তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি উভয়েরই এগিয়ে থাকার দাবি

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন

তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি উভয়েরই এগিয়ে থাকার দাবি

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটদানের হারকে বলা হচ্ছে অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন। ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসেও এই হার সর্বকালীন রেকর্ড করতে চলেছে বলে মনে করছেন নির্বাচনী বিশ্লেষকরা। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম দফার এই নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ভোট পড়েছে ৯২.৩৫ শতাংশ। পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রের একটি বুথে ভোট পড়েছে ৯৯.৬২ শতাংশ।

রেকর্ড ভোটদানের হারের অভিমুখ নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। এই বিপুল ভোটদানের হার কোন পক্ষকে নিশ্চিত জয়ের দিকে নিয়ে যাবে তা নিয়ে সকলেই দ্বিধায় রয়েছেন। অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি উভয় পক্ষই দাবি করেছে, তারা চালকের আসনে। তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, তারা সরকার গড়ার কাছাকাছি সংখ্যায় ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে শাসকদলের ‘ঘাঁটি’ বলে পরিচিত দক্ষিণবঙ্গে। সেই সংখ্যা যোগ হওয়ার পরে বিজেপি দুরমুশ হয়ে যাবে। অন্যদিকে বিজেপি দাবি করেছে, তারা একশ’র বেশি আসনে জিতে গেছে।

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি যদি মানুষের নাড়ি বুঝতে পারি, তবে আপনাদের বলি, আমরা ইতিমধ্যেই চালকের আসনে বসে আছি। এবার প্রত্যেকেই ভোট দিয়েছেন। কারণ, কেউ কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি ছিলেন না।

তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ও শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস কম করে ১২৫টি আসন পাবে। দুই নেতাই দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট শতাংশ এবং আসন দুই-ই বাড়বে।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির এই উল্লম্ফন বিজেপি’র প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৫২টি আসনের মধ্যে ১১০টির বেশি আসন পাবে বিজেপি। তার মতে, প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া রাজ্যে প্রবল। অনেকদিন পর বাড়ির মহিলারা নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছে। তারা সকলে দুর্নীতি থেকে মুক্তি চান। শাহ বলেন, ভোটদানের হার এত বেশি। এসব পর্যালোচনা করেই আমরা সংখ্যাটা বুঝতে পেরেছি। তবে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি ১২৫টি আসন পাবে বলে আশাবাদী। বিজেপি’র জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন প্রথম দফার ভোট নিয়ে এতটাই উৎসাহী যে, তিনি বলেছেন, তারা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসছেন। মোদি শুক্রবার এক জনসভায় বলেন, কয়েকটি জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস খাতাও খুলতে পারবে না। প্রথম দফা থেকে এটা নিশ্চিত। দ্বিতীয় দফায় এই রেকর্ডও ভেঙে দিতে হবে। তৃণমূলের হারে সিলমোহর লাগাতে হবে।

সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্রগুলোতে আগামী দিনের এনআরসি’র কথা ভেবে একজোট হয়ে সকলে ভোট দিয়েছেন বলে দাবি করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক সুনির্মল মাইতি। তিনি বলেন, তবে মুসলিমদের ভোট নানা সমীকরণে এবার বিভক্ত। তাই অন্যান্যবারের মতো সবটাই তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।
তৃণমূল কংগ্রেসের এক জ্যেষ্ঠ নেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা জানতাম বিপুল ভোট পড়বে। কারণ, এসআইআর করে যেমন মৃত এবং স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে, তেমনই বহু বৈধ নাগরিককেও ভোটের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে যাদের নাম রয়েছে, তারা চক্রান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। বিপুলসংখ্যক মহিলা ভোট দিয়েছেন। যে সমর্থন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই গিয়েছে।

নির্বাচনী পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করেন এমন এক গবেষক উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশও এবার ভোটের হার বৃদ্ধির একটা কারণ। এ ছাড়া ভোটার তালিকার সংশোধনের ফলে যে ১২ শতাংশ ভোটার অর্থাৎ ৮৩ লাখ ৮৬ হাজার ভোটার কমে গিয়েছে তার নিরিখে ভোটদানের শতাংশ বেড়েছে। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআরের পরে সব রাজ্যেই ভোটদানের প্রবণতা বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গও ব্যতিক্রম নয়। সকলের মধ্যে একটা ভীতি কাজ করেছে, ভোট না দিলে নাম কাটা যাবে। আর তাই বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রায় ৪০ লাখ পরিযায়ী শ্রমিক রাজ্যে ফিরে এসে ভোট দিয়েছেন।

নির্বাচনী বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, যেভাবে পুরুষদের ছাপিয়ে ৯২.৬৯ শতাংশ নারী এই দফার নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন তার একটা সুফল মমতার তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারেন। নারীদের জন্য বিভিন্ন খয়রাতি প্রকল্প এক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে বলে তৃণমূল কংগ্রেসপন্থিদেরও দাবি। অবশ্য অন্য একটি অংশের মতে, দক্ষিণবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কোন্দল, জনজাতি সমাজে ভাঙন, প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং সরকার বিরোধিতা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কাজ করবে।

বিজেপি’র পরিসংখ্যানবিদদের মতে, ২৫ শতাংশ মুসলিম ভোট এবং হিন্দু ভোটের ২০ শতাংশও যদি তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে যায় তাহলেও বিপুল সংখ্যক হিন্দু ভোট বিজেপি’র দিকে গিয়েছে বলে তাদের দাবি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন