বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি বলেছেন, সংস্কারের যে প্রস্তাবের ওপর গণভোট হয়েছে, তার পুরোটাই বাস্তবায়ন চাই। এর কোনো খণ্ডিত অংশ আমরা বাস্তবায়ন দেখতে চাই না। গতকাল দুপুরে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখোলা ঘাটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশটা তো সংসদ থেকেই পরিচালিত হবে ইনশাআল্লাহ। সংসদে একটা দল সরকারি দল হিসেবে আরেকটা বিরোধী দল হিসেবে থাকবে। সমাজে এক চাকায় কোনো গাড়ি চলে না মিনিমাম দুই চাকা লাগে। সরকারি দল যদি ইতিবাচক কার্যক্রম পরিচালনা করে আমাদের সহযোগিতা থাকবে। জনস্বার্থ বিঘ্নিত হলে আমরা তো জনগণের পক্ষে অবস্থান নেবো। আমাদের অবস্থান হবে ক্লিয়ারকার্র্ট। জামায়াত আমীর বলেন, আপনারা দেখেছেন নির্বাচনের সময় আমরা যে কথাগুলো বলেছি। এগুলো আমাদের মুখের কথা ছিল না- বুকের কথা। তিন শর্ত আমরা চাইবো সবাই মানুক। নাম্বার ওয়ান এই সোসাইটি আগাগোড়া দুর্নীতিগ্রস্ত, দুর্নীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। দুই নাম্বার হচ্ছে, বিচার বিভাগে বিচার বলতে কিছুই নাই। দেখেন না, এতগুলো ঋণখেলাপি কীভাবে (সংসদ নির্বাচনে) চান্স পায়। এদের হাতে কীভাবে দেশ নিরাপদ হবে, হবে না- তো। কারণ এরা তো সব সময় নিজের স্বার্থ দেখে। এই জায়গাটায় (সংসদে) এমন মানুষ যাওয়া দরকার যে নিজের স্বার্থ দেখবে না, ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থ দেখবে। ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থ দেখলে কেউ ঋণখেলাপি হয় না। ঋণখেলাপি হলে আবার কীভাবে নেতা হতে চায়। লজ্জিত হওয়া উচিত। জনগণের টাকা আমার পকেটে ঢুকে আছে আমি দিতে পারছি না। আমরা স্বাধীন বিচার বিভাগ চাই। কারও ওপর সামান্য অবিচার হলেই কিন্তু আমরা প্রতিবাদ করবো। এমনকি সরকারি দলের কারও ওপরও অবিচার হলে আমরা প্রতিবাদ করবো। অবিচার আমরা মেনে নেবো না কোনো অবস্থাতেই। সংসদে জামায়াতের বিরোধী দলের ভূমিকার বিষয়ে আমীর বলেন, সংসদ চলতে হলে তো সরকারি দল ও বিরোধী দল লাগবেই। সরকারি দল বিরোধী দল হাতে হাত রেখেই চলবে যদি দেশ সঠিক পথে চলে। যদি বেঠিক পথে চলে তাহলে ওই চাকা চালাবো না। জাতীয় পার্টির মতো বিরোধী দল হবেন কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় পার্টি তো এখন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে, এরা তো এখন ভূগোলে নাই। কেন না তারা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এখন তারা শুধু ভোটের জগৎ থেকে যান নাই, জনগণের মন থেকে উঠে গেছেন। এটা ওই কারণেই। কারণ তারা জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেন নাই। জামায়াতে ইসলামী ওই ভুল করবে না। জামায়াত আমীর রোববার সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার শিমুলবাঁক দক্ষিণহাটি এলাকায় জামায়াত সমর্থক সদ্য প্রয়াত শাহ আলমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এবং বেলা ১২টায় নিকলী উপজেলার ছাতিরচরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জামায়াত কর্মী আব্দুস ছালামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শাহ আলমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও স্মরণসভায় জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি কোনো ধনী পরিবারে জন্ম নেইনি। আল্লাহর রহমতে আমি একজন কৃষক পরিবারের সন্তান। তাই কৃষক-শ্রমিকদের সম্মান না করলে তা আমার বাবাকে অপমান করার শামিল। সাধারণ মানুষকে সম্মান করা আমার ঈমানী দায়িত্ব। কৃষক-শ্রমিকরা কঠোর পরিশ্রম করে হালাল রুজি উপার্জন করেন। তাদের ঘামের গন্ধ আমার কাছে আতরের মতো মনে হয়। অনেক সময় দেখি কেউ কেউ গরিব মানুষের সঙ্গে হাত মেলানোর পর আড়ালে গিয়ে হাত মুছে ফেলেন। কিন্তু আমি তাদের সেই ঘামকে সম্মানের চোখে দেখি, ভালোবাসার সঙ্গে গ্রহণ করি।’ জামায়াত আমীর বলেন, আমি দুই শ্রেণির মানুষের সান্নিধ্যে বিশেষ আনন্দ পাই। একদল হলো নিষ্পাপ শিশু, যাদের কাছে গেলে ফেরেশতার সান্নিধ্যে থাকার অনুভূতি হয়। আরেক দল হলো দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ, যারা রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের মুখে হালাল খাবার তুলে দেন। স্মরণসভায় তিনি শাহ আলমের পরিবারের দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমি যতদিন সংগঠনের দায়িত্বে আছি, ততদিন এই দায়িত্ব পালন করবো। ভবিষ্যতে যারা দায়িত্বে আসবেন, তারাও তা পালন করবেন বলে আশা রাখি।
এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. সামিউল হক ফারুকী, জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মো. রমজান আলী, কাপাসিয়ার নবনির্বাচিত এমপি সালাউদ্দিন আইয়ুবী, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি শামছুল আলম সেলিম, ঢাকা উত্তর মহানগর জামায়াতের মজলিসে শূরা সদস্য এডভোকেট রোকন রেজা শেখ, জেলা অমুসলিম সেক্রেটারি কৃষ্ণ চন্দ্র বণিক এবং জেলা-উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ৩রা ফেব্রুয়ারি কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। জনসভা শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ছাতিরচর গ্রামের জামায়াত কর্মী আব্দুস ছালাম নিহত হন। এ ছাড়া গত ৮ই ফেব্রুয়ারি ইটনা মিনি স্টেডিয়ামে আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনী সমাবেশে যাওয়ার পথে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে জামায়াত সমর্থক শাহ আলম (৫০) মারা যান।
সংস্কারের খণ্ডিত অংশ বাস্তবায়ন দেখতে চাই না: জামায়াত আমীর
স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে
১৬ ফেব্রুয়ারি (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
