ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন করে আলোচনায় তামিম ইকবাল। তবে এবার ক্রিকেট নিয়ে নয়, নতুন গঠিত হতে যাওয়া সরকারের মন্ত্রিসভায় তার থাকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনের কারণে। যদিও তামিম স্পষ্ট করেছেন, মন্ত্রি হওয়ার কোনো প্রস্তাব তিনি পাননি। এটিকে স্রেফ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক এই অধিনায়ক। ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনের আগে দলটির কয়েকজন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন তামিম। দলটির বিপুল বিজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকটি তালিকা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাঁর নাম দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে পোস্ট দিয়ে সবকিছু খোলাসা করেন তিনি। এমন সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তামিম লেখেন, ‘সারা দিনে আমাকে ঘিরে মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা গুঞ্জন দেখতে পেয়েছি, যা পুরোপুরি মিথ্যা। এমন কোনো প্রস্তাব আমি পাইনি। এ ধরনের ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি।’
অন্যদিকে আলোচনা আছে নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে তামিম ক্রিকেট বোর্ডে পরিচালক হিসেবে আসতে পারেন। তবে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ডে তিনি কীভাবে আসবেন কিংবা আসার কোনো সুযোগ আছে কি না, সেটি আপাতত বলা মুশকিল। নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পর বিসিবি’র ভাগ্য কী হবে, সেটিও বেশ পরের বিষয়। কারণ নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দেওয়া আইনিভাবে খুব সহজ হবে না। তাই আপাতত তামিম ক্রিকেটের কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বে খুব দ্রুতই আসছেন- এটিও জল্পনা-কল্পনাই বলা চলে। অন্যদিকে সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক জাতীয় নির্বাচনে হেরে গেছেন। কিন্তু তাঁর টেকনোক্রেট কোটায় ক্রীড়ামন্ত্রী হওয়ার একটি গুঞ্জন ক্রীড়ামহলে রয়েছে। তবে ক্রীড়াঙ্গনে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনা ও প্রশ্ন কে হচ্ছেন দেশের খেলাধুলার পরবর্তী অভিভাবক? কয়েকটি সূত্রে সাবেক বিসিবি সভাপতি আলী আসগর লবি হতে পারেন ক্রীড়ামন্ত্রী। তার প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে আমিনুল হককে। সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীও আছেন আলোচনায়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তারকা ক্রিকেটারদের রাজনীতিতে জড়ানোর রেওয়াজ নতুন কিছু নয়। এর আগে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসান খেলোয়াড়ি জীবনেই রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছিলেন এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তামিম তাঁদের মতো সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নিলেও দলীয় প্রচারণায় থাকায় তার মন্ত্রী হওয়ার গুঞ্জনটি খুব দ্রুত ডালপালা মেলেছিল। ২০২৪ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের পর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে পূর্ণ ক্রীড়ামন্ত্রী করা হয়েছিল। অবশ্য ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এখন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেয়ার পালা; এরপরই গঠিত হবে নতুন মন্ত্রিপরিষদ। তবে ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার ঢেউ বয়ে যাচ্ছে সম্ভাব্য নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীকে নিয়ে। নতুন সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রালয়ের দায়িত্ব কে পাচ্ছেন, তা নিয়ে এখন জনমনে প্রবল কৌতূহল। এবারের নির্বাচনে বিএনপি থেকে বেশ ক’জন ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক নির্বাচিত হয়েছেন। আবার অভিজ্ঞ সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীও রয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে, খেলাধুলার নাড়িনক্ষত্র যারা চেনেন, তাদের মধ্য থেকে কেউ কি এই দায়িত্ব পাচ্ছেন?
নির্বাচনের আগে ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছিল জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও তারকা গোলরক্ষক আমিনুল হকের নাম। ঢাকা-১৬ আসন থেকে তিনি বিএনপির হয়ে নির্বাচন করেন। জোরালো গুঞ্জন ছিল, নির্বাচনে জয়ী হলে তাকেই ক্রীড়াঙ্গনের দায়িত্ব দেয়া হবে। কিন্তু তিনি তার আসনে শেষ পর্যন্ত জিততে পারেননি। অবশ্য হার মানতেও নারাজ তিনি; আমিনুল তার আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি তুলেছেন, যা ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে খেলাধুলার সঙ্গে অতীত ও বর্তমানে যারা জড়িত রয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই এবার সংসদের টিকিট পেয়েছেন। বিজয়ী তালিকায় রয়েছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মনিরুল হক চৌধুরী, আলী আসগার লবি, শরিফুল আলম, খায়রুল কবির খোকন, কামরুজ্জামান রতন, রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও ইশরাক হোসেনের মতো ব্যক্তিত্বরা। এদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং মাঠ পর্যায়ের ক্রীড়া রাজনীতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন। তাদের মধ্যে কেউ এই দায়িত্ব পেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
সাবেক দুই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নিতাই রায় ও মির্জা আব্বাসও জয়ী হয়েছেন। অভিজ্ঞতার বিচারে নিতাই রায়ের নাম বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। ক্রীড়াঙ্গনের মানুষজন চাইছেন এমন কেউ এই চেয়ারে আসুক, যিনি খেলোয়াড়দের দুঃখ-দুর্দশা অনুভব করবেন। তামিম বিএনপিকে সমর্থন করলেও তিনি সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেননি। অন্যদিকে আমিনুল হক নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় টেকনোক্রেট কোটা ছাড়া তার সরকারে আসার সরাসরি কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু দলের ভেতরেই যেহেতু অনেক অভিজ্ঞ ও বিজয়ী ক্রীড়াসংগঠক আছেন, তাই তাকে টেকনোক্রেট মন্ত্রী করার যৌক্তিকতা নিয়েও দলের ভেতরে নানা সমীকরণ রয়েছে। দেশের ক্রীড়া প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। পাপন দেশত্যাগের পর দেশের ক্রিকেট অভিভাবক সংকটে ভুগছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রথমে ফারুক আহমেদ ও পরে বুলবুল এ দায়িত্ব পেলেও তারা আস্থার প্রতীক হতে পারেননি। আইসিসি’র বিধিবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দেয়া জটিল প্রক্রিয়া হলেও নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিয়োগের পর আইনি পথ খোঁজা হবে। তামিম সরাসরি সরকারে না থাকলেও বিসিবি’র বোর্ডে তার অন্তর্ভুক্তি ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সাধারণ ভক্তরা।
সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন তামিম
ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের চাবি কার হাতে?
ইশতিয়াক পারভেজ
১৬ ফেব্রুয়ারি (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

Shohidul Islam
৪ মাস আগেআর যাই হোক তামিমকে ক্রিকেট বোর্ডে না আনাই ভালো হবে।
খেলা-ধুলা বোঝে, ক্রিয়া প্রশাসন চালানোর মতো দক্ষ লোকের বি এন পিতে অভাব নাই! এরকম ধরি মাছ না ছুই পানি কোয়ালিটির ব্যক্তিকে সুযোগ দিলে, আওয়ামী লীগের মতো পতন হতে জনপ্রিয়তা হারাতে সময় লাগবে না! ( দলে অনেক ত্যাগী ও যোগ্য লোক আছে);অনুগ্রহ করে নীতি নির্ধারক গন বিষয়টি বিবেচনা করবেন।