ট্রাম্পকে দুষছেন মার্কিনিরা

রয়টার্সের জরিপ

ট্রাম্পকে দুষছেন মার্কিনিরা

ফন্ট সাইজ:

গ্যাসের দাম বাড়ায় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে দুষছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা। ৭৭ ভাগ মার্কিনী মনে করেন গ্যাসের দাম বাড়ার জন্য ট্রাম্প দায়ী। এছাড়াও ৯০ ভাগ মার্কিনী মনে করেন ইরান যুদ্ধের কারনেই গ্যাসর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এ জরিপ রিপাবলিকানদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ওপর জনঅসন্তোষ দ্রুত বাড়ছে।

নতুন জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ আমেরিকান সরাসরি এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য তাকে দায়ী করছেন যা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৭৭ ভাগ নিবন্ধিত ভোটার মনে করেন, গ্যাসের দাম বাড়ার জন্য ট্রাম্প দায়ী। এই মত শুধু বিরোধী শিবিরে সীমাবদ্ধ নয়। রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও ৫৫ ভাগ একই মত দিয়েছেন। স্বাধীন ভোটারদের মধ্যে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৮২ ভাগ। রয়টার্সের নিবন্ধিত ৩৫৫৭ জন ভোটার ১৫-২০ এপ্রিল এই জরিপে অংশ নেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই জনমতের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক যুদ্ধ। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরাইল ইরানে আকস্মিক হামলা চালালে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা তেল অবকাঠামোতে আঘাত হানে। পাশাপাশি তারা হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে। এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ ব্যাহত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের ওপর। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম গড়ে প্রায় ৪ ডলার প্রতি গ্যালনে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ১ ডলার বেশি। এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে বড় চাপ তৈরি করছে। জরিপে দেখা গেছে, ৭৭ ভাগ আমেরিকান জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে উদ্ধেগজনক হিসেবে দেখছেন।

অর্থনৈতিক এই চাপ সরাসরি রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে। জরিপ অনুযায়ী, ৫৮ ভাগ ভোটার জানিয়েছেন যেসব প্রার্থী ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের নীতিকে সমর্থন করেন, তাদের প্রতি তারা কম সমর্থন দেবেন। এর ফলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে তাদের লক্ষ্য কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সেটি অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। এমনকি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিও বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অর্থনীতির প্রশ্নে ট্রাম্পের অবস্থানও এখন চাপের মুখে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়ী হয়েছিলেন। তিনি এখনো দাবি করেন যে মার্কিন অর্থনীতি ‘ব্লুমিং’ (উন্নত করছে)। কিন্তু জরিপে ৭০ ভাগ উত্তরদাতা এই দাবির সঙ্গে একমত নন। বরং ৮২ ভাগ মানুষ বলেছেন, মূল্যস্ফীতি তাদের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, অর্থনৈতিক ইস্যুতে রিপাবলিকান পার্টির দীর্ঘদিনের শক্ত অবস্থানও দুর্বল হয়ে পড়ছে। সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, ৩৮ ভাগ ভোটার অর্থনীতি পরিচালনায় রিপাবলিকানদের সমর্থন করেন, যেখানে ৩৭ ভাগ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। অর্থাৎ, দুই দলের ব্যবধান প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। অথচ ২০২৫ সালের শুরুতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সময় এই ব্যবধান ছিল প্রায় ১৪ ভাগ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ, জ্বালানির দাম এবং মূল্যস্ফীতির এই ত্রিমুখী চাপ রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন ভোটারদের বড় অংশ অর্থনৈতিক স্বস্তি প্রত্যাশা করছিল। সব মিলিয়ে, এই জরিপ একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে আন্তর্জাতিক সংঘাত, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপ, শুধু বৈদেশিক নীতির বিষয় নয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে।

Kazi

২ মাস আগে

মানসিক বিগাড় গ্রস্ত, ডাকাতি ছাড়া কিছুই যার মাথায় ঢুকে না।
কিভাবে ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নয়ন করে দ্রব্যমূল্য কমানো যায় তার ঘিলুতে ঢুকে না। ভেনেজুয়েলার তেল ডাকাতির পর ইরানের তেল ডাকাতি করতে গিয়েই বেদম মার খেল। সঙ্গে আরেক ডাকাত নেতিনইয়াহু। আমেরিকার জনগণ এখনও তাকে সরাতে পারে নি। যতদিন তাকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ না করবে দোষারোপ করে ফায়দা হবে না।

মন্তব্য করুন