফসোসের ব্যাপার হলো রাষ্ট্রের যেখানে যেখানে সংস্কার দরকার তার প্রত্যেকটি বিষয়ে বিরোধিতা করছে বিএনপি। এটি জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা।
অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে আইন বাস্তবায়ন হলে, অধ্যাদেশ পাস করলে রাষ্ট্র সংস্কার হবে- সেগুলো বিএনপি বাতিল করে দিচ্ছে। তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করার মধ্যদিয়ে ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করেছে।
জুলাই আবার ফিরে আসবে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তখন চূড়ান্তভাবে ফ্যাসিবাদ বিদায় হবে। সেই লড়াইয়ে জনগণের বিজয় হবে। আমরা সামনের সারিতে থেকে যুদ্ধ চালিয়ে যাবো। জনতার বিজয় হবে। আমরা আশাবাদী এ বাংলাদেশ পাল্টাবে। আমরা এই যুদ্ধে সংসদে এবং রাজপথে চলমান থাকবো।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, সরকার সুশাসন নিশ্চিত করতে পারছে না। তারা সামনে অনেক সমস্যায় পড়তে পারে। পেট্রোল-ডিজেলের কারণে দেশে দুর্ভিক্ষও হতে পারে। অর্থনীতি সামাল দেয়া যাবে না। জনগণের ওপর ট্যাক্স তিন-চারগুণ বৃদ্ধি পাবে। এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে। এর প্রতিফলনও প্রত্যেকের জীবনে ঘটবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের চাপে গণভোটে রাজি হলেও নির্বাচনের পর বিএনপি গণভোটকে অস্বীকার করা শুরু করেছে। কিন্তু তাদের জন্মই হয়েছিল গণভোটের মাধ্যমে। বিএনপি এখন তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করতে শুরু করেছে। তারা প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পথে হাঁটছে। পুরনো স্বৈরাচারের পথে তারা দেশকে এগিয়ে নিতে চাইলে জনগণ রুখে দাঁড়াবে। তরুণরা আবার রাস্তায় দাঁড়াতে বাধ্য হবে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে মাত্র দুই মাসের মধ্যে কোনো সরকার এতটা অজনপ্রিয় হয়েছিল কিনা সেই প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সরকার দুই মাসে যতটা অজনপ্রিয় হয়েছে, আমরা জানি না আগামী ছয় মাসে তার পরিণতি কী হবে, তার অবস্থান কী হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বিএনপি জুলাই শহীদদের কৃতিত্বকে খাটো করে দেখার চেষ্টা করছে। তারা এখন গণভোটের রায় নিয়ে টালবাহানা করছে। বিএনপি’র রাজনীতি এখন সুবিধাবাদী ও দ্বিচারিতার নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। দ্বিচারিতা করে তারা একবার গাং পার হতে পেরেছেন। ভবিষ্যতে তারা জাতির কাঠগড়ায় আসামি হিসেবে চিহ্নিত হবেন।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আমরা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আবার দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো। যেসব সাংবিধানিক কাঠামো ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার জন্য দায়ী, তার প্রত্যেকটি সংস্কারের জন্য যে প্রস্তাবনা, তাতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বিএনপি।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার কমিশন, গুম সংক্রান্ত কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশ ও গণভোট মানেন না। গায়ের জোরে তারা এসব বাতিল করে দিয়েছে। বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদী সরকার টিকতে পারেনি। জুলাই শহীদ পরিবার, জুলাই আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ও জুলাইযোদ্ধারা আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের পর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে আবার সমাবেশ করতে হবে, তা জুলাইযোদ্ধারা চিন্তা করেনি। সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। আমরা ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে জুলাই সনদের বাস্তবায়নের দাবি আদায় করেই ছাড়বো।
এ ছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, বিডিপি’র চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মুখলেসুর রহমান কাসেমি, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমীর সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি এডভোকেট জসিম, জুলাইয়ের শিশু শহীদ জাবির ইবরাহিমের মা রোকেয়া বেগম, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম।
সমাবেশের উদ্বোধনীতে বক্তব্য দেন জুলাইযোদ্ধা কামরুল হাসান। সমাবেশে জুলাই শহীদ পরিবার, আহত পঙ্গুত্ববরণকারী এবং জুলাইযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন- জুলাই শহীদ যুবায়ের খানের পিতা এডভোকেট শহিদুল ইসলাম খান, শহীদ আনাস ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম খান, হাত হারানো জুলাইযোদ্ধা তৌহিদ ফারাজী, জুলাই শহীদের পিতা জাকির হোসেন, শহীদের পিতা শেখ জামাল হোসাইন, শহীদের পিতা গাজিউর রহমান ও হাত হারানো জুলাইযোদ্ধা আতিউর ইসলাম প্রমুখ।
সমাবেশ অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ইয়াছিন আরাফাত।

Aminur Rahman
২ মাস আগেএকটা নির্বাচিত সরকারের বয়স মাত্র ২ মাস ৯ দিন আর এই অল্প সময়ের মধ্যে কোন সরকারের কাছে কোন জাদুর কাঠি নাই যে তারা পুর্ববর্তি স্বৈরাচারী সরকারের রেখে যাওয়া পাহাড় সমান সমস্য রাতারাতি সমাধান করে ফেলবে।জামাতের শুকরিয়া আদায় করা উচিৎ যে তারা ৬৮ টি আসন পেয়ে আজ বিরোধি দলের আসনে বসেছে। জামাতের এই আমির মহাশয় পাগলের মত আচেন শুরু করেছে কখনো সংসদে ওয়াকআউট করে আবার রাস্তায় মিছিল করে আর তাদের জেল ফেরত নেতা তো বলেছে BNPকে হঠাতে নাকি ১৭ দিন লাগবে। আপনাদের শরির থেকে রাজাকারের বদনাম টা মুছে যায় নাই তাই বলব নাটক না করে বাজে কথা না বলে একটি শক্তিশালি বিরোধি দলের ভুমিকা পালন করেন নাহলে রাস্তায় নেমে বিসৃংখলা করলে জনগন কিন্তু আপনাদের ছেড়ে দিবেনা। জনগন এখন আর কোন ঝামেলা সহ্য করবেনা মনে রাখবেন।